নতুন সরকারের ১০০ দিনের অগ্রযাত্রা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার যাত্রা শুরু করে গেল ১৭ ফেব্রয়ারি। গত ২৮ মে সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শুরু ১০০ দিনে ৫৩ হাজার ৯৬টি পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছে। কৃষক কার্ড বণ্টন করা হয়েছে ২০ হাজার ৭৪৮টি পরিবারে। এই সময়ে দুই কোটির বেশি শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও নানা ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে সরকারের কার্যক্রম। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রথম ১০০ দিনের কাজের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এশিয়া পোস্টের পাঠকের উদ্দেশে প্রকাশিত তথ্য হুবাহু তুলে ধরা হলো—
নির্বাচনি মঞ্চে দেওয়া প্রতিশ্রুতি সাধারণত রাজনৈতিক ভাষণের অংশ হয়ে থাকে, কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব কর্মপরিকল্পনায় রূপ দেওয়ার মাধ্যমেই নেতৃত্বের মূল্যায়ন হয়। বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রাধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি অঙ্গীকার এবং দ্রুত বাস্তবায়নে তার প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক নির্দেশনা ও পদক্ষেপ এখন জাতীয় আলোচনার বিষয়।
১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তার সরকার বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট, বিনিয়োগের স্থবিরতা, কর্মসংস্থানের ঘাটতি ও প্রশাসনিক দুর্বলতার মতো একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়।
প্রথম ১০০ দিনে নীতিনির্ধারণে দ্রুততা, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত, প্রশাসনিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধারের ইতিবাচক প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই সারা দেশে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। কারণ, এ সরকার বিশ্বাস করে দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজ করাই নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রধান দায়িত্ব।
রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার দিন থেকেই সরকার জনগণের সেবায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছে। সরকারের এই কার্যক্রমের সাফল্য ও তার প্রভাব গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে প্রথম ১০০ দিনের কর্মযাত্রার অগ্রগতি ও দিকনির্দেশনার একটি সুস্পষ্ট চিত্র পাওয়া যায়।
১০০ দিনের হাইলাইটস
ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছে ৫৩ হাজার ৯৬টি পরিবার। এ পর্যন্ত কৃষক কার্ড পেয়েছে ২০ হাজার ৭৪৮টি পরিবার। ১০০ দিনে দুই কোটিরও বেশি শিশুকে, অর্থাৎ শতভাগ শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ৬৬৬টি খালে খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৬ হাজার ধর্মীয় উপাসনালয়ের প্রধানরা মাসিক ভাতা পাচ্ছেন। ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়েছে।
পদ্মা ব্যারাজের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, সরাসরি উপকৃত হবে দেশের ৩৭ শতাংশ মানুষ। যুদ্ধাবস্থায় ভর্তুকির মাধ্যমে তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। ২০ মে পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪.৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৭১ শতাংশে নেমে এসেছে। ২৪ মে পর্যন্ত ১০টি কেবিনেট সভায় ৬০টি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, যার ৩৭টি ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে ও ২৩টি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ১২-১৪ বছর বয়সি ক্রীড়াশিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চলমান রয়েছে। ৫৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্লাবে ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
ভূমিসেবা অটোমেশন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ১৪টি বোয়িং যুক্ত করে বিমান বহর সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। ১৫২ জুলাই যোদ্ধাকে রাশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৫৫ লাখ পরিবারকে ১৫ টাকা কেজি দরে মাসিক ৩০ কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে। সব শিল্পকারখানায় ঈদের আগে বেতন, বোনাস ও সুবিধা পরিশোধ নিশ্চিত করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে রাজস্ব আদায়ে ১৩.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। প্রবীণ ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের মেট্রোরেল ও ট্রেনে ভাড়ার ওপর ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছে। ১৫ হাজার ৪৪৪ পেশাদার ও ২২ হাজার ৯১৮ অপেশাদার কসাইকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পশুর চামড়া ছাড়ানোর বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
অত্যাধুনিক ‘গ্রাউন্ড মাস্টার-৪০০’ রাডার এখন ঢাকা থেকে ৬৫০ কিলোমিটার এবং বঙ্গোপসাগরে ৮৩৩ কিলোমিটার পর্যন্ত আকাশসীমা নজরদারিতে রাখছে। বাংলাদেশের পাসপোর্টে আবারও যুক্ত করা হচ্ছে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ (Except Israel) শব্দবন্ধ, যা ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে বাদ দেওয়া হয়েছিল। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা পৌঁছে দিতে বহুল আলোচিত এস আলম গ্রুপের ৪ হাজার ২৬৪ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ সফলভাবে জব্দ করা হয়েছে। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে ১০টি দেশের মধ্যে তিন দেশের সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং বাকি দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এখন ভুক্তভোগীরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে যান না, বরং প্রধানমন্ত্রীই তাদের দুয়ারে পৌঁছে যাচ্ছেন।
নতুন রাজনৈতিক ও পারিবারিক সংস্কৃতির বার্তা
দেশের সমকালীন রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নেতৃত্বের আচরণ, ব্যক্তিগত জীবনধারা ও জনসম্পৃক্ততা ক্রমেই জনআলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আচরণকে পর্যবেক্ষকরা একটি ভিন্নধারার নেতৃত্বচর্চা হিসেবে বিবেচনা করছেন, যেখানে ভদ্রতা, সংযম, সৌজন্য, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তারেক রহমানের ব্যক্তিগত জীবনযাপন ও জনপরিসরে আচরণকে অনেকে সরল জীবনধারা এবং পারিবারিক মূল্যবোধের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। এসব দৃষ্টান্ত তার রাজনৈতিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিরই অংশ, যা প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির তুলনায় একটি ভিন্নধারার নেতৃত্বের ইঙ্গিত বহন করে।
সরকারি বাসভবনের পরিবর্তে ব্যক্তিগত বাসভবন ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত জনপরিসরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটিকে অনেকে সরল ও সংযত প্রশাসনিক সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে দেখছেন।
ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার এবং নিজ খরচে জ্বালানি ব্যয়ের উদ্যোগ একটি ব্যতিক্রমী প্রশাসনিক অনুশীলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দায়িত্বশীলতা ও ব্যক্তিগত সংযমের বার্তা বহন করছে বলে অনেকে মনে করছেন। ভিভিআইপি প্রটোকল সীমিত করার পদক্ষেপকে অনেকে ক্ষমতার সরলীকরণ, জবাবদিহি এবং জনগণের আরও কাছাকাছি থাকার প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।
সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তিনি বিভিন্ন সময়ে প্রচলিত প্রটোকলের গণ্ডি ভেঙে শিশুদের সঙ্গে কথা বলেছেন, তাদের আবদার পূরণ করেছেন এবং তাদের কাছ থেকে ভালোবাসার উপহার গ্রহণ করেছেন। এসব ঘটনাকে অনেকে মানবিক নেতৃত্বের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।
তরুণ উদ্ভাবকদের উৎসাহিত করতে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার ও চালনার মাধ্যমে তিনি স্থানীয় উদ্ভাবনী সক্ষমতার প্রতি সমর্থনের বার্তা দিয়েছেন। উদ্ভাবনী উদ্যোগে তরুণদের সম্পৃক্ত করার বিষয়টিকে অনেকে ভবিষ্যৎমুখী নেতৃত্বের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।
সাপ্তাহিক কার্যদিবসের অংশ হিসেবে শনিবার অফিস কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা, কর্মগতিশীলতা এবং সেবার গতি বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কৃষক, শ্রমিক ও মজুরদের সঙ্গে একজন সাধারণ মানুষের মতো মিশে যাওয়ার ঘটনাগুলোও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনপরিসরে আলোচিত হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এসব আচরণ তাকে একটি জনমুখী নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করছে।
সিগন্যালে অপেক্ষা করা, হেঁটে অফিসে যাওয়া কিংবা অফিস শেষে সাধারণ মানুষের মাঝে গিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ঘটনাগুলোকে অনেকে অংশগ্রহণভিত্তিক ও জনসম্পৃক্ত নেতৃত্বের উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করছেন।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চল সফরকালে তাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও আগ্রহ বিশেষভাবে লক্ষণীয় হয়ে উঠেছে। রাস্তার দুইপাশে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, এমনকি বাড়ির উঠানেও মানুষ তার একনজর দেখার জন্য অপেক্ষা করছে। শিশু-কিশোর, তরুণ-প্রবীণ, মা-বোনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের এই অংশগ্রহণকে অনেকে জনগণের আস্থা ও প্রত্যাশার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বিবেচনা করছেন।
কিছুদিন আগে নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সফরকালে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব জনপরিসরে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। সেখানে শিক্ষার্থীরা আগামীর বাংলাদেশ, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও রাষ্ট্র পরিচালনা নিয়ে নিজেদের ভাবনা ও প্রত্যাশা সরাসরি তুলে ধরার সুযোগ পান। নেতৃত্ব ও তরুণ সমাজের মধ্যে এমন অংশগ্রহণমূলক যোগাযোগকে ইতিবাচক গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির সামগ্রিক প্রচেষ্টাকে প্রশাসনিক যোগাযোগ ও জনআস্থা আরও শক্তিশালী করার একটি উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এসব উদ্যোগ শুধু ব্যক্তিগত আচরণ বা প্রতীকী পদক্ষেপ নয়; বরং রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সরলতা, মানবিকতা, জবাবদিহি, জনসম্পৃক্ততা এবং অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্বের একটি নতুন ধারা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
মন্ত্রণালয়ভিত্তিক উদ্যোগ, সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
শিক্ষাব্যবস্থাকে সময়োপযোগী, প্রযুক্তিনির্ভর, কারিগরি, কর্মমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে সরকার একযোগে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। ডিজিটাল রূপান্তর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা উন্নয়নের অগ্রগতি নিশ্চিতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ উদ্যোগের আওতায় পিইডিপি-৫ প্রোগ্রামের মাধ্যমে ৩ লাখ ৮৪ হাজার ট্যাব কেনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল সুবিধা নিশ্চিত করতে দেশের ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট সেবা চালু করা হয়েছে।
মাল্টিমিডিয়া শিক্ষাব্যবস্থা সম্প্রসারণে ১০০ ডিজিটাল মডেল কনটেন্ট আইপিইএমআইএসে আপলোড করা হয়েছে। পাইলট কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১ জুলাই থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে দুই লাখ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, স্কুল ব্যাগ ও স্কুল জুতা বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা জোরদারে এক লাখ ৮ হাজার ৪৫০ শিক্ষককে প্রতিবন্ধী শিশুবিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং ৩৭ হাজার ২৮৩টি সহায়ক ডিভাইস বিতরণ করা হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা-২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
বাজার মনিটরিং ও অভিযান জোরদার করায় দীর্ঘদিন পর রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ছিল। সরকার প্রায় এক কোটি টিসিবি কার্ডধারী পরিবারের কাছে ভর্তুকিমূল্যে তেল, ডাল ও অন্যান্য পণ্য সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। সরকার আন্তর্জাতিক বাজারে চাপ থাকা সত্ত্বেও ভোজ্যতেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ইকোনমিক করিডোর বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু করেছে সরকার।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও পানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে এ বছরের জুন থেকে ২০৩৩ সালের জুন পর্যন্ত ৩৩ হাজার ২৭৪ কোটি টাকার পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। পদ্মা ব্যারাজ হলে সরাসরি উপকৃত হবে দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ এবং বিনা জ্বালানিতে প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
মব ভায়োলেন্স প্রতিরোধে সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। নতুন ২০টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণের কাজ চলমান। শুধু এপ্রিল মাসেই ১৮৩ কোটি ২০ লাখ ৫১ হাজার টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে বিজিবি। কিশোর গ্যাং, অনলাইন জুয়া, সংঘবদ্ধ অপরাধ, মাদক, সন্ত্রাস দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঢাকার রাস্তায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা হয়েছে। পুলিশ বিভাগে নতুন আরও ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়
কৃষকদের জন্য সরকার ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রম চালু করেছে। প্রাথমিকভাবে ১০টি জেলার ২২ হাজার কৃষকের মাঝে কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। ফল, শাকসবজি, ডাল, তেলবীজ, মসলা ও ফুলচাষ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষি গবেষণা ও উদ্ভাবনে গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়
মৎস্যজীবী, খামারি এবং লবণচাষিরাও কৃষক কার্ড পাবেন। রমজান মাসে ৯ লাখ ২৮ হাজার ৪৬৫ মানুষকে ৫৩ লাখ ৯৬ হাজার পিস ডিম, ৪ লাখ ৯০ হাজার ১৫০ লিটার দুধ ও দুই হাজার ৫০ টন গরুর মাংস বিতরণ করা হয়েছে। পবিত্র কোরবানি উপলক্ষে ৭৩ হাজার ৪৬৫ খামারিকে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে গবাদিপশু হৃষ্টপুষ্টকরণে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। ‘জাল যার, জলা তার’ নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অগ্রাধিকারভিত্তিতে ৯৪১টি জলমহলের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়
বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি আকারে বিস্তৃত। সরকারের লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অর্জন। ২০২৬ সালের ২০ মে পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪.৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে রাজস্ব আদায়ে ১৩.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৭১ শতাংশে নেমে এসেছে। ৮ হাজার ৮০০ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে ঋণ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে এবং ৯ হাজার ১৪৩ তরুণকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
বর্তমান সরকার ‘বন্ধুত্ব সবার সঙ্গে, নির্ভরতা কারও ওপর নয়’ নীতি অনুসরণ করছে। জ্বালানি ও শ্রমবাজার কূটনীতিকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান। সার্কের মাধ্যমে দক্ষিণ এশীয় সহযোগিতা জোরদার এবং আসিয়ান সদস্যপদের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়
দুই ঈদের আগেই সব শিল্পকারখানায় বেতন, বোনাস ও সুবিধা পরিশোধ নিশ্চিত করা হয়েছে। কর্মস্থলে নারীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে ৬৫টি ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। কর্মহীন শ্রমিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় এক হাজার ৭৮ শ্রমিককে মাসিক পাঁচ হাজার টাকা করে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়
ইউনিসেফের সহায়তায় হাম-রুবেলার টিকার ব্যবস্থা করে মোট ১ কোটি ৮৩ লাখ ৫৯ হাজার ৮৭০ শিশুকে টিকা প্রদান করা হয়েছে। শহরাঞ্চলে অব্যবহৃত প্রায় ২০০টি সরকারি ভবনকে শিশু ও নারীদের আধুনিক চিকিৎসা সুবিধাকেন্দ্রে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়
আগামী এক বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। অসচ্ছল ও প্রবীণ শিল্পীদের জন্য ‘শিল্পী সামাজিক নিরাপত্তা কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত ৫৩ হাজার ৯৬টি পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছে। বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। চা শ্রমিক, বেদে ও হিজড়া জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা সহায়তা সম্প্রসারণ নিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়
৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৬ সালের জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি কর্মসূচির আলোকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে নিজ বাসায় বা আঙিনায় এক কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ
সরকারি দপ্তরে জ্বালানি ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমানো ও অফিস সময় হ্রাস করা হয়েছে। অফিসে এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার ওপরে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ডিজেলচালিত সেচ পাম্প ধাপে ধাপে সৌরশক্তিতে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের অতিরিক্ত মাসিক চার্জ প্রত্যাহার করে সাধারণ মানুষের আর্থিক স্বস্তি নিশ্চিত করা হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়
সরকার ১৮০ দিনে ১২০০ কিলোমিটার খাল, নদী ও নালা খননের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কাছাকাছি পৌঁছেছে। আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল, নদী ও নালা খনন করতে চায় সরকার।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়
মেহেরপুরে ৯ বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে এক আসামিকে মাত্র ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে আদালত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। ই-বেইল বন্ড ব্যবস্থা চালু। আদালতের নথি ডিজিটাইজেশন কার্যক্রম জোরদার।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়
২০২৬ সালের মে মাসের প্রথম ১৯ দিনে ২.৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। দীর্ঘদিন পর আবারও খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। বিকল্প শ্রমবাজার খুঁজতে ইউরোপের সাতটি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। বৈধ পথে রেমিট্যান্সে উৎসাহ দিতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়
বন্ধ সরকারি পাটকলগুলো পর্যায়ক্রমে চালুর পরিকল্পনা। বন্ধ গার্মেন্টস কারখানা পুনরায় চালুর কার্যক্রম শুরু। পাট ও চামড়া খাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে চীনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়
সাংবাদিক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের জন্য তুলনামূলক উন্মুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ভুল তথ্য ও অপপ্রচার নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাওয়ায় শক্তিশালী ও স্বাধীন মিডিয়া কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়
ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, বৌদ্ধ গুরু ও খ্রিস্টান যাজকদের মাসিক সম্মানি দেওয়া শুরু হয়েছে। ৪ হাজার ৯০৮ মসজিদ, ৯৯০ মন্দির, ১৪৪ বৌদ্ধবিহার ও ৩৯৬ গির্জার ধর্মীয় নেতারা এই সুবিধা পাচ্ছেন। ওয়াকফ সম্পত্তির অবৈধ উচ্ছেদ ও উদ্ধার কার্যক্রমের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং হজ খরচ প্রায় ১২ হাজার টাকা হ্রাস করা হয়েছে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়
খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘ক্রীড়া কার্ড’ কার্যক্রম চালু করেছে। ১২-১৪ বছর বয়সি ক্রীড়াশিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কার্যক্রম চলছে। দুই লাখ ফ্রিল্যান্সারকে আইডি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চলমান রয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়
ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও স্থানীয় প্রশাসনের সেবা ডিজিটালাইজেশনে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বর্ষার আগেই জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনঃখনন, ড্রেন সংস্কার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়
১৯-২১ মে সারা দেশে একযোগে ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’ আয়োজন করা হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয় ভূমিসেবা অটোমেশন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
সরকারি দপ্তরে ই-ফাইলিং ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং স্মার্ট অফিস ব্যবস্থাপনা চালু। সিভিল সার্ভিস সংস্কার কার্যক্রম চলমান।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়
১৪টি বোয়িং যুক্ত করে বিমান বহর সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সরকার ও বোয়িংয়ের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধনের প্রস্তুতি চলছে। জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান ৬-৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য ঘোষণা করা হয়েছে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়
চলন্ত ট্রেনে ফ্রি ইন্টারনেট সুবিধা দেওয়া হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে জাতীয় পর্যায়ে সাইবার সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টার গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দেশের ৯৯ শতাংশ জনগোষ্ঠীর কাছে ইতোমধ্যে ফেরজি নেটওয়ার্ক পৌঁছে গেছে এবং ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা ১৩ কোটির বেশি হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়
১৫২ জুলাই যোদ্ধাকে রাশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। এর মধ্যে ৯২ জন চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা সংরক্ষণ এবং অনিয়ম দূর করতে যাচাই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ৫৫ লাখ পরিবারকে ১৫ টাকা কেজি দরে মাসিক ৩০ কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে। চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৪১৯ উপজেলায় অতিরিক্ত ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়
পার্বত্য অঞ্চলের দীর্ঘদিনের ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে মাধবী মারমার পাশাপাশি খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নেত্রী আন্না মিনজকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি মনোনীত করা হয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়
‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’ আয়োজন করা হয়েছে। স্কুল-কলেজ পর্যায়ে বিজ্ঞানচর্চা জনপ্রিয় করতে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিজ্ঞান মেলা ও বিজ্ঞান সপ্তাহ আয়োজন করা হয়েছে।
শিল্প মন্ত্রণালয়
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতকে সহায়তা দিতে সরকার নতুন ৩০০ কোটি টাকার ঋণ পাইকারি কর্মসূচি চালু করেছে। বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) আওতাধীন চিনি কলগুলো আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়
দেশের প্রায় ৩০ হাজার খালের ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির একটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা বাড়াতে ডিজিটাল মনিটরিং ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়
রাজধানীর সরকারি আবাসন ও অফিস ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সরকারি নির্মাণকাজে সময় ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় প্রবীণ ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মেট্রোরেল ও ট্রেন ভ্রমণে ভাড়ার ওপর ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছে। বিআরটিসির মাধ্যমে ৬ হাজার ৩০০ গাড়িচালককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জট কমাতে দ্রুত খালাস ও ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনায় বিশেষ সমন্বয় কার্যক্রম চালানো হয়েছে।
প্রাণবন্ত সংসদ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরুর পর মূল অধিবেশন কক্ষে স্পিকারের আসনের পেছনের উঁচু দেয়ালে পবিত্র কালিমা তাইয়্যিবার মনোমুগ্ধকর আরবি ক্যালিগ্রাফি স্থাপন করা হয়। জাতীয় সংসদের সাতটি গ্যালারির নাম সাত বীরশ্রেষ্ঠের নামে করা হয়। জাতীয় সংসদের মূল ভবনের প্রবেশপথটির নামকরণ হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীর নামে। ২৫ কার্যদিবসের প্রাণবন্ত প্রথম অধিবেশনে রেকর্ডসংখ্যক ৯৪টি বিল পাস হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনে অন-গ্রিড রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
অত্যাধুনিক ‘গ্রাউন্ড মাস্টার-৪০০’ রাডার এখন ঢাকা থেকে ৬৫০ কিলোমিটার ও বঙ্গোপসাগরে ৮৩৩ কিলোমিটার পর্যন্ত আকাশসীমা নজরদারিতে রাখছে। সীমান্তে বিজিবির শক্ত ও সার্বভৌম অবস্থান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিরই বাস্তব প্রতিফলন।
গ্রামীণ ব্র্যান্ডিং
সরকার ‘একটি গ্রাম, একটি পণ্য’ পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। একটি গ্রাম যে জিনিস সবচেয়ে ভালো তৈরি করতে পারে, সেটিই সেই গ্রামের বিশেষ পণ্য হিসেবে বিপুল পরিমাণে উৎপাদন করা হবে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সরকার
কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও সিলেটের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি অংশ পানিতে প্লাবিত হলে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য তিন মাসব্যাপী বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ১০০ দিন ছিল মূলত দিকনির্ধারণ, প্রশাসনিক পুনর্গঠন এবং জনআস্থা পুনর্গঠনের সময়। অর্থনৈতিক চাপ, বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সরকার দ্রুত কিছু নীতিগত ও জনমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফ, ডিজিটাল ভূমিসেবা, খাল পুনঃখনন, ধর্মগুরুদের আর্থিক সম্মানি প্রদান এবং শিক্ষা ও তরুণদের জন্য নতুন কর্মসূচিগুলো ছিল উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি নিরাপত্তা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হলেও প্রথম ১০০ দিনে সরকার একটি সক্রিয়, দ্রুত সিদ্ধান্তগ্রহণকারী এবং জনমুখী প্রশাসনের ইঙ্গিত দেওয়ার চেষ্টা করেছে। বিএনপি সরকারের প্রথম ১০০ দিন জাতির সামনে আশাবাদ ও ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে এসেছে। এই অগ্রযাত্রার ধারাবাহিক চিত্র তুলে ধরতে প্রেস উইং এই ডায়েরি প্রকাশ করেছে। সূত্র : এশিয়া পোস্ট
ভোরের আকাশ/এম