কিয়ামতের দিন বিশ্বনবী (সা.)-এর শাফাআত কারা পাবেন

ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী পরকালের মহাভীতিপ্রদ দিনে হাশরের ময়দানে মানুষের মুক্তি ও কল্যাণের জন্য মহান আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যম হিসেবে ভূমিকা রাখাই হলো শাফাআত। আরবি ‘শাফাআত’ শব্দের শাব্দিক অর্থ সুপারিশ বা মধ্যস্থতা করা। কিয়ামত দিবসে যখন কঠিন বিপদে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়বে, তখন বিশ্বনবী (সা.) আল্লাহর দরবারে উম্মতের অপরাধ ক্ষমা ও জান্নাত প্রাপ্তির জন্য এই বিশেষ আরজি জানাবেন।
শাফাআতের প্রকারভেদ
ইসলামি শরিয়তের আলোকে আল্লাহর রাসুলের শাফাআত প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত:
শাফাআতে কুবরা (মহাশাফাআত): হাশরের ময়দানের দুঃসহ ও কঠিন পরিস্থিতিতে বিচারকার্য শুরু করার জন্য বিশ্বনবী (সা.) সমস্ত মানবজাতির জন্য আল্লাহর কাছে প্রথম সুপারিশ করবেন। এটি 'মাকামে মাহমুদ' বা প্রশংসিত স্থানের অন্তর্ভুক্ত বিশেষ সম্মান, যা কেবল রাসুলুল্লাহ (সা.)-কেই প্রদান করা হবে।
শাফাআতে সুগরা (সাধারণ শাফাআত): এটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিজস্ব উম্মতের সুনির্দিষ্ট পাপী বা মুমিনদের জন্য বিশেষ সুপারিশ।
কাদের জন্য নবীজি (সা.) শাফাআত করবেন?
সহীহ হাদিস ও কোরআনের ব্যাখ্যার আলোকে মূলত যেসব ব্যক্তি নবিজির শাফায়াত পাবেন, তাঁরা হলেন:
খাঁটি তাওহিদবাদী বা ইমানদার: যারা একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ওপর ইমান এনেছে এবং অন্তরে অণুমাত্র শিরক রাখেনি, তারা নবীজির সুপারিশের জন্য সর্বাধিক উপযুক্ত হবে।
কবিরা গুনাহে লিপ্ত তাওবাকারী বা শাস্তিপ্রাপ্ত মুমিন: রাসুলুল্লাহ (সা.) হাদিসে ইরশাদ করেছেন, "আমার শাফাআত আমার উম্মতের কবিরা গুনাহকারী (পাপী) ব্যক্তিদের জন্য।" অর্থাৎ জাহান্নামের উপযুক্ত বা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত পাপী মুসলিমদের মুক্তির জন্য তিনি আল্লাহর কাছে শাফাআত করবেন।
বিনা হিসাবে জান্নাত লাভকারী উম্মত: উম্মতের একটি অংশকে কোনো হিসাব-নিকাশ ছাড়াই সরাসরি জান্নাতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য রাসুল (সা.) সুপারিশ করবেন।
জান্নাতবাসীদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য: যাদের জান্নাত নির্ধারিত হয়ে গেছে, তাদের নেকির পাল্লা ও জান্নাতের স্তর বা মর্যাদা আরও বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য নবীজি (সা.) মধ্যস্থতা করবেন।
আজান শুনে দোয়া পাঠকারী: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আজান শোনার পর ওয়াজিব দরুদ ও 'আজানের দোয়া' পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন তার জন্য রাসুল (সা.)-এর শাফাআত অবধারিত হয়ে যাবে।
কারা শাফাআত থেকে বঞ্চিত হবে?
যাঁরা প্রকাশ্যে শিরক ও কুফরিতে লিপ্ত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, পরকালে তারা মহানবীর (সা.) শাফাআত পাবে না। এছাড়া অহংকারী, মুনাফিক এবং ইসলাম থেকে বিচ্যুত বাতিল পথের অনুসারীরা এই মহান নিয়ামত থেকে বঞ্চিত থাকবে।
কিয়ামতের কঠিন দিনে নবীজি (সা.)-এর শাফাআত লাভই হলো একজন মুমিনের চূড়ান্ত সফলতা। আর এই সৌভাগ্য অর্জনের জন্য দুনিয়ার জীবনে একনিষ্ঠ ইমান বজায় রাখা, শিরকমুক্ত জীবন যাপন করা এবং বেশি বেশি দুরুদ পাঠের মাধ্যমে নবীজির (সা.) আদর্শ অনুসরণ করা আবশ্যক।
ভোরের আকাশ/জেআ