সরকার ছাড়ছেন ফখরুল, রদবদল হবে মন্ত্রিসভায়

সরকার ও বিএনপি থেকে পদত্যাগ করছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হতে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি সরে গেলে মন্ত্রিসভায়ও রদবদল করা হবে। তার মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে নতুন মন্ত্রী নিযুক্ত করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভায় নতুন সদস্য যুক্ত হতে পারেন।
প্রসঙ্গত, ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আজ বৃহস্পতিবার মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন। বিএনপি দুটি মনোয়ন ফরম কিনেছে- একটি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্য এবং অন্যটি ডামি প্রার্থী হিসেবে একজন থাকছেন। তবে আপাতত তার নাম জানা যাচ্ছে না। কোনো কারণে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল হলে ডামি প্রার্থীকেই মূল প্রার্থী করবে বিএনপি।
বিএনপি এক শীর্ষ নেতা বলেন, সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও বর্ষীয়ান রাজনীতিক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে আজ সকালেই মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি দলের পদ থেকেও সরে দাঁড়াচ্ছেন।
সরকার থেকে পদত্যাগ: সংবিধান অনুযায়ী, একজন মন্ত্রী স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে চাইলে তাকে স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র প্রধানমন্ত্রী বরাবর জমা দিতে হয়। প্রধানমন্ত্রী সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলে বা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠালে মন্ত্রিত্বের অবসান ঘটে।
দল থেকে পদত্যাগ: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, দলের যেকোনো সাধারণ সদস্য বা পদধারী নেতা দলীয় চেয়ারম্যানের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠানোর মাধ্যমে দল থেকে পদত্যাগ করতে পারেন। মহাসচিব বা যেকোনো কেন্দ্রীয় নেতার পদত্যাগের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। তাকে দলের সর্বোচ্চ প্রধান বা চেয়ারম্যান বরাবর পদত্যাগপত্র পাঠাতে হয়। সাধারণত চেয়ারম্যান বা সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার পর তা কার্যকর বলে গণ্য হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলামের মতো একজন দক্ষ প্রশাসক ও রাজনীতিবিদ যদি রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হন, তবে তা দেশের গণতন্ত্রের জন্য নতুন মাইলফলক হতে পারে। দলীয় পর্যায়ের আলোচনায় রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নাম বিবেচনার ক্ষেত্রে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দলের প্রতি আনুগত্য এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্যতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা গেছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, পরে পূর্ণমন্ত্রী হয়েছেন। এক দশকের বেশি সময় ধরে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির মহাসচিব। এ দীর্ঘ সময়ে তার বিরুদ্ধে করা হয়েছিল ১১১টি মামলা। কারাগারে যেতে হয়েছে ১১ বার। প্রায় সাড়ে তিন বছর বন্দি ছিলেন। এসব বিবেচনায় উঠে আসছে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে মির্জা ফখরুলের নাম। গত ১ আগস্ট গুলশানে দলের চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির এক বৈঠক হয়। সেখানে দীর্ঘ আলোচনার পর রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ছেড়ে দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।
পারিবারিক ইতিহাস: ১৯৪৮ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রয়েছে বর্ণাঢ্য পারিবারিক ইতিহাস। তার বাবা রুহুল আমিন (চখা মিয়া) ছিলেন কৃষি প্রতিমন্ত্রী। তার বড় চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ ১৯৭৮ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত ভূমিমন্ত্রী এবং ১৯৭৯ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১-৯৬ সাল পর্যন্ত আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
মন্ত্রিসভায় আসছে রদবদল: মন্ত্রিসভায় রদবদল কিংবা দপ্তর পুনর্বণ্টন নিয়ে সরকারের অভ্যন্তরে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে নানা সমীকরণ। এসব সমীকরণ মিলালে যে চিত্র দাঁড়ায় সেটি হলো, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আসতে পারেন বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এই সম্ভাবনার বিকল্প হিসেবে বর্তমান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম পুরো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বলেও শোনা যাচ্ছে। সরকার গঠনের শুরুতেই স্থানীয় সরকারমন্ত্রী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
সূত্র জানায়, সালাহউদ্দিন আহমদ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে গেলে সেক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বর্তমান পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুকের নামও আলোচনায় রয়েছে। শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি স্বরাষ্ট্রে গেলে পানিতে আসতে পারেন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। আর টেকনোক্র্যাট কোটায় ওই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দেখা যেতে পারে রুহুল কবির রিজভীকে। এছাড়া, দপ্তর বদল হয়ে অন্য একটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী যেতে পারেন পানিসম্পদের দায়িত্বে। আরেকজন মন্ত্রী নিজের বর্তমান মন্ত্রণালয় থেকে যেতে পারেন খালি হওয়া ওই মন্ত্রণালয়ে।
এছাড়া, নতুন করে চার-পাঁচ জনের মন্ত্রিসভায় যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে। তবে, দপ্তর পুনর্বণ্টন এবং মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার এই আলোচনা এখনো সম্ভাব্য। বিষয়টি নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের ওপর।
বিএনপির মহাসচিব: বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত হওয়ার ফলে দলে তৈরি হচ্ছে নতুন সমীকরণ। বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্থাৎ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তির দায়িত্ব কে পাচ্ছেন, কে হচ্ছেন মহাসচিব- এমন আলোচনা জোরালো হচ্ছে দলের ভেতরে। দলের সাংগঠনিক কাঠামো এই পদের ওপর নির্ভর করে। বিভিন্ন গ্রুপ-উপগ্রুপ, কট্টরপন্থা-মধ্যপন্থাসহ সব বিভাজন দূরে সরিয়ে সংগঠনকে এক সুঁতোয় গেঁথে রাখার মূল দায়িত্বটুকু পালন করতে হয় মহাসচিবকেই। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, দলের কাউন্সিলসহ অদূর ভবিষ্যতের নানা ইস্যু ঘিরে মহাসচিব পদটি অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করছে।
দলটির গঠনতন্ত্র মতে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি পদে বৈধ প্রার্থী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হচ্ছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে সফলতার সঙ্গে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি।
একইসঙ্গে দলের সবচেয়ে বিশ্বস্ত এবং সাহসী মুখ হিসেবে রুহুল কবির রিজভীই হাইকমান্ডের পছন্দের তালিকায় রয়েছেন। রিজভীই হচ্ছেন বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব-দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও অর্থমন্ত্রী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নামও মহাসচিব পদে জোর আলোচনায় রয়েছে। তবে সরকারে এ দুজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের কাজে ব্যস্ত থাকায় সাংগঠনিক দিকটি দেখার ভার সরকারের বাইরের কোনো দলীয় নেতাকে দেওয়া সম্ভাবনাই বেশি বলছেন দলটির একাধিক নেতা।
আবার রুহুল কবির রিজভীকে মহাসচিব করা হলে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদটি কাকে দেওয়া হবে, সেটি নিয়েও আলোচনা চলছে। এক্ষেত্রে যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও হাবিব উন নবী খান সোহেলের নাম আলোচনায় রয়েছে বলেও দলটির সূত্রে জানা যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য জানান, রিজভী আহমেদ দলের দুঃসময়ে অতন্দ্র প্রহরীর কাজ করেছেন। তার এই ত্যাগ ও নিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে এই বড় দায়িত্ব দেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। তবে বিশ্বস্ততার পুরস্কার হিসেবে পরবর্তী সময়ে দলের কাউন্সিলের মাধ্যমেই মহাসচিবের দায়িত্ব পাচ্ছেন রুহুল কবির রিজভী।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমি দলের প্রতি শতভাগ আনুগত্য প্রকাশ করেই কাজ করছি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া নির্দেশে কাজ করেছি এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশেই এখনও দলের নেতাকর্মীদের পাশে আছি। তিনি বলেন, দল আমাকে দায়িত্ব দিলে তখন বলা যাবে, চিন্তা করব।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা বলেন, রুহুল কবির রিজভী বিএনপির রাজনীতিতে একজন আপসহীন নেতা হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে গত দেড় দশকে দলের কঠিন সময়ে তিনি নয়াপল্টন কার্যালয়কে কেন্দ্র করে দলের কার্যক্রম চাঙ্গা রেখেছেন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের রোষানলের শিকার হয়ে বারবার কারাবরণ করতে হয়েছে। শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি দলের কেন্দ্রীয় দপ্তরের দায়িত্ব পালন এবং নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন করে দেশ-বিদেশের মিডিয়ার মাধ্যমে দলটির কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের জাগ্রত রেখেছেন। ফলে, দলের সাধারণ কর্মীদের মধ্যে তার একটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
সাম্প্রতি রুহুল কবির রিজভীর অদম্য সাহসিকতা ও দলের প্রতি নিঃস্বার্থ আনুগত্যের কথা উঠে দলের শীর্ষ ফোরামের বৈঠকে। বিএনপির চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে বৈঠকে আলোচনাকালে শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা বলেন, নয়াপল্টন কার্যালয়ে দিনের পর দিন অবস্থান করে রিজভী যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল। দমন-পীড়নের মুখেও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দলের কণ্ঠস্বর সচল রাখা এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য রিজভীকে তিনি ‘সংগ্রামের প্রতীক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
পদ-পদবির চেয়ে দলের প্রতি আনুগত্য এবং জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অবিচল থাকাই প্রকৃত নেতার কাজ, যেটি করেছেন রুহুল কবির রিজভী। দীর্ঘ সংগ্রামের পর এই নেতার অবদানকে শীর্ষ পর্যায় থেকে স্বীকৃতি দেওয়াকে দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্র ও কৃতজ্ঞতাবোধের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন দলটির নেতাকর্মীরা।
কর্মীদের মতে, রিজভী আহমেদ হলেন রাজপথের লড়াকু সৈনিক, যাকে দলের যেকোনো প্রয়োজনে পাশে পাওয়া যায়। দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর সুপরিচিত ও কর্মীবান্ধব নেতা রুহুল কবির রিজভী। এমনকি রাজধানী থেকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নেতাকর্মীদের কাছে রাজধানীর নয়াপল্টস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় অফিস মানেই রুহুল কবির রিজভী।
দলের সূত্রের মতে, জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পাচ্ছেন রুহুল কবির রিজভী। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি জানান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব দায়িত্ব পাওয়ার ব্যাপারে কোনো তথ্য নেই। এখনো আমি এসব বিষয়ে কিছুই জানি না। দলের ভেতর থেকেও আমাকে কিছু বলা হয়নি।
রিজভীর রাজনৈতিক সংগ্রামের সংক্ষিপ্ত বিবরণ: রাজনীতিতে হার না মানা এক আপসহীন যোদ্ধার নাম রুহুল কবির রিজভী। এরশাদবিরোধী ছাত্র-শ্রমিক আন্দোলনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ-বিডিআরের ছোড়া থ্রি নট থ্রি রাইফেলের গুলি যার পেট দিয়ে ঢুকে পিঠ ভেদ করে চলে গেছে। যে ক্ষত তিনি আমৃত্যু বয়ে চলছেন কিন্তু এতটুকু দমে যাননি কখনো। বিএনপির ক্রান্তিকালে, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের চরম দমন-পীড়ন ও গ্রেপ্তারের মাঝেও তিনি রাজপথে নিজেকে মেলে ধরেছেন অনন্য মহিমায়। রাজনীতির মাঠে কখনো পাওয়া না পাওয়ার হিসাব রিজভী ভাইকে দমাতে পারেনি। রাজনীতিতে ‘কমিটমেন্ট’ শব্দটা ভাইয়ের হৃদয়ে বড়ই প্রকট, যে কারণে আন্দোলনের দিনগুলোতে তিনি হরতাল বা অবরোধের ঘোষণা দিয়ে সীমাবদ্ধতার ভেতরেও (তখন অনেক নেতাই ফোন বন্ধ রাখতো) ঘরে না বসে থেকে যতটুকু পেরেছেন লোক বল নিয়ে রাজপথে থেকেছেন। প্রায় প্রতিদিন মিছিল করে দলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রেখেছেন। শুধু ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে কারাভোগ করেছেন ৯ বার। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে কারাভোগ করেছেন ৭ বার।
আপসহীন দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া যতদিন কারান্তরীণ ছিলেন, রিজভী ভাই ঘোষণা দিয়েছিলেন পার্টি অফিসকে আগলে রাখবেন, তিনি তার কথা থেকে বিচ্যুত হননি। ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ১৯ ও ২০ এই সালগুলোতে পার্টি অফিসের সামনে কেউ গেলেই ডিবি পুলিশ তাদেরকে তুলে নিত, সিনিয়র নেতৃবৃন্দ প্রয়োজন ছাড়া অফিসের দিকে আসতেন কম। কিন্তু সারা দেশের তৃণমূলের নেতাকর্মী পার্টি অফিসে এসে সব সময় রুহুল কবির রিজভীকে পেয়েছেন। ১/১১-এর সেনাসমর্থিত সরকারের সময়ে দল যখন সংস্কারপন্থিদের খপ্পরে পরে সে সময়ও তিনি দলের হাল ধরেন। এক কথায় বলা যায়, বিএনপির রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম রুহুল কবির রিজভী।
ভোরের আকাশ/এসএইচ