বাফার গুদাম নির্মাণ কাজ ব্যাহতের চেষ্টা, ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন কৃষকেরা

সব ধরনের প্রক্রিয়া মেনে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) এর বাফার গুদাম নির্মাণের কাজ চললেও তা বন্ধের ষড়যন্ত্র চলছে। টেন্ডারে কাজ নিতে ব্যর্থ হয়ে একটি পক্ষ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানান অপপ্রচার ও হয়রাণি করায় নির্মাণাধীন উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রজেক্ট সঠিক সময়ে শেষ না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যার ফলে, সার সংরক্ষণ সংকট দেখা দিলে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারেন কৃষকেরা।
জানা গেছে, সার সংরক্ষণের জন্য নির্মাণাধীন চারটি বাফার গুদামের কাজ পায় মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রথমে লালমনিরহাট, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট ও দিনাজপুরের গুদাম নির্মাণ কাজ পায়। যা হস্তান্তর করার কথা রয়েছে চলতি বছরের অক্টোবরে। নির্ধারিত সময়ে কাজটি হস্তন্তরে পুরোদমে চলছে কাজ। প্রতিটি গুদাম নির্মাণ বরাদ্দ ৫৯ কোটি টাকার কিছু কমবেশি।
সবশেষ সম্প্রতি একই প্রতিষ্ঠান ঠাকুরগাঁওয়ের গুদাম নির্মাণের কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে সর্বনিন্ম দরদাতা হিসেবে কাজটি পান। এ কাজের নোটিশ অব এ্যাওয়ার্ড (নোয়া) দেয়া পর থেকেই একটি মহল প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে প্রচারণা চালাচ্ছে।
অভিযোগের মধ্যে বলা হচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ক্যান্টনমেন্টের মইনুল রোডের তৎকালীন বাসভবন ভেঙে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন জড়িত ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, অভিযোগটি একেবারেই ভিত্তিহীন।
ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী, ওই কাজটি বাস্তবায়ন করেছিল ইউনাইটেড কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ২০১১ সালের ২৬ জুন সিইএ/ ১৭১/২০১০–২০১১ স্মারকে প্রতিষ্ঠানটি কাজের অনুমোদন পায়।
ওয়ার্ক কম্পিলিটেশন সার্টিফিকেট অনুযায়ী দেখা যায়, সিইএ/১৫৪/১২–১৩ নং স্মারকে মজিদ সন্স ২০১৩ সালের ১২ মার্চের যে কাজের ওয়ার্ক অর্ডারটি পায় সেটি মইনুল রোডের আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের পেছনে বেগম খালেদা জিয়ার তৎকালীন বাড়ির বেশ দূরে একটি ভবন নির্মাণের কাজ।
এছাড়া মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন ওই ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করে ২০১৩ সালে, যা খালেদা জিয়ার বাড়ি ভাঙা ও নতুন ভবন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রায় এক বছর পর।
৩৪টি বাফার গুদাম নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. মঞ্জুরুল হক বলেন, “যোগ্যতার ভিত্তিতেই মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন (এমএসসিএল)কে কাজ দেওয়া হয়েছে। এখানে নিয়মের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।”
মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ হোসেন বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে একটি গ্রুপ পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করছে। বেগম খালেদা জিয়ার বাড়ি ভাঙার এক বছর পর আমরা ওই সড়কের অন্য একটি ভবনের কাজ করেছি। যা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর তৎকালীন বাড়ির বেশ দূরে। কিছু লোক অনিয়মের মাধ্যমে বাফার গুদাম নির্মাণের কাজটি নিতে চেয়েছিল, কিন্তু ব্যর্থ হয়ে এখন আমাদের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা নানান হয়রাণি করার কারণে পুরো প্রকল্পের নির্মাণ কাজ পিছিয়ে যাচ্ছে।”
এদিকে, সার সংরক্ষণাগার সঠিক সময়ে নির্মিত না হলে যার খেসারত দিতে হতে পারে সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষককে।
ভোরের আকাশ/এনএস