আগামী সরকারের জন্য ৭ দফা ‘পরিবেশ অ্যাজেন্ডা’ দিলেন রিজওয়ানা হাসান

স্বাধীনতার ৫৪ বছরে গড়ে ওঠা অব্যবস্থাপনা, দূষণ ও পরিবেশগত সংকট দেড় বছরের অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে পুরোপুরি সমাধান করা বাস্তবসম্মত নয়—এ কথা জানিয়ে আগামী নির্বাচিত সরকারের জন্য সাত দফা একটি সুসংহত ‘পরিবেশ অ্যাজেন্ডা’ তুলে ধরেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, সমস্যার পাহাড় রাতারাতি সরানো সম্ভব নয়, তবে বর্তমান সরকার একটি স্বচ্ছ ও কাঠামোগত সমাধান প্রক্রিয়ার ভিত্তি তৈরি করছে, যা এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব থাকবে ভবিষ্যৎ সরকারের ওপর।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, দীর্ঘদিনের জমে থাকা পরিবেশগত সমস্যার পাহাড় রাতারাতি সরানো সম্ভব নয়। চীন যে সংকট ১০ বছরে সমাধান করতে পারে না, তা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দেড় বছরে প্রত্যাশা করা যুক্তিযুক্ত নয়। তবে বাস্তবতা স্বীকার করলেও দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এখন সবচেয়ে জরুরি হলো বাস্তবভিত্তিক অগ্রাধিকার নির্ধারণ ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার।
নির্বাচনি ইশতেহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে ভালো কথার অভাব নেই, কিন্তু বড় ঘাটতি রয়েছে বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট রোডম্যাপে। ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দেওয়া সহজ কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি কীভাবে বাস্তবে রূপ পাবে, তা পরিষ্কার না হলে জনগণ কোনো সুফল পায় না। উদাহরণ হিসেবে তিনি গত চারটি নির্বাচনে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে একাধিকবার অঙ্গীকার করা হলেও বাস্তবে তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে উল্লেখ করেন।
বুড়িগঙ্গা নদীর নিচে ৫ থেকে ৭ মিটার পলিথিন স্তরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাভারকে ডিগ্রেডেড এয়ারশেড ঘোষণা করা হয়েছে এবং অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। পলিথিনমুক্ত পরিবেশ গড়তে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, জনগণকেও নিজের আচরণ পরিবর্তন করতে হবে।
পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে সহযোগিতা করা হবে, কিন্তু পরিবেশের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। বর্তমান অর্ন্তর্বতী সরকার যে পরিবেশগত ভিত্তি তৈরি করছে, আগামী সরকার তা আরও শক্তিশালী করবে এবং পরিবেশকে উন্নয়নের প্রান্তিক বিষয় নয়, রাষ্ট্রের মূল নীতিগত অ্যাজেন্ডায় পরিণত করবে।
তিনি আগামী সরকারের জন্য তার তুলে ধরা সাত দফা পরিবেশ অ্যাজেন্ডা হলো-
১. বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ: ইটের বিকল্প হিসেবে ব্লকের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং যানবাহনের জ্বালানি মান ইউরো-৪ থেকে ইউরো-৬ এ উন্নীত করে বায়ুমান উন্নয়ন।
২. শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ: পুলিশ সার্জেন্টদের সরাসরি জরিমানা করার ক্ষমতা দিয়ে নতুন বিধিমালা কার্যকর করে হর্ন ব্যবহারের সংস্কৃতি পরিবর্তন।
৩. বন পুনরুদ্ধার: দখলকৃত বনভূমি উদ্ধার এবং বন সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী প্রাকৃতিক বন অন্য কাজে ব্যবহার বন্ধ রাখা।
৪. বন্যপ্রাণী কল্যাণ: বন্যপ্রাণী ও বননির্ভর জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ।
৫. শিল্প দূষণ রোধ: অনলাইন মনিটরিংয়ের মাধ্যমে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ।
৬. আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা: তিস্তা ও পদ্মা ব্যারেজসহ বড় প্রকল্পগুলোর ফিজিবিলিটি ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা।
৭. বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: বিভাগীয় শহরগুলোতে উৎসস্থলে বর্জ্য পৃথকীকরণ এবং রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে সার উৎপাদনের উদ্যোগ।
ভোরের আকাশ/এসএইচ