শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

নারায়ণগঞ্জ শহরে তীব্র যানজট,ভোগান্তিতে জনজীবন স্থবির

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ৩:৪৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : ভোরের আকাশ
ছবি : ভোরের আকাশ

শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জ শহরে দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে যানজট। বিশেষ করে অফিস শুরু ও শেষের সময়, স্কুল-কলেজের ছুটির সময় এবং সন্ধ্যার পর শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট, যা জনজীবনকে প্রায় স্থবির করে তুলছে। এতে করে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট হচ্ছে যাত্রীদের, বাড়ছে দুর্ভোগ ও ভোগান্তি।

শহরের চাষাঢ়া, ২ নম্বর রেলগেট, বঙ্গবন্ধু সড়ক, মণ্ডলপাড়া, কালিরবাজার, শিমরাইল মোড় ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের বিভিন্ন অংশে সকাল থেকেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি চোখে পড়ে। কোথাও কোথাও কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে, যেখানে গাড়িগুলোকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থির হয়ে থাকতে দেখা যায়। এতে করে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যানজটের মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে অবৈধ পার্কিং, সড়কের উপর হকারদের দখল, অপরিকল্পিত যানবাহন চলাচল এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে নিয়মিত ট্রাফিক পুলিশ না থাকায় অনেক চালক ইচ্ছেমতো গাড়ি চালাচ্ছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
রিকশাচালক আব্দুল করিম বলেন, “সারাদিন রাস্তায় থাকি, কিন্তু যানজটের কারণে ঠিকমতো ভাড়া পাই না। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে অনেক সময় লাগে। এতে আমাদের আয় কমে যাচ্ছে।”

অফিসগামী যাত্রী নুসরাত জাহান বলেন, “প্রতিদিন অফিসে যেতে দেরি হয়। বাসায় ফিরতেও অনেক সময় লাগে। এই যানজটের কারণে আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।”

শিক্ষার্থীরাও পড়েছে চরম বিপাকে। স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীরা সময়মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারছে না। অনেক সময় পরীক্ষা বা গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস মিস করতে হচ্ছে। অভিভাবকরাও সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

শহরের ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন। কালিরবাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, যানজটের কারণে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। সময়মতো মালামাল পৌঁছানো যাচ্ছে না, ফলে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এদিকে, যানজট নিরসনে সড়ক সংস্কার ও সম্প্রসারণের কাজ চললেও তা অনেক ক্ষেত্রে ধীরগতির। উন্নয়ন কাজের জন্য সড়কের কিছু অংশ বন্ধ থাকায় যানজট আরও বেড়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, উন্নয়ন কাজ দ্রুত শেষ না হলে এই সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করবে।

ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, “আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। অবৈধ পার্কিং ও সড়ক দখলমুক্ত করতে কাজ করছি। তবে জনসচেতনতা না বাড়লে এই সমস্যা পুরোপুরি সমাধান করা কঠিন।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, নারায়ণগঞ্জ শহরের যানজট সমস্যা সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, সড়ক সম্প্রসারণ, ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং কঠোর আইন প্রয়োগ। পাশাপাশি শহরের ভেতরে বিকল্প সড়ক তৈরি করাও জরুরি বলে তারা মনে করেন।
নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে শহরের সড়কগুলো বর্তমান যানবাহনের চাপ বহন করতে পারছে না। তাই নতুন করে পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।

সচেতন মহলের দাবি, শুধু প্রশাসনের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। সড়কে শৃঙ্খলা মেনে চলা, যেখানে-সেখানে গাড়ি পার্কিং না করা এবং ট্রাফিক আইন মেনে চললে যানজট অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

সব মিলিয়ে, নারায়ণগঞ্জ শহরের যানজট এখন একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এই সমস্যা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। নগরবাসী এখন একটি টেকসই সমাধানের অপেক্ষায়।নারায়ণগঞ্জ জেলার ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর (টিআই প্রশাসন) আব্দুল করিম বলেন, “ফুটপাত উচ্ছেদের ফলে শহরের চলাচল আগের তুলনায় অনেক বেশি সহনশীল হয়েছে এবং যানবাহনের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ধারা অব্যাহত রাখতে হলে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা যদি সবাই সচেতন হই এবং নিয়ম মেনে চলি, তাহলে খুব দ্রুতই নারায়ণগঞ্জ শহরকে যানজটমুক্ত করা সম্ভব হবে।”

ভোরের আকাশ/ এনউব

যানজট

শেয়ার করুন: