প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ৭ নভেম্বর গ্রাম পুলিশদের মহাসমাবেশ

আগামী ৭ নভেম্বর ২০২৬ রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সারা দেশ থেকে আসা প্রায় ৪৭ হাজার গ্রাম পুলিশকে নিয়ে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। স্থানীয় সরকার বিভাগের ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রসংলগ্ন মাঠে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মহাসমাবেশ সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে আজ সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলনকক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাঃ আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং দেশের ৬৪ জেলার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালকেরা (ডিডিএলজি) উপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সরকারি উদ্যোগে সারা দেশের প্রায় ৪৭ হাজার গ্রাম পুলিশকে সম্মান জানাতে এবং তাঁদের কথা সরাসরি শুনতে এ মহাসমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে। এর আগে গ্রাম পুলিশ নিজস্ব অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরলেও এবার প্রধানমন্ত্রী সরাসরি তৃণমূল পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত কর্মীদের মতামত ও দাবি শুনতে চান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্রাম পুলিশ আইনি কাঠামোর অধীনে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থা। তাঁদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ ও আইনি ক্ষমতা জোরদার করার লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ের উপপরিচালকদের আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব সুপারিশের ভিত্তিতে একটি সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। পরবর্তী সময়ে মহাসমাবেশে এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকার ও স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক, সিভিল প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত প্রতিটি নির্বাচনে সব প্রার্থী সমান সুযোগ পান।
দীর্ঘদিন পর দেশের মানুষ যেন গ্রামে গ্রামে আনন্দমুখর পরিবেশে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে পরিবেশ তৈরিতে নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে সরকার। নির্বাচন ঘিরে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কলঙ্কের দায় সরকার নেবে না বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
দেশব্যাপী ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রধান দায়িত্ব হলো ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি। এ লক্ষ্যে আগামীকাল থেকে উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাপক পরিসরে মাইকিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সমন্বিত অভিযান শুরু হবে।
তিনি জানান, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করতে আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতি শনিবার উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে বিশেষ মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হবে। এসব কর্মসূচিতে বিএনসিসি, স্কাউটস, রোভার স্কাউটস, গার্ল গাইডস, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেবেন।
ভোরের আকাশ/জেআ