সেপ্টেম্বরে মুহুরী-কহুয়া বাঁধ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেছেন, ফেনীর মুহুরি-কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন বলে জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সাড়ে ১২টায় ‘ফেনী জেলাধীন পরশুরামের মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন ১ম পর্যায়’ শীর্ষক প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় এই এলাকার অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেশী দেশ ভারত বাঁধ খুলে দিলে প্লাবিত হতে থাকে, এতে আমাদের এ অঞ্চল চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তিনি বলেন, এ এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি, স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করে দেওয়া। স্থায়ীভাবে বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য দেড় হাজার কোটি টাকার প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুমোদন দিয়েছেন।
মন্ত্রী বলেন, নদী ভাঙনের ফলে প্রতি বছর ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা বিলীন হচ্ছে। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হলে নদীভাঙন থেকে হাজারো মানুষ রক্ষা পাবে এবং এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
চৌধুরী এ্যানী বলেন, ২০০১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া বেড়িবাধ কাজ উদ্বোধন করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় স্থায়ী বণ্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প শুরু করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি রেহনা আক্তার রানু, ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক, পুলিশ সুপার প্রত্যুশ কুমার মজুমদার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম, বিএনপির কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব, ফেনী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার, সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আললসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতরা।
উল্লেখ্য, ৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ফেনীর মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পটি গত ১৬ জুন একনেক (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি) সভায় অনুমোদন লাভ করে। ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার এ মেগা প্রকল্পটি নদী তীরবর্তী অঞ্চলে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও পুনর্বাসনে কাজ করবে। ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, প্রায় ৬৮ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, নদী তীর প্রতিরক্ষা কাজ এবং সেচ অবকাঠামো সংস্কার করা হবে।
ভোরের আকাশ/জেআ