শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

শেখ হাসিনা ফিরলে ‘সুবিচার নিশ্চিত করা হবে’: তথ্য উপদেষ্টা

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬, ৫:০৪ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণকে ‘স্বাগত’ জানানো হবে বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

সরকারের কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি জানাতে মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ফিরে এলে ‘সুবিচার নিশ্চিত করা হবে’।

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান, পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের।

মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাব্যুনাল ইতোমধ্যে শেখ হাসিনা ও তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।

সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন।

দেশে ফেরা নিয়ে শেখ হাসিনার এই ঘোষণাকে সরকার কীভাবে দেখচ্ছে, এক সাংবাদিককের এ প্রশ্নে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “ওনার আসার ব্যাপারে আমরা যেহেতু চেষ্টা করছি, উনি যদি আসেন আমরা তাকে স্বাগত জানাব। আমরা কিন্তু শুরু থেকে একটা কথা, তাকে স্বাগত জানাচ্ছি বলে অনেকে এবার ফটোকার্ড করে বলবেন আমরা ওনাকে খুব স্বাগত জানাচ্ছি।

“আমরা সুবিচার, আবার ওই কথাটা আগে একদিন বলেছিলাম, তার জন্য সুবিচার নিশ্চিত করতে চাই। তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে, তিনি আসবেন, তিনি আসলে তাকে আমরা যদি প্রত্যর্পণ করে আনতে পারি, আমরা তো সেই চেষ্টাই করছি।”

তিনি বলেন, “উনি আসলে তো, আমাদের সাথে দুই পক্ষে যোগাযোগ হয়ে যদি আসেন ফাইন। উনি মামলা ফেইস করবেন, মামলার জন্য আইসিটিতে এখন বিদেশী আইনজীবী আনারও সুযোগ আছে, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম আইনজীবী তিনি আনুন। তিনি তাকে ডিফেন্ড করার চেষ্টা করুন।

“ওখানে পর্যবেক্ষক রাখা যায়, ওখানে ভিডিও ক্যামেরা রাখা যায়, এতটাই আধুনিক করা হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই আইসিটি (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল) আইনকে, একেবারে স্বচ্ছ বিচারের মাধ্যমে সব প্রক্রিয়া চলবে। এই দেশের জনগণ যেটা চায়, তিনি যে অপরাধ করেছেন, যে মৃত্যুদণ্ড আছে সেটা যেন বহাল থাকে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে সেটাও জনগণ দেখতে চায়।”

জাহেদ উর রহমান বলেন, “আবার বলছি আমরা তো আদালতে গেছি। আদালতে তিনি যদি প্রমাণ করতে পারেন তিনি অপরাধী নন। আদালত যদি শেষ পর্যন্ত তাকে অন্য কোন শাস্তি দেয় অথবা তাকে খালাস দেয়। সেটাও হবে।

“সুতরাং সুবিচার এভাবেই হতে হয়। সেজন্য আসছে। সেজন্যই বলছি এটা। আমরা এই কারণে ওয়েলকাম করি। কারণ আমরা সুবিচার নিশ্চিত করতে চাই। আমাদের সবচেয়ে বড়, যে আমাদের এই রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে ফেলেছে বলে আমরা বিশ্বাস করি তাকেও আমরা সুবিচার দিতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “আর ভূ-রাজনীতির দিক থেকে এটা কোন ইস্যু বলে আমি মনে করি না। আসলে ওই যে, এই যে দেখুন, আমরা এতক্ষণ আলোচনা করছি, একেবারে অপ্রাসঙ্গিক একজন মানুষ। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি। এই যে উনি (শেখ হাসিনা) প্রাসঙ্গিক হলেন, এই যে কথাবার্তা বিভিন্ন জায়গায় হল ওনার কোনো না কোনো ভাবে। কারণ ওনার কোনো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এই দেশে আছে বলে… আমি শুধু আমার কথা বলছি না, আমি এমনকি যারা আওয়ামী লীগের প্রতিও কিছু সহানুভূতিশীল।”

তিনি বলেন, “আমাদের চারপাশে পরিচিত মানুষ আছে, তো তারাও মনে করেন না যে ওনার (শেখ হাসিনা) কোনো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আছে। সুতরাং এটাকে আমি কোনো চাপ বা কোনো সমস্যা কিছু বলে মনে করি না। উনি যদি আসেন, আমরা তো চাপের প্রশ্ন কেন? আমরা তো চাইছি উনি আসুন, আমরা তো ওনাকে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি প্রত্যার্পণ করার চেষ্টা করছি।

“যদি এমন হতো, যেন আমরা চাইছি উনি ওখানেই থাকুন উনি এখন আসবেন বলে আমরা চাপে পড়ে গেছি, ব্যাপারটা তার এইরকম। এবং শুধু অন্তর্বর্তী সরকার না, এই সরকার গতকাল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন এই সরকারও ভারতের কাছে শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণ চেয়েছে, সুতরাং তিনি সেটা বলায় আসলে চাপের কিছু নেই।”

জাহেদ উর রহমান বলেন, “উনি আসলে কীভাবে আসবেন প্রক্রিয়াটা ঠিক হয়ে যাবে। আমি জানি না, উনি কীভাবে কী করবেন। উনি ওখানে কীভাবে আছেন এগুলো ওই রাষ্ট্র জানে, উনি যদি আসতে চান ওই রাষ্ট্র আমাদের রাষ্ট্রের সাথে কথাবার্তা বলে ব্যবস্থা করবে। ওটা প্রক্রিয়া, পদ্ধতিগত ব্যাপার আটকে থাকবে না।

“সরকারের নীতিগত অবস্থান তো তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা। সরকার তার আসার ব্যাপারে তাকে আমরা সুবিচারের অধীন করতে চাই। সুতরাং উনি যদি আসতে চান সরকার স্বাভাবিক যুক্তিতেই তাকে সাহায্য করার কথা।”

তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার নিয়ে অনেকেই সরকারের অবস্থান জানতে চাইছেন। কিন্তু বিষয়টি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং আদালতের আদেশ। নির্বাহী বিভাগ হিসেবে আদালতের নির্দেশনা কার্যকর করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

“এটি সরকার দেয়নি, আদালত দিয়েছে। কেউ যদি মনে করেন, এই সিদ্ধান্তে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে, তাহলে আদালতেই তা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ রয়েছে। আদালত যদি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেন, তাহলে সেটি আর বহাল থাকবে না।”

আরও পড়ুন

নীলফামারীতে পরিবহন শ্রমিকদের মানববন্ধন

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাস্তবতায় বিভিন্ন বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে। তবে আদালতের নির্দেশনা অমান্য না করার বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। রাষ্ট্রের আইনের প্রতি সম্মান দেখানোই সবার দায়িত্ব।

“দেশে বিচারক ও আদালতের সংখ্যা এখনও প্রয়োজনের তুলনায় কম। উচ্চ আদালতের কার্যক্রম ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়াসহ নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।”

ভোরের আকাশ/এনএস

তথ্য উপদেষ্টাশেখ হাসিনাসুবিচার নিশ্চিত করা হবে

শেয়ার করুন: