অবকাঠামো খাতে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, পানি সরবরাহ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীনের অন্যতম বৃহৎ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন (সিআরসিসি)। এ ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেল কিংবা সরাসরি বিনিয়োগের মাধ্যমে কাজ করার আগ্রহ জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলনকক্ষে সিআরসিসির চেয়ারম্যান (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) দাই হেগেনের নেতৃত্বে আসা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে স্থানীয় সরকার বিভাগের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সভায় এসব বিষয় উঠে আসে। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাঃ আবদুস সালাম, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহা. মনিরুজ্জামানসহ স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বাংলাদেশের বিস্তৃত স্থানীয় সরকার কাঠামো ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), ওয়াসা, সিটি করপোরেশন ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান দেশজুড়ে অবকাঠামো উন্নয়ন, পানি সরবরাহ, ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কাজ করছে।
তিনি জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে ৫ শতাধিক উপজেলা পরিষদ, ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, প্রায় ৪ হাজার ৯০০টি ইউনিয়ন পরিষদ ও ৬১টি জেলা পরিষদ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সারা দেশে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পে পিপিপি মডেল, চীনা সরকারের সরাসরি অর্থায়ন কিংবা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে চীনা কোম্পানিগুলোর কাজ করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পানি সরবরাহ, সড়ক ও সেতু নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে চীনের অবদানের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সিআরসিসির প্রতিনিধিদলের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাংলাদেশের গ্রামকে শহরে রূপান্তরের পরিকল্পনা এবং সার্বিক অবকাঠামো পুনর্গঠনে প্রতিষ্ঠানটির আধুনিক প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও ওয়াসার অধীনে নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহ, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ এবং সেতু-কালভার্ট নির্মাণে পিপিপি মডেল কিংবা সরাসরি বিনিয়োগের মাধ্যমে সিআরসিসি এগিয়ে এলে স্থানীয় সরকার বিভাগ সব ধরনের সহযোগিতা দেবে। উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন সহজ করতে সরকারও পূর্ণ সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
অন্যদিকে চীনা প্রতিনিধিদলের প্রধান সিআরসিসির চেয়ারম্যান দাই হেগেন জানান, বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রায় ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্পদসমৃদ্ধ সিআরসিসি দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক নির্মাণ ও ঠিকাদারি খাতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ২৪টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে কক্সবাজার রেল সংযোগ, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু এবং নদীর তীর পুনরুদ্ধার ও অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প।
দাই হেগেন আরও বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সৌরবিদ্যুৎ এবং গ্রামীণ এলাকায় আর্সেনিকমুক্ত নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে নিজস্ব উদ্ভাবনী প্রযুক্তি নিয়ে বাংলাদেশে কাজ করতে আগ্রহী সিআরসিসি।
বাংলাদেশের গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের সুষম উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি ও বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে কাজ অব্যাহত রাখার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
ভোরের আকাশ/জেআ