শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

রমজানের প্রথম জুমা আজ

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম জুমা আজ। রমজানের প্রথম রহমতের দশকের দ্বিতীয় রোজায় পড়েছে ফজিলতপূর্ণ এ জুমার দিন। জুমার দিনের গুরুত্ব নিয়ে কুরআন ও হাদিসে একাধিক আয়াত ও হাদিস বর্ণিত হয়েছে। জুমার গুরুত্ব আল্লাহ তায়ালার কাছে এত বেশি যে কুরআনে ‘জুমা’ নামে একটি স্বতন্ত্র সূরা নাজিল করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইসলামে সর্বশ্রেষ্ঠ মাস হলো রমজান। এটি শুধুমাত্র রোজা রাখার মাস নয়, বরং একে কেন্দ্র করে নানা ধরনের ইবাদত এবং আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ ও তাওবা করার সুযোগ রয়েছে। রমজান মাসের প্রতিটি মুহূর্ত মহান আল্লাহর অনুগ্রহে ভরপুর। এ মাসে একেকটি ইবাদতের সওয়াব ৭০ গুণ বেড়ে যায়। রমজানে প্রতিটি ফরজ ইবাদতের সওয়াব হয় ৭০টি ফরজ ইবাদতের সমান; আর প্রত্যেকটি নফল ইবাদতের সওয়াব ফরজ ইবাদতের সমান। 

আজ একদিকে যেহেতু জুমার দিন; আর অপর দিকে পবিত্র মাহে রমজান— এ কারণে আজকের এই দিনটি মুসলমানদের জন্য অনেক বেশি গুরুত্ববহ ও ফজিলতপূর্ণ। আর এই দিনটিকে ঘিরে মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের জন্য বিশেষ কিছু আমলও আছে। পবিত্র কোরআনে জুমার দিন মসজিদে দ্রুত গমনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া হাদিসে গুরুত্বপূর্ণ আমলের কথা বর্ণিত হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, হে মুমিনরা! জুমার দিন নামাজের আজান হলে তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা বন্ধ করো, তা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা বুঝো। এরপর নামাজ শেষ হলে ভূপৃষ্ঠে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (জীবিকা) অনুসন্ধান করো এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও। (সুরা : জুমা, আয়াত : ৯-১০)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত— রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা, এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজান মধ্যবর্তী সময়ের পাপ মোচন করে; যদি সেই ব্যক্তি সব ধরনের কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকে। (মুসলিম শরিফ, হাদিস : ২৩৩)

অন্য হাদিসে নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যাক্তি জুমার দিন গোসল করে এবং যথাসম্ভব উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে, তেল মেখে নেয় অথবা সুগন্ধি ব্যবহার করে, তারপর মসজিদে যায়, মানুষকে ডিঙ্গিয়ে সামনে যাওয়া থেকে বিরত থাকে, তার ভাগ্যে নির্ধারিত পরিমাণ নামাজ আদায় করে, ইমাম যখন খুতবার জন্য বের হন তখন চুপ থাকে, তার এ জুমা এবং পরবর্তী জুমার মধ্যবর্তী সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। (সহিহ বুখারি শরিফ; হাদিস: ৯১০)

জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জুমার দিনে এমন একটা সময়ে রয়েছে, যাতে আল্লাহর বান্দা আল্লাহর কাছে যা চায় আল্লাহ তাই দেন। অতএব তোমরা আছরের শেষ সময়ে তা তালাস করো। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৮, নাসাঈ, হাদিস : ১৩৮৯)

অন্যত্র আল্লাহর রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, পবিত্র রমজানের একটি রাত বরকত ও ফজিলতের দিক থেকে হাজার মাস থেকেও উত্তম। এ মাসের রোজাকে আল্লাহ তাআলা ফরজ করেছেন এবং এর রাতগুলোয় আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোকে নফল ইবাদত রূপে নির্দিষ্ট করেছেন। যে ব্যক্তি রমজানের রাতে ফরজ ইবাদত ছাড়া সুন্নত বা নফল ইবাদত করবে, তাকে এর বিনিময়ে অন্যান্য সময়ের ফরজ ইবাদতের সমান সওয়াব প্রদান করা হবে। আর যে ব্যক্তি এ মাসে কোনো ফরজ আদায় করবে, সে অন্যান্য সময়ের ৭০টি ফরজ ইবাদতের সমান পুণ্য লাভ করবে। (বায়হাকি)

এ হাদিসের আলোকে বোঝা যায় জুমার দিনের বিশেষ যে আমলগুলো সারা বছরই অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ, রমজানে সেগুলোর সওয়াবও বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই রমজানে জুমার দিন বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে জুমার দিনের বিশেষ আমলগুলো পালন করুন :

১. জুমার নামাজের প্রস্তুতি হিসেবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে ভালোভাবে গোসল করুন। দাঁত ব্রাশ/ মিসওয়াক করুন, সম্ভব হলে সুগন্ধী ব্যবহার করুন এবং উত্তম পোশাক পরিধান করুন।

২. জুমার নামাজের জন্য দ্রুত মসজিদে উপস্থিত হওয়ার চেষ্টা করুন। ইমাম খুতবা শুরু করার আগে অবশ্যই মসজিদে উপস্থিত হোন। ইমামের কাছাকাছি বসার চেষ্টা করুন। তবে মসজিদে পৌছতে দেরি হলে অন্যদের কষ্ট দিয়ে কাতার ডিঙ্গিয়ে সামনে যাবেন না; যেখানে জায়গা পাওয়া যায় সেখানেই বসে পড়ুন।

৩. মনযোগ দিয়ে খুতবা শুনুন। খুতবার সময় কথা বলবেন না। অন্য কাউকে চুপ থাকতে বলার প্রয়োজন হলে ইশারায় বলুন। উত্তমরূপে জুমার নামাজ আদায় করুন।

ভোরের আকাশ/এসএইচ
 

রমজানপ্রথম জুমা

শেয়ার করুন: