শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

মৃত্যুর আগে কি মানুষ কোনো সংকেত পায়?

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ৮ জুন ২০২৬, ৪:২৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মৃত্যু জীবনের সবচেয়ে নির্মম ও অবধারিত সত্য। রাজা-প্রজা, ধনী-দরিদ্র, তরুণ বা বৃদ্ধ—কাউকেই মৃত্যুর হাত থেকে নিস্তার পাওয়ার সুযোগ নেই। আজ থেকে এক বছর পর, এক মাস পর, আগামীকাল কিংবা আজ রাতের পর আমরা এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকব কি না, তা আমাদের কারও জানা নেই। কারণ, মৃত্যুর সময়, স্থান এবং অবস্থা একমাত্র মহান আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।

পবিত্র কোরআনে এর স্পষ্ট ঘোষণা রয়েছে:

“কোনো ব্যক্তিই জানে না আগামীকাল সে কী উপার্জন করবে এবং কোনো ব্যক্তিই জানে না কোন ভূমিতে তার মৃত্যু ঘটবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্ববিষয়ে সম্যক অবহিত।” (সূরা লোকমান, আয়াত: ৩৪)

অনেক মানুষ মনে করেন, শুধু বৃদ্ধরাই মৃত্যুর কাছাকাছি থাকেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো—কবরস্থানে যেমন ৮০ বছরের বৃদ্ধ ঘুমিয়ে আছেন, তেমনি ১৮ বছরের তরুণের লাশও রয়েছে। মৃত্যু যেমন গোপন, তেমনি এর আগমনের কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। তবে প্রশ্ন হলো—মৃত্যুর আগে আল্লাহ কি মানুষকে কোনো ইঙ্গিত দেন?

ইসলামী শিক্ষার আলোকে বলা যায়, মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট সময় গোপন রাখা হলেও আল্লাহ অনেক সময় বান্দাকে এমন কিছু সুযোগ, উপলব্ধি এবং পরিস্থিতির মুখোমুখি করেন, যা তাকে আখিরাতের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানায়। নিচে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

মৃত্যুর আগে আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা কিছু নীরব সতর্কবার্তা ও সুযোগ:
১. বার্ধক্য বা চুল পাকা
বয়স বৃদ্ধি, চুল পেকে যাওয়া, চোখের জ্যোতি বা শরীরের শক্তি কমে যাওয়া—এসব মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে দুনিয়ার জীবন শেষ হয়ে আসছে। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি নীরব সতর্কবার্তা।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “চুল পাকা হলো মুমিনের জন্য আলোর ন্যায়।” (সহীহ মুসলিম)

২. অসুস্থতা ও শারীরিক দুর্বলতা
রোগ-ব্যাধি মানুষের ভেতরের অহংকার ভেঙে দেয় এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসার সুযোগ সৃষ্টি করে। অনেক সময় হঠাৎ বা দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতা মানুষকে তওবা, ইস্তিগফার ও ইবাদতের দিকে ধাবিত করে।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “মুমিনের কোনো কষ্ট, রোগ, দুঃখ বা চিন্তা তাকে স্পর্শ করলে আল্লাহ তার গুনাহ মাফ করে দেন।” (সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম)

৩. নেক আমলের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি (সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য)
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে দেখা যায় মৃত্যুর আগে আল্লাহ তাআলা তাদের নেক কাজের তাওফিক বা ইচ্ছা বহুগুণ বাড়িয়ে দেন। অন্যায় পথ ছেড়ে তারা সৎ পথে ফিরে আসেন।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “আল্লাহ যখন কোনো বান্দার কল্যাণ চান, তখন তাকে কাজে লাগিয়ে দেন।” সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, কীভাবে? তিনি বললেন, “মৃত্যুর পূর্বে তাকে নেক আমলের তাওফিক দেন।” (মুসনাদ আহমাদ)

৪. তওবা ও আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনের অনুভূতি
জীবনের শেষ সময়ে অনেক মানুষ দুনিয়ার মোহ ও ব্যস্ততা থেকে নিজে থেকেই দূরে সরে আসেন। তাদের হৃদয়ে বেশি বেশি ইস্তিগফার করা, কুরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা ও আল্লাহর সাক্ষাতের তীব্র ব্যাকুলতা সৃষ্টি হয়। এটি আল্লাহর বিশেষ রহমতের একটি বড় নিদর্শন।

৫. মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ হওয়া
যখন কোনো মানুষের হৃদয়ে আখিরাতের চিন্তা বৃদ্ধি পায়, কবর, হাশরের মাঠ, হিসাব-নিকাশ ও আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর কথা বারবার মনে আসে, তখন তা তাকে পাপ কাজ থেকে দূরে রাখে।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “তোমরা সেই বস্তুটিকে বেশি বেশি স্মরণ করো, যা সকল স্বাদ-আনন্দকে ধ্বংস করে দেয়—অর্থাৎ মৃত্যু।” (সুনান তিরমিযী)

৬. ভালো স্বপ্ন দেখা
কখনো কখনো নেককার ও মুমিন মানুষ মৃত্যুর আগে সুসংবাদমূলক বা ইঙ্গিতপূর্ণ স্বপ্ন দেখতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে, স্বপ্নের ওপর নিশ্চিত কোনো বিধান বা মৃত্যুর তারিখ প্রতিষ্ঠিত হয় না। ইসলামে স্বপ্নকে ব্যক্তিগত সুসংবাদ বা সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হয়, মৃত্যুর নির্ভুল পূর্বাভাস হিসেবে নয়।

প্রচলিত কিছু কুসংস্কার ও ভুল ধারণা:
আমাদের সমাজে অনেক মানুষ মনে করেন, ঘরের চালে নির্দিষ্ট কিছু পাখি ডাকলে, রাতে বিড়াল কাঁদলে, বিশেষ কোনো দুঃস্বপ্ন দেখলে বা হঠাৎ গা ছমছম করলে মানুষের মৃত্যু ঘনিয়ে আসে। ইসলামী শরিয়তে এসব বিশ্বাসের কোনো ভিত্তি নেই এবং এগুলো সম্পূর্ণ কুসংস্কার। ইসলামের মূল শিক্ষা হলো—মৃত্যুর সময়কে পুরোপুরি গোপন রাখা হয়েছে যাতে মানুষ প্রতিটা মুহূর্ত পরকালের প্রস্তুতির মধ্যে অতিবাহিত করে।

আরও পড়ুন

বেতন বাড়লো মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর এপিএসদের

মৃত্যুর প্রস্তুতিতে একজন মুমিনের করণীয়:

  • নিয়মিত সালাত আদায়: পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ সালাত সময়মতো ও নিষ্ঠার সাথে আদায় করা।
  • তওবা ও ইস্তিগফার: প্রতিদিন নিজের অজান্তে হয়ে যাওয়া গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে খাঁটি মনে ক্ষমা চাওয়া।
  • মানুষের হক আদায়: কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে বা কারো পাওনা থাকলে তা জীবিত থাকতেই মিটিয়ে নেওয়া।
  • ঋণমুক্ত হওয়া: মৃত্যুর আগে নিজের সমস্ত ঋণ পরিশোধ করা বা উত্তরাধিকারীদের তা জানিয়ে যাওয়া।

পরিশেষ:
আমাদের জীবনের প্রতিটি অতিবাহিত দিন, প্রতিটি জন্মদিন, মাথার প্রতিটি সাদা চুল এবং চারপাশের কবরস্থানগুলোই হলো মৃত্যুর সবচেয়ে বড় ইঙ্গিত। মৃত্যু দূরের কোনো ঘটনা নয়; এটি আমাদের জীবনের সবচেয়ে নিশ্চিত এবং আসন্ন সত্য। মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ঈমানের সাথে সুন্দর ঈমানী মৃত্যু (হুসনুল খাতিমাহ) নসিব করুন। আমীন।

ভোরের আকাশ/জেআ

ইসলাম ও জীবনইসলামী শিক্ষাকোরআন ও হাদিসআখিরাতমৃত্যুর লক্ষণমৃত্যুর আগে ইঙ্গিত

শেয়ার করুন: