আগামী ৩ মে থেকে টিকাদান কর্মসূচি একযোগে শুরু : স্বাস্থ্য মন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এমপি বলেছেন, আগামী ৩ মে থেকে দেশের সকল জেলা ও উপজেলায় একযোগে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে।
তিনি সবাইকে স্বাস্থ্যের বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, হামে আক্রান্ত হলে রোগীকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিতে হবে, যাতে কোনো শিশুর অকাল মৃত্যু না ঘটে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের জিন্দাপার্কের লিটল এঞ্জেলস সেমিনারি স্কুল মাঠে দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, অতীত সরকারের অব্যবস্থাপনার কারণে দেশে হাম রোগের ঝুঁকি বেড়েছে। বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করেছে।
তিনি আরও বলেন, শিশুদের সুস্বাস্থ্যের জন্য পুষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ওষুধ নয়, সচেতনতা জরুরি। মায়ের দুধ শিশুর জন্য সবচেয়ে কার্যকর পুষ্টি—এটি শিশুকে নানা রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়। তাই মায়েদের শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ানোর প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু, ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন মেগান বলডিন, ইউনিসেফ বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ এম্মানুয়েলি এবরিউক্স, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ ডা. রাজেশ নারওয়ে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রায়হান কবির, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মশিউর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আইভি ফেরদৌসসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
এই কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে টিকা প্রদান করা হবে।
প্রথম ধাপের কর্মসূচি ৫ এপ্রিল শুরু হয়ে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এবং দ্বিতীয় ধাপ ১২ এপ্রিল শুরু হয়ে ১২ মে পর্যন্ত চলবে। সিটি করপোরেশন এলাকায় এ কার্যক্রম ২০ মে পর্যন্ত এবং অন্যান্য এলাকায় ১২ মে পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, জ্বর বা অন্য কোনো অসুস্থতায় আক্রান্ত শিশুদের সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হামে আক্রান্ত নয় এমন সকল শিশুকে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল প্রদান করা হবে।
ভোরের আকাশ/ র.ই