শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

দুই দশক ধরে হারানো সহপাঠী ‘স্বপ্না’র খোঁজে মাসুদ, শেষ ভরসা দেয়ালজুড়ে পোস্টার

আশুলিয়া প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১ আগস্ট ২০২৬, ৮:৩০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : ভোরের আকাশ
ছবি : ভোরের আকাশ

দুই দশক আগে হারিয়ে যাওয়া স্কুলজীবনের এক সহপাঠী নারী বন্ধুকে খুঁজে পেতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন মো. মাসুদ রানা। প্রিয় সেই সহপাঠী ‘স্বপ্না’র সন্ধানে ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার পাড়া-মহল্লা, সড়কের পাশ, দেয়াল ও বিদ্যুতের খুঁটিতে সাঁটিয়েছেন আবেগঘন বার্তাসংবলিত পোস্টার। বিষয়টি স্থানীয়দের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সম্প্রতি আশুলিয়ার জিরাবো স্পেকট্রাম গার্মেন্টস এলাকার বিভিন্ন স্থানে এসব পোস্টার দেখা যায়। পোস্টারের শিরোনামে বড় অক্ষরে লেখা— ‘স্বপ্না, স্বপ্না’। নিচে লেখা, ‘একটি মানুষকে খুঁজছি, যদি কেউ চিনে থাকেন, দয়া করে জানাবেন।

পোস্টারে মাসুদ রানা উল্লেখ করেন, ২০০৭ সালে জিরাবো স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় স্বপ্না নামে তার এক সহপাঠী ছিল। তার গালে একটি তিল ছিল এবং পরিবারের সঙ্গে জিরাবো এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত। ঈদের ছুটির পর হঠাৎ করেই সে স্কুলে আসা বন্ধ করে দেয়। পরে জানতে পারেন, সে বিভিন্ন পোশাক কারখানায় চাকরি করছিল।

তিনি আরও লিখেছেন, বছরের পর বছর বিভিন্ন কারখানার গেটে গিয়ে স্বপ্নার খোঁজ করেছেন। সর্বশেষ জানতে পারেন, ২০১৬ সালের পর পুকুরপাড় এলাকার কন্টিনেন্টাল গার্মেন্টস ও সাউথ ওয়ান নামের একটি কারখানায় কাজ করেছিল সে। কিন্তু বহু চেষ্টা করেও তার সঙ্গে আর দেখা হয়নি।

পোস্টারে মাসুদ রানা নিজের বর্তমান অবস্থার কথাও তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, ২০১৮ সাল থেকে একটি পোশাক কারখানায় টেকনিক্যাল ম্যানেজার (মার্কেটিং) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি চাকরির কারণে গাজীপুরের মাওনা-শ্রীপুর এলাকায় চলে যেতে হচ্ছে। তাই জিরাবো এলাকায় ঘুরে ঘুরে আর খোঁজ নেওয়া সম্ভব হবে না বলেই এটিকে তিনি স্বপ্নাকে খুঁজে পাওয়ার ‘শেষ চেষ্টা’ হিসেবে পোস্টার প্রকাশ করেছেন।

সবশেষে তিনি লিখেছেন, স্বপ্না, তুমি যদি কোথাও থেকে এই পোস্টারটি দেখো, একবার শুধু যোগাযোগ করো। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তোমার সঙ্গে একবার দেখা হওয়ার অপেক্ষায় থাকব।

পোস্টারে দেওয়া মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে মাসুদ রানা বলেন, ছোটবেলায় আমরা একসঙ্গে পড়াশোনা করেছি। আমি তাকে পছন্দ করতাম, কিন্তু কখনো তা বলতে পারিনি। তার কোনো ছবি বা ফোন নম্বর আমার কাছে নেই। দীর্ঘদিন বিভিন্নভাবে খুঁজেছি, কিন্তু পাইনি। এখন চাকরির কারণে অন্য এলাকায় চলে যাচ্ছি। তাই শেষবারের মতো পোস্টার লাগিয়েছি। অন্তত একবার তার সঙ্গে দেখা করতে চাই।

এদিকে এমন ব্যতিক্রমী পোস্টার স্থানীয়দের মধ্যেও কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।

জিরাবো স্পেকট্রাম এলাকার সামনে পোস্টারটি দেখে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আমিনুর রহমান বলেন, “গান-কবিতায় শহরজুড়ে পোস্টার সাঁটানোর কথা শুনেছি। বাস্তবে এমন ঘটনা এবারই দেখলাম। আশা করি, তারা একদিন দেখা করতে পারবেন।

আরও পড়ুন

আনসার সদস্যদের তৎপরতায় মোবাইল চোরকে আটক

স্থানীয় একটি পোশাক কারখানার কর্মী শফিকুল ইসলাম বলেন, “রাজনৈতিক পোস্টার তো প্রায়ই দেখি। কিন্তু একজন পুরোনো সহপাঠীকে খুঁজতে এমন পোস্টার আগে কখনো দেখিনি।

অভিনব এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই মাসুদ রানার আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করছেন এবং হারিয়ে যাওয়া দুই সহপাঠীর পুনর্মিলনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন।

ভোরের আকাশ/এনউব

দেয়ালজুড়ে পোস্টার

শেয়ার করুন: