তথ্যের জগৎ এখন আর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নেই: তথ্যমন্ত্রী

বর্তমান যুগে তথ্যপ্রবাহকে আর কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আটকে রাখা বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির এই সময়ে সমন্বিত প্রয়াসের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে বড় ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রোববার (২৪ মে) সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে ‘নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন ও কর্মপরিকল্পনা’ বিষয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, এখনকার যুগের জনসংযোগ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ছাড়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তথ্য ক্যাডারে বর্তমানে তিন শতাধিক কর্মকর্তা আছেন। এই খাতে আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে হবে এবং আধুনিক জনসংযোগের দক্ষতাসম্পন্ন জনবল গড়ে তুলতে হবে। কারণ, আমরা চাই বা না চাই, বর্তমানে আমরা সবাই পারসেপশন ম্যানেজমেন্ট বা দৃষ্টিভঙ্গি ব্যবস্থাপনার একটি লড়াইয়ের মধ্যে আছি।
জনসংযোগ কর্মকর্তাদের মনস্তত্ত্ব বোঝার তাগিদ দিয়ে তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, জনমনস্তত্ত্ব বা ‘পাবলিক সাইকোগ্রাফি’ কীভাবে কাজ করে, সেটি জনসংযোগ কর্মকর্তাদের জানা অত্যন্ত জরুরি। সবাই ঐক্যবদ্ধ ও যৌথভাবে কাজ করলে সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে জনসংযোগকারীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্সের (এআই) সঠিক ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুল তথ্য (মিসইনফরমেশন) এবং অপতথ্য (ডিসইনফরমেশন) যাচাই বা ফ্যাক্ট চেক করার জন্য আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্সকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।
জনসংযোগ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি একটি ইশতেহার ঘোষণা করেছিল, সেটির ঠিকঠাক বাস্তবায়ন করতে হবে। মানুষের কাছে সরকারের ইতিবাচক কাজগুলো তুলে ধরা জনসংযোগ কর্মকর্তাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। আর সে জন্য সরকারের ইশতেহার সম্পর্কে তাদের পুরোপুরি ওয়াকিবহাল থাকা প্রয়োজন।
জনগণের কাছে সঠিক তথ্য সময়মতো পৌঁছে দিতে জনসংযোগ কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
ভোরের আকাশ/এসএইচ