৬৫ শতাংশ গ্রাহক বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বাইরে থাকছেন : তথ্যমন্ত্রী

প্রায় ৬৫ শতাংশ প্রান্তিক বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীকে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবমুক্ত রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। শনিবার (৬ জুন) সচিবালয়ে সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেছেন, বিদ্যুতের সাম্প্রতিক মূল্য সমন্বয়ের ফলে দেশের অধিকাংশ নিম্নআয়ের ও সাধারণ গ্রাহকের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়বে না। মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তের আওতার বাইরে তাদের রাখা হয়েছে।
এ সময় তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা বিবেচনায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) তাদের নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিদ্যুতের দাম পুনর্নির্ধারণ করেছে। তবে সরকারের লক্ষ্য ছিল নিম্নআয়ের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করা। সে কারণে মূল্য সমন্বয়ের পুরো চাপ সাধারণ গ্রাহকদের ওপর না পড়ে অপেক্ষাকৃত উচ্চ ব্যবহারকারী ও সচ্ছল শ্রেণির গ্রাহকদের দিকে বেশি কেন্দ্রীভূত হয়েছে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশসহ অনেক দেশ চাপের মুখে রয়েছে। তিনি মনে করেন, অতীতে দেশীয় জ্বালানি সম্পদ উন্নয়ন ও উত্তোলনে যথাযথ উদ্যোগ থাকলে বর্তমান সংকটের প্রভাব তুলনামূলক কম হতে পারতো।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে নানা ধরনের কাঠামোগত সমস্যা তৈরি হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে খাতটিকে টেকসই অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে।
সরকার বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভর্তুকি বহন করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, আর্থিক চাপ থাকা সত্ত্বেও জনগণের জন্য বিদ্যুতের মূল্য সহনীয় রাখার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে নিয়মিত তথ্য আদান-প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সরকারের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জনগণকে অবহিত রাখতে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি এবং মূল্য সমন্বয়ের কারণ ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। এ সময় তথ্য অধিদফতরের উপ প্রধান তথ্য অফিসার মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস
ভোরের আকাশ/ইউএম