প্রধানমন্ত্রীর বিচক্ষণতা

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক সংকট ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়। বাংলাদেশের জনগণের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তেলের মূল্যবৃদ্ধি করেননি। একইসঙ্গে দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেন প্রধানমন্ত্রী। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ যে বিরতির দিকে যাবে, সেটিও ধারণায় ছিল প্রধানমন্ত্রীর। তাই জনগণের দুর্ভোগ হ্রাসে তেল-সংক্রান্ত বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপে গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান- যা তার বিচক্ষণতারই দৃষ্টান্ত বলে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিশিষ্টজনরা।
জ্বালানি তেল সংকটের কারণ
ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও হরমুজ প্রণালিকেন্দ্রিক সংঘাতের কারণে তেল পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে, যা সরবরাহে বড় ঘাটতি তৈরি করেছে।
সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্যহীনতা
বৈশ্বিক চাহিদার তুলনায় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো (ওপেক প্লাস) সরবরাহ কম রাখছে।
ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা
যুদ্ধ বা উত্তেজনার কারণে তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।
মুদ্রাস্ফীতি
বিশ্বব্যাপী ডলারের বিপরীতে অন্যান্য মুদ্রার মান কমে যাওয়া এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণেও তেলের দাম বাড়ছে।
উচ্চ চাহিদা
বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল থাকায় তেল ও গ্যাসের চাহিদা বেড়ে গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপ
সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে যে সব পদক্ষেপ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
১. জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারি যানবাহনে তেল ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ।
২. অবৈধ মজুদদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও পাচার রোধে কঠোর মনিটরিং।
৩. বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখার প্রচেষ্টা অন্যতম।
৪. নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ: বিকল্প উৎস ও কূটনৈতিক ডিলিংয়ের মাধ্যমে তেল আমদানি অব্যাহত রাখা।
৫. শিল্প ও কৃষিতে অগ্রাধিকার: উৎপাদন খাত সচল রাখতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী নীতি।
৬. সামাজিক অনুষ্ঠান ও আলোকসজ্জায় নিষেধাজ্ঞা: বিয়ে বা উৎসবের অনুষ্ঠানে আলোকসজ্জা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
৭. বিদ্যুৎ ও গ্যাস ব্যবহারে কৃচ্ছ্রসাধন এবং অফিস সময়ে এসি ব্যবহার সীমিতকরণ।
৮. বিকল্প উৎসের সন্ধান: মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে বিকল্প হিসেবে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও কাজাখস্তান থেকে তেল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু। ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে অতিরিক্ত ডিজেল আমদানির উদ্যোগ।
৯. সরকারি কর্মকর্তাদের সব ধরনের বিদেশ ভ্রমণ ও অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ৫০ শতাংশ বন্ধ।
১০. জ্বালানি তেলের চোরাচালান ও মজুদদারদের ধরতে কঠোর অভিযানের নির্দেশ।
যে কোনো মূল্যে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাজারে আতঙ্ক ছড়াতে না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেন কোনোভাবেই যাতে জ্বালানি তেলের মজুদদারি না হয়, সে জন্য কঠোর নজরদারি চালাতে হবে। মোবাইল কোর্ট এ বিষয়ে তদারকি করেন। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মূলত মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুর থেকে জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ আসছে।
এপ্রিল ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়া থেকে ৫১ হাজার টন অকটেন ও ফার্নেস অয়েল এবং ৩৪ হাজার টন ডিজেল নিয়ে বেশ কয়েকটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের পথে রয়েছে বা পৌঁছেছে। এছাড়া এলপিজি ও এলএনজি আমদানিতে নাইজেরিয়ার নামও উঠে এসেছে।
প্রধান তেলবাহী জাহাজ ও উৎস
মালয়েশিয়া (প্রধান উৎস): এমটি সেন্ট্রাল স্টার (২৬ হাজার টন অকটেন), এমটি ইস্টার্ন কুইন্স (২৫ হাজার টন ফার্নেস অয়েল) এবং শান গ্যাং ফা জিয়ান (৩৪ হাজার টন ডিজেল) মালয়েশিয়া থেকে আসছে।
সিঙ্গাপুর: ইয়ান জিং হে নামের জাহাজটি সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার ৩০০ টন ডিজেল নিয়ে এসেছে।
অন্যান্য: এলপিজি ও এলএনজির জন্য নাইজেরিয়া ও চীন থেকে জাহাজ আসার তথ্য রয়েছে।
ভোরের আকাশ/নি