অনিয়মমুক্ত সার ডিলার নিয়োগের প্রতিশ্রুতি আইনমন্ত্রীর

সার ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে ঝিনাইদহে প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) নবনির্মিত অ্যাকাডেমিক-কাম-প্রশাসনিক ভবনের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফলক উন্মোচনের পর তিনি এ কথা জানান।
চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪)-এর আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), ঝিনাইদহ কর্তৃক বাস্তবায়িত এই বহুতল ভবনটিতে আধুনিক ক্লাসরুম, কনফারেন্স রুম, ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একটি উন্নত জাতি গঠনে যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষকের বিকল্প নেই। এই আধুনিক সুবিধাসংবলিত ভবনটি শিক্ষক প্রশিক্ষণের মানোন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে শিক্ষকরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও যোগ্য ও দক্ষ করে গড়ে তুলবেন।
পরে স্থানীয় রাজনীতি, সার বণ্টন ও সার্বিক বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন মন্ত্রী।
বিরোধী দলের সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিরোধী দলের কাজই হচ্ছে সবকিছুর বিরোধিতা করা। সরকার যাই করতে যাক না কেন, বিরোধিতা করাই তাদের প্রধান কাজ।
সার বিতরণ ও ডিলার নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তারা তাদের ন্যায্য পাওনা পাবেন। নিয়োগের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি আইনি নিয়ম মেনে পরিচালিত হচ্ছে এবং অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে পুরো কাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আইনগত কোনো বাধা নেই। তিনি বলেন, আগে যেভাবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতেন, এখন পর্যন্ত সেইভাবেই তারা অংশ নিতে পারবেন। সরকার একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠানে আশাবাদী। এ নিয়ে দেশবাসীকে সরকারের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, কেউ যদি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করে থাকে, তবে সে বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। এখানে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
অনুষ্ঠান শেষে আইনমন্ত্রী নবনির্মিত ভবনের বিভিন্ন কক্ষ ও পরিদর্শনের মাধ্যমে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ঘুরে দেখেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। অন্যান্যের মধ্যে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, এলজিইডির ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলী, পিটিআই-এর শিক্ষক-কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বিভিন্ন স্তরের নেতারা।
এর আগে সকালে আইনমন্ত্রী ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন। সেখানে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, স্বাস্থ্যবিভাগ ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ভোরের আকাশ/জেআ