জাতীয় শহীদ সেনা দিবসে প্রধানমন্ত্রী
দেশের সার্বভৌমত্ব নস্যাতের অপপ্রয়াসে পিলখানা হত্যাকাণ্ড

গভীর শোক, শ্রদ্ধা ও মোনাজাতের মধ্যদিয়ে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়েছে জাতীয় শহিদ সেনা দিবস। ২০০৯ সালের এই দিনে (২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি) বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তর, পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫৭ জন মেধাবী সেনাসদস্যসহ ৭৪ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর পূর্ণ হলো। দিনটি উপলক্ষে ঢাকার বনানীস্থ সামরিক কবরস্থানে শহীদদের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শাহাদত বরণকারী সেনাসদস্যদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধানগণ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক ও শহীদ পরিবারের সদস্যগণ।
গতকাল সকাল ১০টার দিকে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী বনানী সামরিক কবরস্থানে বীর শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। প্রথমে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর সম্মান জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল সামরিক রীতিতে সম্মান প্রদর্শন করে এবং বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। এরপর তারা শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে আয়োজিত বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।
পিলখানার ঘটনা ছিল আমাদের সার্বভৌমত্ব নস্যাতের অপপ্রয়াস: জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের মাল্টি পারপাস হলে মতবিনিময় সভা ও ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নস্যাৎ করার অপপ্রয়াস।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে এবং স্বাধীনতা পরবর্তী দেশ গঠনে সেনাবাহিনীর রয়েছে উজ্জ্বল ইতিহাস। সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। আমি মনে করি, পিলখানার সেই মর্মান্তিক ঘটনা ছিল আমাদের সার্বভৌমত্বকে নস্যাৎ করার একটি অপপ্রয়াস।
তিনি বলেন, পিলখানার ঘটনার পরিক্রমায় আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা ফুটে উঠেছে। তাই বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অবশ্যই আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার কাঠামোকে আরো আধুনিক, সময়োপযোগী এবং শক্তিশালী করা প্রয়োজন। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সহসীমান্ত বাহিনীকে আধুনিক ও আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। তিনি বলেন, ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ক্ষমা করবে না। সেনাবাহিনী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এ দিনের স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে বর্তমান সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাহে রমজানের এই পড়ন্ত বিকেলে তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের, ’৯০-এর গণআন্দোলন এবং ’২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শাহাদাতবরণকারী ছাত্র-জনতাকে। একই সঙ্গে ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে শাহাদাতবরণকারী ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন বীর শহীদকে তিনি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
তিনি বলেন, ২৫ ফেব্রুয়ারি জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন। ২০০৯ সালের ওই নির্মম ঘটনা জাতীয় জীবনে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, যার বেদনা আজও বহমান। ঘটনার ১৭ বছর পর শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে তার কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি কেবল একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবেই নয়, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবেও উপস্থিত হয়েছেন। সেই বিভীষিকাময় ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন প্রাণ হারান। প্রতিটি মৃত্যু একটি পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
তিনি জানান, দেশে ফিরে বনানী সামরিক কবরস্থানে গিয়ে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি শহীদ পরিবারের দীর্ঘ ১৭ বছরের দুর্বিষহ সংগ্রাম ও বিচারপ্রাপ্তির বেদনা গভীরভাবে অনুভব করেছেন।
সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বাহিনীর শিকড় স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রোথিত। ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। সে সময় তদানীন্তন ইপিআর সদস্যরা সেনাবাহিনীর সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে গৌরবময় ইতিহাসের অংশীদার হন। পরবর্তীকালে বাহিনীকে সুসংহত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পুনর্গঠন করা হয়।
তিনি বলেন, জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে এবং দেশের স্বার্থে সীমান্ত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করা হবে। সদস্যরা দেশপ্রেম ও পেশাগত উৎকর্ষতার মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পিলখানার ঘটনা ছিল দেশের সার্বভৌমত্বকে নস্যাৎ করার একটি অপপ্রয়াস। এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাই সময়োপযোগী ও আধুনিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। তিনি শহীদ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করে আল্লাহর কাছে শহীদদের আত্মার শান্তি ও তাঁদের পরিবারের ধৈর্য কামনা করেন।
বিডিআর হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি মির্জা ফখরুলের: এরআগে বিডিআর বিদ্রোহ ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাদের স্মৃতি স্তম্ভের বেদিতে শ্রদ্ধা শেষে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে, বাংলাদেশের জনগণ তাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করবার জন্যে, একই সঙ্গে গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিগত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আজকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সুসংগত করা এবং গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করবার একটা বড় সুযোগ পেয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা বিশ্বাস করি যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল অতীতের মত একইভাবে তার যে মূল লক্ষ্য, বাংলাদেশকে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করা, তা অর্জন করবে।
তিনি আরও বলেন, একই সঙ্গে এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের একটা নিরপেক্ষ তদন্ত করে, এই ঘটনায় দায়ী ব্যক্তি ও শক্তিদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার মাধমে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করবে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা পিলখানা হত্যাকান্ডের সেই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি এবং তাদের পরিবার পরিজনদের প্রতি আমাদের সমবেদনা জানাচ্ছি। এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের আমরা তদন্ত দাবি করছি।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন হত্যাকাণ্ডের এই দিনটি আমাদের জাতির জন্যে অত্যন্ত লজ্জার ও কলঙ্কজনক একটি অধ্যায় বলে আমরা মনে করি। যারা সেদিন শহীদ হয়েছেন, আমরা আজকে জাতীয়তাবাদী দল ও দলের চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে ও তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করতে এসেছি।
তিনি আরও বলেন, এই দিনটিকে আমরা সবচেয়ে কলঙ্কজনক এই জন্য মনে করি এই জন্য যে এই দিনে বাংলাদেশের পুরো নিরাপত্তাকে ব্যবস্থাকে ভেঙ্গে দেওয়ার একটা গভীর চক্রান্ত করা হয়েছিল ও সেই প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিলো। চৌকশ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যে মনোবল ও একই সঙ্গে বাংলাদেশের যে মনোবল, সেটাকে ভেঙে দেওয়ার জন্য একটা গভীর চক্রান্ত হয়েছিল এ দিনে।
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে : বনানী সামরিক কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, যাতে এই জাতীয় কোনো ঘটনা আমাদের জাতীয় জীবনে আর না দেখতে হয় ভবিষ্যতে, সেজন্য যে ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি সেই পদক্ষেপগুলো আমরা নেবো।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একটি স্বাধীন জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। এই কমিশনের রিপোর্ট আমাদের সামনে আসছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই রিপোর্ট বাস্তবায়নে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, আমি কয়েকদিন আগেই এই রিপোর্টটা পুরো না দেখেই কিছু কথা বলেছি, যেগুলো আজ সংশোধন করতে চাই। আমরা নতুন করে আর কোনো তদন্ত কমিশন করবো না। যেহেতু জাতীয় একটা স্বাধীন তদন্ত কমিশন দক্ষ ও উপযুক্ত ব্যক্তিদের দ্বারা গঠিত হয়েছে, তাদের রিপোর্টে আমি এক নজরে যা দেখেছি তাতে যে সমস্ত সুপারিশমালা এসেছে তা প্রায় ৭০টি।
তিনি আরও বলেন, বিচারাধীন যে মামলাগুলো আছে, কিছু আপিল পর্যন্ত, কিছু আপিলেড ডিভিশনে হয়তো আছে। জুডিশিয়াল প্রসেসটা সমাপ্ত করা হবে আর অন্যান্য যে রিকমেন্ডেশনস আছে এগুলো আমরা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করবো।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের সুপারিশ ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি ছিল পিলখানার ঘটনা এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আন্ডারমাইন্ড করা বা দুর্বল করা এটা একটা লক্ষ্য ছিল। সেটা তাদেরই থাকতে পারে যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না অথবা একটা দুর্বল রাষ্ট্র হিসেবে এ দেশকে দেখতে চায়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে যারাই জীবন দিয়েছেন তারা চিরস্মরণীয় ও চিরভাস্বর। পিলখানার নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল তা খুঁজে বের করার জন্য তৎকালীন সরকার কমিটি করেছিল। শেষ পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। এই সময়ে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহি আকবর, অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল কামরুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর মিজানুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিদ্দিকুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত স্কোয়াড্রন লিডার জাহিদ হোসেন, জাগপা’র চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফুর রহমান, বিডিআর-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের ছেলে রাকির আহমেদ ভুঁইয়া ও বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।
তিন বাহিনী প্রধান যথাক্রমে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। পিলখানায় নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্য ও নিকট আত্মীয়রাও এ সময় বনানীর সামরিক কবরস্থানে উপস্থিত ছিলেন। প্রতি বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় শহীদ সেনা দিবস পালন করা হয়। এ দিনে পিলখানায় সংঘটিত মর্মান্তিক হত্যাযজ্ঞে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের স্মরণ করা হয়। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদরদপ্তরে বিদ্রোহের ঘটনায় তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ নিহত হন।
নতুন আইজিপির র্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন : গতকাল বুধবার সচিবালয়ে এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবনিযুক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরকে র্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দিয়েছেন। মঙ্গলবার আলী হোসেন ফকিরকে দেশের নতুন আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার।
ভোরের আকাশ/এসএইচ