প্রবাসীদের জাপানি সংস্কৃতিকে সম্মান এবং দেশের সুনাম বজায় রাখার আহ্বান রাষ্ট্রদূতের

জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী বাংলাদেশ দূতাবাসের আউটরিচ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইশিকাওয়া প্রিফেকচারের কানাজাওয়া সিটি সফর করেছেন।
এ সফরে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি, কানাজাওয়া সিটির মেয়র এবং কানাজাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে অংশ নেন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) জাপানের বাংলাদেশ দূতাবাস এ তথ্য জানায়।
সফরের প্রথমদিন ২৩ আগস্ট রাষ্ট্রদূত কানাজাওয়ায় বসবাসরত প্রবাসীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভার অংশ নেন।
এ সময় তিনি প্রবাসীদের কল্যাণে দূতাবাসের নেওয়া নানা উদ্যোগ- যেমন চাহিদার ভিত্তিতে কনস্যুলার ক্যাম্প, সরকারি খরচে মৃত প্রবাসীদের মরদেহ দেশে পাঠানো, ব্যাংকিং চ্যানেলে টিউশন ফি পাঠানো, ভিসা জটিলতা দূর করা এবং সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
আলোচনাকালে তিনি প্রবাসীদের ‘বাংলাদেশের দূত’ হিসেবে উল্লেখ করে জাপানের আইন মেনে চলা, জাপানি সংস্কৃতিকে সম্মান করা এবং দেশের সুনাম বজায় রাখার আহ্বান জানান।
পাশাপাশি, তাদের ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার কার্ডের সুবিধা নেওয়ার এবং দূতাবাসের ফেসবুক পেজে নিয়মিত যুক্ত থাকার পরামর্শ দেন রাষ্ট্রদূত।
সফরের দ্বিতীয়দিন ২৪ আগস্ট রাষ্ট্রদূত কানাজাওয়া সিটির মেয়র তাকাশি মুরামায়ার সঙ্গে দেখা করেন।
বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক এবং কানাজাওয়া সিটি ও প্রিফেকচারে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় রাষ্ট্রদূত জানান, যে বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ৩.৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। সম্প্রতি স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের পোশাক, টেক্সটাইল, পাট ও চামড়াজাতসহ অন্যান্য পণ্য সহজে কানাজাওয়ায় আমদানি করা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়া, জাপানের অর্থনীতিকে সচল রাখতে বাংলাদেশের জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে দক্ষ জনশক্তি নিয়োগের ওপরও তিনি জোর দেন। বৈঠক শেষে তিনি কানাজাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বাংলাদেশি গবেষকের পরিচালিত ন্যানো পার্টিকেল ল্যাব পরিদর্শন করেন।
পরবর্তীতে রাষ্ট্রদূত কানাজাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ড. তাকাশি ওয়াদা এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. নোরিকো হাসেবের সাথে বৈঠকে অংশ নেন। প্রেসিডেন্ট কানাজাওয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার চমৎকার পরিবেশের কথা তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পরিশ্রম ও দক্ষতার প্রশংসা করেন।
এ সময় তিনি জানান, এমওইউয়ের অধীনে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তাদের ‘২+২’ মডেলের (দুই বছর বাংলাদেশে এবং দুই বছর জাপানে পড়াশোনা) কর্মসূচি চলমান রয়েছে এবং এটি সম্প্রসারণে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
জবাবে রাষ্ট্রদূত জানান, যে জাপানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সুযোগ বাড়াতে দূতাবাস এরই মধ্যে ৩০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করেছে।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব করেন, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত এপ্রিলের পরিবর্তে অক্টোবর মাসেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে জাপানি ভাষা শেখার সুযোগ পেতে পারেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট এ প্রস্তাবে সম্মতি জানান। শেষে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য জাপানে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া লিংকেজের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে তাদের অব্যাহত সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান।
ভোরের আকাশ/ইউএম