শরীরে ট্যাটু থাকলে নামাজ-অজু নিয়ে ইসলামের নির্দেশনা

সাম্প্রতিক সময়ে ফ্যাশন ও নিজস্ব ভাব প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ট্যাটু বা স্থায়ী উল্কি আঁকার প্রবণতা বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে একজন মুসলিমের দৈনন্দিন ধর্মীয় জীবনের মূল ভিত্তি হলো পবিত্রতা (অজু ও গোসল)। স্থায়ী ট্যাটু করা থাকলে অজু ও ফরজ গোসল সঠিকভাবে আদায় হবে কি না—তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি রয়েছে।
ইসলামিক ফিকাহ ও শরিয়তের বিধান অনুযায়ী বিষয়টির সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নিচে তুলে ধরা হলো:
ইসলামে ট্যাটুর বিধান ও পবিত্রতার নিয়মাবলী
১. ইসলামে স্থায়ী ট্যাটুর মূল বিধান: ইসলামি শরীয়তে শরীরে স্থায়ীভাবে সুই দিয়ে চামড়া ছিদ্র করে কালি ঢোকানোর মাধ্যমে উল্কি বা ট্যাটু আঁকা সম্পূর্ণ হারাম বা নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) স্থায়ী উল্কি অঙ্কনকারী এবং যে তা করায়—উভয়ের ওপর লানত বা অভিশাপ দিয়েছেন (সহিহ বুখারি)। এটি আল্লাহর দেওয়া স্বাভাবিক শারীরিক অবয়বে পরিবর্তন আনার শামিল।
২. ট্যাটু থাকা অবস্থায় অজু ও গোসলের কার্যকারিতা: স্থায়ী ট্যাটু চামড়ার উপরিভাগে থাকে না; বরং সুচের সাহায্যে চামড়ার ভেতরের স্তরে কালি পৌঁছে দেওয়া হয়। ফলে চামড়ার উপরিভাগ স্বাভাবিকভাবেই পানি স্পর্শ করতে পারে। ইসলামিক ফকিহদের মতে, ট্যাটু করা কবিরা গুনাহ হলেও এর কারণে চামড়ার ওপর পানি পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি হয় না। তাই ট্যাটু থাকা অবস্থাতেও অজু ও ফরজ গোসল আদায় হয়ে যাবে।
৩. সাময়িক বা অস্থায়ী ট্যাটুর বিধান: যদি কোনো ট্যাটু পানি নিরোধক রাসায়নিক বা প্লাস্টিক আবরণের তৈরি হয়—যা চামড়ার ওপর স্তরে পানি পৌঁছাতে বাধা দেয়, তবে তা উঠে না যাওয়া পর্যন্ত অজু বা গোসল হবে না। অন্যদিকে, মেহেদি বা ক্ষণস্থায়ী প্রাকৃতিক রঙ ব্যবহারে কোনো বাধা নেই, কারণ এতে চামড়ায় পানি পৌঁছাতে সমস্যা হয় না।
৪. ট্যাটু মুছে ফেলার নিয়ম ও ছাড়: কেউ না জেনে বা ইসলামের বিধান মানার আগে ট্যাটু করিয়ে থাকলে এবং পরবর্তীতে তওবা করলে, সম্ভব হলে তা লেজার বা চিকিৎসার মাধ্যমে তুলে ফেলা উচিত। তবে যদি ট্যাটু অপসারণ করতে গিয়ে ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি, অতিরিক্ত শারীরিক কষ্ট বা অর্থ সংকটের ঝুঁকি থাকে, তবে তা অপসারণ করা আবশ্যক নয়। আন্তরিক তওবাই তখন যথেষ্ট হবে।
সংক্ষেপে, স্থায়ী ট্যাটু করানো ইসলামে নিষিদ্ধ ও গুনাহের কাজ হলেও, ইতোমধ্যে করা ট্যাটুর ওপর দিয়ে পানি গড়িয়ে অজু ও গোসল করলে তা শরিয়ত অনুযায়ী শুদ্ধ হবে। তাই ভুলবশত বা না বুঝে কেউ ট্যাটু করে ফেললে হতাশ না হয়ে তওবা করা এবং স্বাভাবিকভাবে ইবাদত-বন্দেগি চালিয়ে যাওয়াই ইসলামি শরিয়তের নির্দেশনা।
ভোরের আকাশ/জেআ