আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, ফ্যাসিস্টদের ক্লাব: শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান আওয়ামী লীগকে "ফ্যাসিস্টদের একটা ক্লাব" হিসেবে অভিহিত করে দলটির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়। এটা ফ্যাসিস্টদের একটা ক্লাব।’
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইডিইবি) মাল্টিপারপাস হলে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ‘২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান।
আওয়ামী লীগের ক্ষমতা থেকে বিদায়ের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, ‘আওয়ামী লীগ তার জীবনে কখনো স্বাভাবিকভাবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে পারেনি। সব সময় লাঞ্ছিত হয়ে, অপমানিত হয়ে, বিকৃত হয়ে বিদায় নিয়েছে।’
ভবিষ্যতে কেউ একই পথ অনুসরণ করলে তাদের পরিণতিও একইরকম হবে বলে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘সেই রাস্তা এখনো যদি কেউ অবলম্বন করতে চান, তাদের পরিণতি নিশ্চয়ই ভিন্ন হবে না। একই পরিণতি হবে।’
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, মানুষ ফ্যাসিবাদের পরিবর্তন চায় বলেই পরিবর্তনের পক্ষে গণভোটে রায় দিয়েছে। তবে সেই রায়কে শুধু সংবিধানে সংশোধন বা ঘষামাজার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার জন্য দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, ‘গণভোটের রায় দিয়েছে রাজনীতির পরিবর্তনের জন্য। যে রাজনীতি হবে দেশ ও জনগণের কল্যাণে, যে রাজনীতি আর কাউকে ফ্যাসিবাদী হওয়ার কোনো ধরনের সুযোগ দেবে না, সেই পরিবর্তনটাই মানুষ চেয়েছে।’
সরকারের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, দীর্ঘদিন ফ্যাসিবাদের যন্ত্রণা ভোগ করার পরও যারা এখন ক্ষমতায় আছেন, তারা সেই অভিজ্ঞতা ভুলে গেছেন। তিনি বলেন, ‘বন্ধুরা, ভুলে গেলে লাভ হবে না।’
জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো অনুরোধ করব, ফিরে আসুন, ফিরে আসুন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করুন।’
সরকার এই প্রত্যাশা পূরণ না করলে জামায়াত অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, ‘অতীতেও আমরা কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করিনি, এখনো করব না। লড়ে যাব জনগণের জন্য, ন্যায়-ইনসাফের জন্য, মানবিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য এবং সকল হত্যাকাণ্ডের খুনিদের বিচারের আওতায় আনার জন্য।’
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে লগি-বৈঠা নিয়ে হামলা ও হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, ওই ঘটনায় জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
তার অভিযোগ, ওই দিনের হত্যাকাণ্ডের পর মামলা হলেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে মামলার নথিপত্র গায়েব করে এবং মামলা প্রত্যাহার করে নেয়।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা চাপিয়ে দেওয়া কোনো বিচার চাই না। অন্যায়ভাবে কাউকে ফাঁসি দেওয়া তো দূরের কথা, তার একটা লোম ধরে টান দেওয়া হোক—তাও আমরা চাই না। আমরা নিশ্চিত, ন্যায়বিচার হলে প্রত্যেক অপরাধীর ফাঁসি হবে।’
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে এবং বিশেষ করে জুলাইয়ে যারা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ রাখতে হবে। তাদের রক্তের ঋণ পরিশোধে কোনো আপস করা হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাজনীতির নামে সন্ত্রাস ও হত্যাকাণ্ডের অবসান ঘটিয়ে মানবিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশে যারা রাজনীতি করবেন, তাদের জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে।
ভোরের আকাশ/আ.র