ইসলামি শরিয়তে মা-বাবা বা স্ত্রীর নামে কসম কাটার বিধান!

ইসলামে কসম শুধুমাত্র আল্লাহর নামে করার অনুমতি রয়েছে; অন্য কোনো ব্যক্তি বা বস্তু ব্যবহার করা হারাম ও শিরকের অন্তর্ভুক্ত। প্রখ্যাত ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেছেন, অনেকে মা-বাবা, স্ত্রীর নাম বা রাজনৈতিক প্রতীক ব্যবহার করে কসম করেন, যা ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, নবীজি (সা.) শিক্ষা দিয়েছেন, কেউ যদি কসম করতে চায়, তবে তা শুধুমাত্র আল্লাহর নামে হতে হবে, নইলে চুপ থাকা উত্তম।
ইতিহাসের উদাহরণও এ বিষয়টি স্পষ্ট করে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, একবার একজন ব্যক্তি তার পিতার নামে কসম করছিলেন। নবীজি (সা.) তাকে সতর্ক করেছেন, “আল্লাহ ছাড়া কারো নামে কসম করা যাবে না।” (বোখারি : ৬১০৮)
এছাড়া সাঈদ ইবনে আবু উবায়দা (রহ.) বর্ণনা করেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর নামে কসম করবে, সে শিরক করেছে।” (আবু দাউদ : ৩২৫১)
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর নামে কসম করলে তা ইসলামে গণ্য হবে না। ফলে কসম ভঙ্গ করলেও কাফফারা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে অনভিপ্রেতভাবে এ ধরনের কসম করলে তাওবা করা আবশ্যক।
কসমের কাফফারা:
- ১০ জন দরিদ্রকে দুই বেলা খাওয়ানো বা এক জোড়া কাপড় দেওয়া।
- যদি সম্ভব না হয়, তবে ৩ দিন ধারাবাহিক রোজা রাখতে হবে।
আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “অর্থহীন কসমের জন্য দায়ী হবেন না; কিন্তু যেসব কসম দৃঢ়ভাবে করা হয়, সেগুলোর জন্য দায়ী হবেন।” (সুরা মায়িদা : ৮৯)
ভোরের আকাশ//হ.র