পহেলা ফাল্গুন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস আজ

শীতের নীরস প্রকৃতি ও কুয়াশাচ্ছন্ন মৌন দিনগুলো যখন বিদায় নিতে শুরু করে, তখনই দখিনা বাতাস নিয়ে আসে এক স্নিগ্ধ ও ফুরফুরে বসন্ত। নতুন বাতাসে ঝরা পাতারা বিদায় নিতে শুরু করে।
প্রকৃতি জেগে ওঠে নতুন রঙে, ফুলে, সুরে, কলতানে। এত ফুল, এত রং, এত সুর, দখিনের বাতাসে ভর করে দোলা দিয়ে যায় বাঙালির চোখে-মুখে, হৃদয়ে। কী জানি এক অনুভূতিতে আকুল হয় প্রাণ। জেগে ওঠে বাঙালির ভালোবাসা আর পাওয়া না-পাওয়ার একান্ত অনুভূতি।
শিল্প-সাহিত্য, গান-কবিতাসহ নতুন কিছু সৃষ্টির জন্য এমন অনুকূল সময় বুঝি আর হয় না।
ঋতুচক্রে ফাল্গুন-চৈত্র দুই মাস বসন্তকাল—ষড়ঋতুর শেষ ঋতু। আজ সেই ফাল্গুনের প্রথম দিন বসন্তের শুরু। অর্ধযুগ আগে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের সঙ্গে বাংলা বর্ষপঞ্জির বিশেষ তারিখগুলোর সমন্বয় করার জন্য বাংলা বর্ষপঞ্জি সংস্কার করে বাংলা একাডেমি।
এর পর থেকে এখন প্রতিবছরই পহেলা ফাল্গুন পড়ছে ইংরেজি ১৪ ফেব্রুয়ারিতে। ফলে কয়েক বছর ধরেই বসন্তের শুরুর দিনটি অনেকের জন্যই হাজির হচ্ছে ‘ভালোবাসা দিবসের’ বাড়তি রং নিয়ে।
বরাবরের মতো পহেলা ফাল্গুন বা বসন্তের প্রথম দিনটি নানা আয়োজনে উদযাপিত হবে আজ শনিবার। ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে তরুণ-তরুণীরা খুঁজবে প্রিয়জনের সান্নিধ্য। বসন্তের ফুলের মতোই বাহারি ও রঙিন পোশাকে বর্ণিল হয়ে উঠবে ভালোবাসার দিনটি।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর চত্বরে ‘বসন্ত উৎসব’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে কিছুটা ভিন্ন আবহে এবার উদযাপিত হতে যাচ্ছে বসন্ত। প্রথম দিন এবার নেই চিরাচরিত একুশের বইমেলা। তাই বরাবরের মতো ফাগুনের রং ও রূপ নিয়ে নতুন বইয়ের কাছে যাওয়া হবে না নগরবাসীর।
বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী প্রতিবছর ১ ফাল্গুন ‘বসন্ত উৎসব’ আয়োজন করে থাকে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ। এ বছরও ‘বসন্ত উৎসব-১৪৩২’ আয়োজন করেছে সংগঠনটি। তবে বিগত বছরগুলোর মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় নয়। এবার বসন্ত উৎসব হচ্ছে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে।
ভোরের আকাশ/আ.র