শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে থাকছে না দলীয় প্রতীক

মাজাহারুল ইসলাম

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে থাকছে না দলীয় প্রতীক। নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন ও স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার প্রথমে অধ্যাদেশ জারি করে দলীয় প্রতীক বাতিল করে। সেই ধারাবাহিকতায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার সংসদে বিল পাসের মাধ্যমে বিষয়টি স্থায়ী আইনি রূপ দিয়েছে। আইনি কাঠামোতে বড় এই পরিবর্তনের ফলে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিটি করপোরেশন পর্যন্ত নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের আনুষ্ঠানিক পথ বন্ধ হচ্ছে- এমনটাই মনে করছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞসহ রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নাগরিক সমাজ।

তাদের মতে, নির্দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলে দলীয় সংঘাত কম হয় এবং সাধারণ মানুষ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ে আবদ্ধ না থেকে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাবনা, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নির্দলীয় হওয়া গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এক নতুন মোড়। এটি যোগ্য নেতৃত্বের জন্য সুযোগ তৈরি করছে। আগামী দিনের নির্বাচনে এই প্রবণতা বজায় থাকলে স্থানীয় সরকারের কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসা কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্রÑ  মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গত ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে ‘স্থানীয় সরকার ইউনিয়ন পরিষদ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘জেলা পরিষদ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘পৌরসভা (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ এবং ‘সিটি করপোরেশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন ও কণ্ঠভোটে পাস হয়।

সংশোধিত আইন অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারবে না। সব প্রার্থীই হবেন নির্দলীয়-যা বর্তমানে ‘স্বতন্ত্র’ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের স্থানীয় সরকারব্যবস্থার পাঁচটি স্তরেই (ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন) এই পরিবর্তন কার্যকর হবে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, এবার সরকারের গ্রিন সিগন্যাল পেলেই ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোর আয়োজন করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতীক সংখ্যায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক সংকট কাটাতে একসঙ্গে বেশ কিছু প্রতীক যুক্ত করে বিধিমালা সংশোধন করে নির্বাচন কমিশন। তখন স্থানীয় নির্বাচনের বেশ কিছু প্রতীক জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহার হয়। এ জন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিধিমালা সংশোধন করে প্রতীকের সংখ্যা বাড়ানোর কথা ভাবছে ইসি। একই সঙ্গে দলীয় যত প্রতীক আছে সেগুলো স্থানীয় নির্বাচনের তালিকা থেকে বাদ দেবে সংস্থাটি।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বারবার প্রতীক বৃদ্ধি নিয়ে জটিলতা এড়াতে ৬৯টি প্রতীক থেকে ১১৯টি প্রতীকে উন্নীত করা হয়। ৫০টি নতুন প্রতীক সংসদ নির্বাচনে যুক্ত করা হয়, যার বেশির ভাগ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতীকের তালিকা থেকে নেওয়া। এছাড়া নতুন করে কিছু প্রতীকও যুক্ত করা হয়। এভাবে প্রতীক বৃদ্ধির ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতীকের তালিকায় কিছু শূন্যতা দেখা দিয়েছে। সেই শূন্যতা পূরণের লক্ষ্যে এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতীক সংখ্যা বাড়ানো হবে। এছাড়া যেহেতু সংসদে অধ্যাদেশ পাস হয়েছে, এজন্য সব দলীয় প্রতীকও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতীকের বিধিমালা সংশোধনের সময় বাদ দেওয়া হবে।

তারা আরও জানান, সংসদে অধ্যাদেশ পাস হওয়ায় এখন নিশ্চিত যে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হবে। এখন স্বাভাবিকভাবে কিছু আইন ও বিধি সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। সরকার থেকে নির্বাচন আয়োজনের কোনো সিদ্ধান্ত জানানো না হলেও কিছু পরিকল্পনা আগে থেকেই করে রাখতে চায় ইসি। যাতে কোনো সিদ্ধান্ত আসামাত্র নির্বাচনের আয়োজন করা যায়।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতীকের সংখ্যা বৃদ্ধি ও পরিকল্পনা প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আমরা এখনো স্থানীয় নির্বাচনের পরিকল্পনা নিয়ে কোনো আলোচনা করিনি। তবে সংসদে অধ্যাদেশ পাস হয়েছে। এ কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতীকের বিধিমালা থেকে সকল দলীয় প্রতীক বাদ যাবে।

সংসদ নির্বাচনের প্রতীক সংখ্যা বাড়াতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতীক থেকে নেওয়া হয়েছে-এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতীকে ঘাটতি দেখা দিয়েছে কি না এবং প্রতীক বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা আছে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা এখনো কোনো আলোচনা করিনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতীক থেকে কতগুলো নেওয়া হয়েছে, তা পর্যালোচনা করে যদি বাড়ানোর প্রয়োজন হয়, তাহলে করা হবে; আর প্রয়োজন না হলে করা হবে না।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, দলীয় প্রতীকের বাইরে থাকায় একটা সময় স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় ছিল এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ কম ছিল। তবে যখন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক যুক্ত করা হয়, তখন সহিংসতা ও সংঘাতের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। রাজনৈতিক মেরুকরণ তীব্র হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে ঝগড়া-বিবাদ ও সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়।

নতুন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, দলীয় প্রতীক বাতিল হওয়ায় আবারও নির্দলীয় পরিবেশে নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ এসেছে। এতে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নতুন করে অংশগ্রহণের সম্ভাবনাও দেখা দেবে। তবে বাস্তবে সব দল সমানভাবে অংশ নিতে পারবে কি না, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গির ওপর।

ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ইউনিয়ন পরিষদ ৪ হাজার ৫৮১টি। এর মধ্যে চলতি বছরেই নির্বাচন উপযোগী হবে ৩ হাজার ৭৫৫টি, আর আগামী বছরে উপযোগী হবে ৩৪৯টি। এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভেঙে দেওয়া ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৫টি উপজেলা, ১২টি সিটি করপোরেশন ও ৬১টি জেলা পরিষদ বর্তমানে নির্বাচন উপযোগী অবস্থায় রয়েছে।

ইসি নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠান নির্বাচন উপযোগী হলেও তা নির্ভর করে সরকারের ওপর। সরকার চাইলে নির্বাচন আয়োজন করবে কমিশন। এরই মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে নির্বাচন করার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ইসিতে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তবে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, কেবল আইন পরিবর্তনই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সুশাসন ফেরানোর জন্য যথেষ্ট নয়। তার মতে, দীর্ঘদিনের ‘দলীয়করণ সংস্কৃতি’র ফলে ব্যবস্থার যে গভীর ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, যখন প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ে, তখন যোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। তাই দলগুলোকে সত্যিকার অর্থেই আন্তরিক হতে হবে যাতে নির্বাচনটি পুরোপুরি নির্দলীয় থাকে।

বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এখন রাজনৈতিক বিভক্তি প্রতিটি ঘরে পৌঁছে গেছে। এই অবস্থায় সরকার যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের সদিচ্ছা দেখায় এবং দলগুলো যদি অনানুষ্ঠানিক মনোনয়ন থেকে বিরত থাকে, তবেই একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকে।

ভোরের আকাশ/এসএইচ

 

দলীয় প্রতীক

শেয়ার করুন: