৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে দীর্ঘসূত্রিতা, অনিশ্চয়তায় ১,৩১৮ প্রার্থী

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) ২০২১ সালের ৩০ নভেম্বর ৪৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। মোট ১,৭১০টি শূন্যপদের বিপরীতে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ নেন ৩,৫০,৭১৬ জন, উত্তীর্ণ হন ১৫,৭০৮ জন। দেড় বছর পর প্রকাশিত লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ১১,৭৩২ জন। প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিকসহ সব ধাপ শেষে গত ৩০ জুলাই ১,৬৯০ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে সাময়িকভাবে সুপারিশ করে বিপিএসসি।
তবে ফলাফলে দেখা যায়, সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে ৩৭২ জন পূর্বে একই বা সমতুল্য ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন (রিপিট ক্যাডার)। বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী ফলাফল প্রকাশের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। গণমাধ্যমে সমালোচনা ও প্রার্থীদের দাবির পর মানবিক বিবেচনায় রিপিট ক্যাডারদের বাদ দিয়ে মেধাক্রম অনুযায়ী নতুন প্রার্থী সুপারিশের সিদ্ধান্ত নেয় বিপিএসসি।
কিন্তু ফলাফল প্রকাশের দেড় মাস পরেও বিধি সংশোধনের জটিলতায় ভুগছেন রিপিট ক্যাডারবিহীন ১,৩১৮ জন প্রার্থী। নিয়োগপত্র না পাওয়ায় তারা অযথা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এ অবস্থায় বিপিএসসির ৪৮ ও ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে, যা ৪৪তম বিসিএসে প্রথমবার সুপারিশপ্রাপ্তদের হতাশা বাড়িয়েছে।
প্রার্থীদের দাবি, রিপিট ক্যাডারের বাইরে থাকা এবং যোগদানে আগ্রহী ১,৩১৮ জনের তালিকা দ্রুত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হোক। পরবর্তীতে বিধি সংশোধন শেষে অবশিষ্ট ৩৭২টি পদে নতুন সুপারিশ দেওয়া যেতে পারে। তবে বিপিএসসি চেয়ারম্যানের অনড় অবস্থান—বিধি সংশোধন শেষ না হলে সকল প্রার্থীর তালিকা একসঙ্গে পাঠানো হবে।
জানা গেছে, রিপিট ক্যাডারদের পূর্ববর্তী নিয়োগপদ ও যোগদানের ইচ্ছা সম্পর্কিত তথ্য বিপিএসসি ইতোমধ্যে সংগ্রহ করেছে। ফলে পুনঃফলাফল প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ হলেও এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। সাধারণত চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পরপরই প্রার্থীদের ফাইল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়, কিন্তু এবার তা হয়নি, যা ৪৪তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।
ভোরের আকাশ/হ,র