আরপিও সংশোধন: ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাল নির্বাচন কমিশন

একক প্রার্থী থাকলে ‘না ভোট’ চালুসহ একাধিক সংশোধনী এনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ (আরপিও) সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৫ আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি জানান, সকালে আরপিও সংশোধনী অধ্যাদেশ আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে অনুমোদন পেলে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।
এর আগে গত ১১ আগস্ট অনুষ্ঠিত কমিশনের নবম সভা শেষে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছিলেন, সংশোধনীতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে অন্তর্ভুক্ত করা।
- ইভিএম সংক্রান্ত সব বিধি বাতিল।
- একক প্রার্থী থাকলে কেবল সেই আসনে ‘না ভোট’ চালু।
- প্রয়োজনে ইসি ফলাফল স্থগিত করতে পারবে।
- সমভোট হলে লটারি প্রথা বাদ দিয়ে পুনঃভোটের ব্যবস্থা।
এছাড়া খসড়ায় আরও কিছু উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব রয়েছে—
- সরকার ও ইসির মধ্যে মতবিরোধ হলে প্রাধান্য পাবে ইসির সিদ্ধান্ত।
- তফসিল ঘোষণার ৪৫ দিন আগে থেকে ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক ও পুলিশ কর্মকর্তারা ইসির অধীনে যাবে।
- সরকারি কর্মকর্তারা নির্দেশনা অমান্য করলে গোপনীয় অনুবেদন ও শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- নির্বাচনি ব্যয় তদারকির জন্য কমিটি গঠন।
- রাজনৈতিক দলের আয়-ব্যয়ের তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ।
- প্রতীক বরাদ্দের আগেই মামলার নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা।
- হলফনামায় অসত্য তথ্য দিলে ভোটের পরেও ব্যবস্থা।
- মিথ্যা অভিযোগ প্রমাণিত হলে মামলার বিধান।
আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষ হলে সংশোধিত আরপিও অধ্যাদেশ গেজেট আকারে প্রকাশিত হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
ভোরের আকাশ//হ.র