মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতিকে সবাই সম্মান জানাবে, আশায় বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে সবপক্ষ এর প্রতি সম্মান জানাবে বলে আশা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার।
বুধবার এক বিবৃতিতে এই প্রতিক্রিয়া জানিয়ে যুদ্ধবিরতিকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজে লাগানোর তাগিদ দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, “মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে সামরিক যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানাচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, এই অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমনের ক্ষেত্রে এটি একটি আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি।
“বাংলাদেশ আশা করছে, জড়িত সবপক্ষ এই যুদ্ধবিরতিকে সম্মান জানাবে এবং স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের জন্য এই সুযোগকে গঠনমূলকভাবে কাজে লাগাবে এবং এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থাযী শান্তি পুনরুদ্ধার করবে।”
যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রে কূটনৈতিক তৎপরতায় জড়িত সবপক্ষকেও সাধুবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, “সব সংঘাত যে কেবল সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধান হতে পারে এবং হওয়া উচিত, সে অবস্থান আবারও পুনর্ব্যক্ত করছে বাংলাদেশ।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা করে বসলে উত্তেজনার সূচনা হয়। ইরানও এর জবাবে ইসরায়েল এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালালে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে।
যুদ্ধের মধ্যে ইরান জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল তেল-গ্যাসের সংকটে পড়ে যায়।
ওই প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে মঙ্গলবার রাত ৮টা (পূর্বাঞ্চলীয় সময়) পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সমঝোতায় না এলে পুরো পারস্য সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওই সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগে সমঝোতায় পৌঁছায় দুই পক্ষ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার শর্তে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছেন তিনি।
এই যুদ্ধের মধ্যে গত পাঁচ সপ্তাহে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে অন্তত ৩৪০০ মানুষের প্রাণ গেছে। বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরবে পাঁচজন বাংলাদেশিও নিহত হয়েছেন।
ভোরের আকাশ/এনএস