চাকরিচ্যুত ১৫২২ পুলিশের পুনর্বহাল না হলে আমরণ কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ফেসবুকে মন্তব্য, ডোপ টেস্ট, চাকরিতে যোগদানের আগে বিয়ে ও পারিবারিক অভিযোগসহ বিভিন্ন কারণে চাকরিচ্যুত ১৫২২ পুলিশ সদস্য তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নিয়ে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন। চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়ম ও ত্রুটি-বিচ্যুতি চিহ্নিত হলেও সেগুলো নিরসনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
দ্রুত চাকরিতে পুনর্বহাল করা না হলে আমরণ কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে চলমান অবস্থান কর্মসূচিতে এ হুঁশিয়ারি দেন তারা।
ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্য মামুন সিরাজুল হক নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে দেশের বিভিন্ন জেলা ও ইউনিট থেকে বিভিন্ন কারণে তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়। তার অভিযোগ, ফেসবুকে মন্তব্য, ডোপ টেস্টে ফল, চাকরিতে যোগদানের আগে বিয়ে এবং পারিবারিক অভিযোগের মতো বিষয়কে কেন্দ্র করে ১ হাজার ৫২২ জনকে টার্গেট করে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল।
মামুন সিরাজুল হক বলেন, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সময় তারা চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন পুলিশ সদর দপ্তরকে একটি প্রজ্ঞাপন দেন। সেখানে বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে সংশ্লিষ্টদের চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তবে ওই নির্দেশের পরও পুলিশ সদর দপ্তর নানা টালবাহানা করছে বলে অভিযোগ করেন মামুন। তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে পুলিশ সদর দপ্তরে একটি কমিটি গঠন করা হয় এবং কমিটি সুপারিশমালা দেয়। সেখানে বিভাগীয় মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে যথেষ্ট ত্রুটি-বিচ্যুতি পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু এসব ত্রুটি-বিচ্যুতি নিরসনে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্যরা বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন চাকরির বাইরে থাকায় তাদের পারিবারিক জীবন ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
মামুন সিরাজুল হক বলেন, চাকরিচ্যুতির পর অনেক সদস্য প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার সুযোগও পাননি। কারও কারও মামলা তামাদি হয়ে গেছে। ফলে তারা দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে রাস্তায় আন্দোলন করতে বাধ্য হচ্ছেন।
তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘আমরা আপনার সাক্ষাৎ চাই। আপনি আমাদের কথাগুলো শুনুন। অন্তত পাঁচ মিনিট সময় দিন।’
মামুন সিরাজুল হক আরও বলেন, তারা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। দাবি মেনে নিয়ে দ্রুত চাকরিতে পুনর্বহাল করা না হলে আমরণ কর্মসূচিতে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমাদের আর কোনো গতি নেই। তাই দাবি না মানা হলে আমরণ কর্মসূচিতে যাওয়া ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো পথ থাকবে না।’
ভোরের আকাশ/সু.পা