পাবনা প্রেসক্লাব
প্রাণবন্ত আড্ডায় মেতে উঠলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

পাবনা প্রেসক্লাবের ভিআইপি মিলনায়তনে পারিবারিক ও সুহৃদ পরিবেশে সাংবাদিক ও বাল্যবন্ধুদের সাথে প্রাণবন্ত আড্ডায় মেতে উঠলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
পাবনা প্রেসক্লাবের আয়োজনে রোববার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যায় “এসো মিলি প্রাণের টানে- সর্তীথ সাংবাদিক সহকর্মীদের সঙ্গে আড্ডা” শীর্ষক অনুষ্ঠানে পাবনা প্রেসক্লাবে উপস্থিত হন রাষ্ট্রপতি পাবনা প্রেসক্লাবের জীবন সদস্য মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। এ সময় তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান প্রেসক্লাব সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, ক্লাবের জীবন সদস্য স্কয়ার গ্রুপের পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু।
প্রায় আড়াইঘন্টা তিনি প্রেসক্লাবে অবস্থান করেন, ক্লাবের ভিআইপি মিলনায়তনে রাষ্ট্রপতি তাঁর সতীর্থ, পুরানো সহকর্মী সাংবাদিকদের সঙ্গে আড্ডায় মিলিত হন। সে সময় রাষ্ট্রপতি পাবনায় মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অংশগ্রহণ, সাংবাদিকতা জীবন, শৈশবকাল নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। হাসি, আনন্দ, খুনসুটিতে মেতে ওঠেন তাঁর প্রিয় বন্ধু ও সাংবাদিকদের সঙ্গে।
তিনি এমন আনন্দঘন আড্ডা মিস করেন বলেও জানান। আড্ডার ফাঁকে রাষ্ট্রপতি তাঁর প্রিয় খাবার চিড়া ভাজা, সিঙ্গারা, আলুর চপ খান সাংবাদিকদের সঙ্গে। সাথে নিয়ে নিয়ে আসছিলেন স্কুল জীবনের চার বন্ধু ও রনাঙ্গনের সহযোদ্ধাকে। হাস্যজ্জল মুখে সকলের নাম ধরে ধরে ডেকে সাংবাদিকদের সাথে কুশল বিনিময় করেন তিনি।
স্মৃতিচারণ করেন তার সাংবাদিকতা জীবনের। পাবনা প্রেসক্লাবের দীর্ঘ বছরের ঐতিহ্য তুলে ধরে স্মরণ করেন প্রয়াত সদস্যদের। সাংবাদিকতা ও নিজের রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরে কথা বলেন তিনি। তার বন্ধুদের মুখে উঠে আসে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথা।
ঘনিষ্ঠ চার বন্ধুর কথাতে স্কুল জীবনের টিফিনের বাক্স থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের ভয়াল দিনগুলোতে পালিয়ে থাকা, আঁধার রাতে অস্ত্র কাঁধে চাঁদের সাথে কথা বলতে বলতে মুক্তিযোদ্ধাদের হেটে যাওয়াসহ হাতিয়ার উঁচিয়ে যুদ্ধের সময়ের অস্ত্রের ঝনঝনানীর গল্প উঠে আসে এই আড্ডায়।
জয়বাংলার লোক বলে ভারতে বাস ট্রেনে ভাড়া না দিয়ে যাতায়াত করা। ভারত থেকে ফেরার পথে কুষ্টিয়ায় রাজাকারদের হাতে ধরাপরা ও ছার পাওয়া। সম্মূখ যুদ্ধের সময় সহযোদ্ধাদেরকে হারানোর স্মৃতি প্রাধান্য পায় আড্ডায়। উচ্চারিত হয় প্রেসক্লাবের আগামী দিনের উন্নয়ন ও সম্ভাবনার কথা।
এ সময় স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেন, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক শিবজিত নাগ, সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিউল ইসলাম রবি, স্কয়ার গ্রুপের পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু, বীর মুক্তিযোদ্ধা বেবী ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার মাহবুব এলাহী বিশু, বীর মুক্তিযোদ্ধা মুক্তার হোসেন, প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল মতীন খান, প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান, সাংবাদিক নরেশ মধু প্রমুখ।
এর আগে রোববার সকালে রাষ্ট্রপতি আরিফপুর সদর কবরস্থানে তার বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন। আজ সোমবার সকালে পাবনা সদরের ভবানীপুর মসজিদ পরিদর্শন করবেন রাষ্ট্রপতি। সন্ধ্যা সাতটায় শহরের জুবলি ট্যাংক এলাকার নিজ বাসভবনে যাবেন।
আগামীকাল মঙ্গলবার পাবনা সার্কিট হাউজে গার্ড অব অনার গ্রহণ শেষে বঙ্গভবনের উদ্দেশ্যে হেলিকপ্টার যোগে রওনা দেবেন রাষ্ট্রপতি। গত শনিবার দুপুরে হেলিকপ্টারযোগে পাবনায় যান রাষ্ট্রপতি। নতুন সরকার গঠনের পর নিজ জেলা পাবনায় রাষ্ট্রপতির এটাই প্রথম সফর।
ভোরের আকাশ/ র.ই