গণহত্যা ও স্বাধীনতা দিবস ঘিরে র্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা

আগামী ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস ও ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদ্যাপন উপলক্ষ্যে দেশজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও জাতীয় প্যারেড স্কয়ারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ভিভিআইপি ও বিদেশি কূটনীতিকদের উপস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) র্যাবের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠাসমূহে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্যগণ, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, কূটনৈতিক মিশনের সদস্যবৃন্দ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবগ উপস্থিত থাকবেন। সার্বিকভাবে সব ধরণের ঝুঁকি পর্যালোচনা করে অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে উক্ত দিবসের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে র্যাব বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা করেছেন।
১. ২৫ মার্চ হতে ২৬ মার্চ পর্যন্ত যেকোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি রোধকল্পে ঢাকাসহ সারা দেশে পর্যাপ্ত সংখ্যক র্যাব সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে। এরইমধ্যে অগ্রীম পদক্ষেপ হিসেবে র্যাবের সাদা পোশাকধারী গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির মাধ্যমে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
২. ঢাকা মহানগরীসহ অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকা, বিভাগীয় শহর/জেলায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উপলক্ষে অনুষ্ঠিতব্য কুচকাওয়াজ, ডিসপ্লে, আলোচনা সভা, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও মেলা ইত্যাদি অনুষ্ঠানে গোয়েন্দা নজরদারিসহ সকল প্রকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
৩. নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্যগণ ও অন্যান্য সন্ত্রাসী যাতে গণহত্যা দিবস এবং মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসকে কেন্দ্র করে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে র্যাব তৎপর রয়েছে। একইসঙ্গে ভার্চুয়াল জগতে যেকোনো ধরণের গুজব/উস্কানিমূলক তথ্য/মিথ্যা তথ্য ছড়ানো প্রতিরোধে র্যাব সাইবার মনিটরিং টিম অনলাইনে সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রাখছে।
৪. সারা দেশে ভিভিআইপি/ভিআইপি/বিদেশি কূটনৈতিক মিশনের কর্মকর্তাসহ জনসমাগম হওয়ার সম্ভাব্য স্থানে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
৫. শহরের প্রবেশ/বাহির পথসমূহে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপনের করে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ এবং জাতীয় প্যারেড স্কয়ার এলাকার নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে র্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড প্রয়োজনীয় সুইপিং সম্পন্ন করবে।
৬. র্যাবের সকল ব্যাটালিয়ন সমূহ নিজ নিজ কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে তাদের অধিক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সমন্বয়পূর্বক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। র্যাব সদর দপ্তরের কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে ঢাকাসহ সারা দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গণহত্যা দিবস এবং মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সকলের সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য। এছাড়া উক্ত সময়ে যেকোনো বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে জেলা/মেট্রোপলিটন এলাকা/থানাভিত্তিক স্থানীয় র্যাবের সহযোগিতা পেতে টহল ইনচার্জ অথবা দায়িত্বপ্রাপ্ত র্যাব ব্যাটালিয়ন অধিনায়ককে অবহিত করণসহ র্যাবকে জানানোর জন্য সর্বসাধারণকে অনুরোধ করা হলো।
ভোরের আকাশ/এসএইচ