শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

দাতা-গ্রহীতা নয়, বাংলাদেশকে কৌশলগত অংশীদারের নতুন দৃষ্টিতে দেখে ইইউ: রাষ্ট্রদূত

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ৫:১৬ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

পুরোনো দাতা-গ্রহীতার দৃষ্টি থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারের নতুন দৃষ্টিতে দেখার কথা বলেছেন ঢাকায় জোটের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।

মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ আয়োজিত ‘মিট দ্য অ্যাম্বাসেডর’ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

মাইকেল মিলার বলেন, “আমরা সম্পর্ককে শুধুমাত্র পুরোনা দৃষ্টিতে দেখছি না। আমরা আসলে সম্পর্কটাকে নতুন দৃষ্টিতে দেখছি। ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্ব আছে, বাংলাদেশকে এমন অংশীদার হিসেবে দেখছি আমরা এবং আমি নিশ্চিত আপনারা সেভাবে ভাবেন।”

সেই নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে ইইউ সম্পর্ককে কীভাবে এগিয়ে নিতে চাইছে, তার পথরেখা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, “আমাদের আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে, খুব সাধারণ কিন্তু মৌলিকভাবে খুবই শক্তিশালী চিন্তাভাবনার ওপর ভিত্তি করে সম্পর্ক গড়া। সেটা হচ্ছে, বাংলাদেশের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে সমতার অংশীদারত্ব আমরা গড়তে পারি এবং সেটাই গড়া উচিত।”

বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা আপনাদের সামর্থ্যের স্বীকৃতি দিই। আমরা স্বীকার করি আপনাদের চ্যালেঞ্জ। আমাদের সবারই চ্যালেঞ্জ আছে।”

মাইকেল মিলার বলেন, ইইউ কেবল পণ্যের বাজার বা উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে নয়, বরং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বিনিয়োগ ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের আধুনিকায়ন ও রপ্তানির বহুমুখীকরণে বিনিয়োগ করতে ইইউ প্রস্তুত।

মূলত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যের মতো অরাজনৈতিক বিষয় দিয়ে শুরু হলেও এখন ইইউ-বাংলাদেশ সম্পর্ক অনেক বেশি রাজনৈতিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, “আমরা দেখছি বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনের পরে এখনো এটা অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। তবে, আপনাদের সুযোগ এখানে আছে।

“গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালীকরণ, মৌলিক অধিকার সমুন্নত রাখা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা জোরদার এবং অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য পরিবেশ তৈরির জন্য যেসব সংস্কার, সেগুলোতে সহযোগিতার বিষয়ে ইইউ’র অবস্থান পরিষ্কার। যেসব সংস্কার আকাঙ্ক্ষা জনগণ ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আস্থা তৈরি করে এবং মুক্তপথ, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধিকে তুলে ধরে, সেগুলোকে আমরা সমর্থন করি।”

তবে, সংস্কার খুব সহজে ও দ্রুত হয়ে যায় না মন্তব্য করে মাইকেল মিলার বলেন, “সম্ভবত চব্বিশের অগাস্টের পর জনগণের একটা অংশের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছিল, পরিবর্তন খুবই দ্রুতই হয়ে যাবে। তবে, ইউরোপের সংস্কার ইস্যুতে আমার কয়েক দশকের কাজের অভিজ্ঞতা এমন নয়।

“এটাতে সময় লাগে। এমনকি যখন আপনার অনেক সম্পদ, সুসংগঠিত প্রশাসন এবং কাজ করার মতো বিপুল সক্ষমতা থাকে, তখনও এটাতে অনেক সময় লাগে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সংস্কারের কিছু প্রতিবন্ধকতা থাকবে, সেটা আমাকে অবাক করছে না। তবে, যে ইচ্ছাটা আছে, সেটাকে উৎসাহিত করতে হবে।”

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দ্বিমুখী পথের পরবর্তী ধাপে যাওয়া অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রস্তুতি, রাজনৈতিক ইচ্ছা ও খুবই জটিল সংস্কার কার্যক্রম চালানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত।

তিনি বলেন, “কেননা, আমরা এমন একটি অর্থনৈতিক সম্পর্কের দিকে রূপান্তরিত হচ্ছি, যা নির্ধারণ করবে বাজার খুলে দেওয়া এবং ইইউ ও বাংলাদেশের আরও বেশি মাত্রার দ্বিমুখী আদান-প্রদান।”

আরও পড়ুন

লবণাক্ত পানি পরিশোধন করে ব্যবহারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার বিষয়ে বাংলাদেশ যে আগ্রহ দেখিয়েছে, সেটা ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিবেচনা করছে বলেও জানান মাইকেল মিলার।

সিজিএস প্রেসিডেন্ট ও টেলিভিশন উপস্থাপক জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, জার্মান সংস্থা ফ্রিয়েডরিশ এবার্ট স্টিফটুংগের (এফইএস) বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ফেলিক্স গের্ডেস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমান।

ভোরের আকাশ/এনএস

শেয়ার করুন: