শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বাঘ বাঁচলে বাঁচবে সুন্দরবন: বিশ্ব বাঘ দিবসে সংরক্ষণের বার্তা

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

আজ ২৯ জুলাই, বিশ্ব বাঘ দিবস। জলবায়ু পরিবর্তন, আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া, খাদ্যসংকট ও চোরা শিকারিদের হুমকির মধ্যেও সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার সংরক্ষণে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতির তথ্য জানিয়েছে বন বিভাগ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেকসই উদ্যোগ অব্যাহত না থাকলে এই অগ্রগতি ধরে রাখা কঠিন হবে।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সর্বশেষ শুমারিতে সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৫টি। ২০১৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১০৬টি এবং ২০১৮ সালে ছিল ১১৪টি। ধারাবাহিক এই বৃদ্ধি সংরক্ষণ কার্যক্রমের ইতিবাচক ফল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণ শুধু একটি বিপন্ন প্রাণীকে রক্ষা করা নয়; বরং পুরো ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল, জীববৈচিত্র্য এবং উপকূলীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার সঙ্গে এটি সরাসরি সম্পৃক্ত।

বর্তমানে স্মার্ট পেট্রোলিং, ক্যামেরা ট্র্যাপ, ড্রোন নজরদারি এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণের ফলে বাঘ হত্যা ও মানুষ-বাঘ সংঘাত উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, চোরা শিকার ও পাচার এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

বাংলাদেশে বাঘ সংরক্ষণে প্রথম বড় উদ্যোগ নেওয়া হয় ১৯৭৩ সালে, যখন সুন্দরবনে বাঘ শিকার নিষিদ্ধ করা হয়। পরে ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে বাঘ শিকার, হত্যা ও পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত করা হয়।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত আড়াই দশকে পূর্ব সুন্দরবনে অন্তত ৯১টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চোরা শিকারিদের হাতে ২৬টি, বনদস্যুদের হাতে ১৮টি, গ্রামবাসীর পিটুনিতে ১৪টি, বার্ধক্যে ২১টি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে তিনটি বাঘ মারা যায়। একই সময়ে বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪২৫ জন বনজীবী।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ। ২০২৪ সালের পর থেকে সুন্দরবনে বাঘ হত্যা বা অস্বাভাবিক মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি।

চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জে শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়া একটি পূর্ণবয়স্ক বাঘিনীকে উদ্ধার করে প্রায় ছয় মাস চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে গত ১২ জুলাই তাকে পুনরায় সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়। বাঘিনীর চলাচল পর্যবেক্ষণে বনাঞ্চলের প্রায় আট কিলোমিটার এলাকায় ২০টি স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

এদিকে বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে সম্প্রতি পূর্ব সুন্দরবনে দুই দফায় রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দেখা মিলেছে। গত ২৪ জুলাই চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র এলাকায় একটি বাঘিনীকে দেখা যায়। পরে ২৬ জুলাই শরণখোলা রেঞ্জের কচিখালী টাইগার পয়েন্ট এলাকায় নদী সাঁতরাতে দেখা যায় আরেকটি বাঘটিকে। বন বিভাগের টহল বোটের শব্দ পেয়ে সেটি আবার জঙ্গলের দিকে ফিরে যায়।

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, নদী-খাল পেরিয়ে সাঁতার কেটে চলাচল করা বাঘের স্বাভাবিক আচরণের অংশ। তবে এত কাছ থেকে এমন দৃশ্য খুব কমই দেখা যায়।

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, সরকার বাঘ সংরক্ষণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। স্মার্ট পেট্রোলিং, ক্যামেরা ট্র্যাপ, বন অপরাধ দমন এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণের ফলে মানুষ-বাঘ সংঘাত কমেছে। সম্প্রতি ক্যামেরা ট্র্যাপে নতুন তিনটি বাঘের ছবিও ধরা পড়েছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে সুন্দরবনে তিন মাসের প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকায় বনাঞ্চল অনেকটাই মানব কোলাহলমুক্ত। ফলে বাঘসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী স্বাভাবিক পরিবেশে বিচরণ করতে পারছে এবং বন অপরাধও কমেছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. এম. এ. আজিজ বলেন, শুধু আইন করলেই হবে না, বাঘ সংরক্ষণে তাদের প্রধান খাদ্য হরিণের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন জরুরি।

ভোরের আকাশ/জেআ

বিশ্ব বাঘ দিবসসুন্দরবনবন বিভাগ

শেয়ার করুন: