বল প্রয়োগে হকার উচ্ছেদ
পুনর্বাসন ছাড়া সমাধান নয় : হকার্স ইউনিয়ন

পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ বন্ধের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়ন জানিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ঢাকাসহ সারাদেশে ফুটপাতের হকারদের বিরুদ্ধে চলছে কঠোর উচ্ছেদ অভিযান। সংগঠনটির অভিযোগ, উচ্ছেদের নামে নিয়মিতভাবে তাদের মালামাল ভাঙচুর, নষ্ট ও লুটপাট করা হচ্ছে।
তারা বলেন, এই অভিযানের কারণে হাজার হাজার স্বল্প পুঁজির হকার জীবিকার উপকরণ হারিয়ে কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তা ও অনাহারের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে “দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া” হকাররা বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেন তারা। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের আয়োজিত এক সমাবেশে এসব কথা বলেন হকার নেতারা।
সমাবেশে তারা বলেন, হকারদের জীবন-জীবিকা রক্ষায় দ্রুত ‘জীবিকা সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন করতে হবে। একই সঙ্গে তারা দাবি জানান, কর্মসংস্থান সংকটের মধ্যে শহরকে চাকচিক্যময় উন্নয়নের নামে শ্রমজীবী মানুষের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। হকার নেতারা অভিযোগ করেন, সিটি কর্পোরেশন ও প্রশাসনের অভিযান অনেক ক্ষেত্রে বলপ্রয়োগ ও হয়রানিমূলক রূপ নিয়েছে। তারা বলেন, উন্নয়নের নামে গরিব মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর আঘাত করা হচ্ছে, যা সমাজে অসাম্য আরও বাড়াচ্ছে।
তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান ১০ দফা দাবির ভিত্তিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে—পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ বন্ধ, জীবিকা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, হকারদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অর্থনৈতিক অবদান স্বীকৃতি দেওয়া, চাঁদাবাজি বন্ধ করে নিয়মতান্ত্রিক রাজস্ব ব্যবস্থা চালু করা এবং হকারদের ওপর মামলা-গ্রেপ্তার ও নির্যাতন বন্ধ করা। এছাড়া তারা প্রকৃত হকারদের তালিকা প্রণয়ন, সরকারি দখলকৃত জায়গা পুনরুদ্ধার করে হকারদের জন্য বরাদ্দ, ৫ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ, জাতীয় বাজেটে হকারদের জন্য বরাদ্দ এবং হকার মার্কেটগুলোতে প্রকৃত হকারদের নামে দোকান বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানান।
সমাবেশে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল হাশিম কবির, সাধারণ সম্পাদক হযরত আলীসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত হকাররা অংশ নেন।
ভোরের আকাশ/সু.পা