এবারও সরকারি ব্যয়ে হজে যাওয়ার সুযোগ নেই: ধর্ম উপদেষ্টা

টানা দ্বিতীয়বারের মতো সরকারি ব্যয়ে কাউকে হজে পাঠানো হচ্ছে না। পাশাপাশি, চলতি বছর হজযাত্রীরা ৩ কোটিরও বেশি টাকা ফেরত পাবেন বলে জানিয়েছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা এসব তথ্য জানান।
উপদেষ্টা বলেন, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী জনআকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে হজের ব্যয় কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দরকষাকষির মাধ্যমে ২০২৫ সালের হজে বিমান ভাড়া গত বছরের তুলনায় আরও ১৩ হাজার টাকা কমানো হয়েছে। এর আগের বছর কমানো হয়েছিল ২৭ হাজার টাকা। অর্থাৎ দুই বছরে বিমান ভাড়া মোট ৪০ হাজার টাকা কমানো সম্ভব হয়েছে। ২০২৪ সালে যেখানে বিমান ভাড়া ছিল ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮০০ টাকা, সেখানে ২০২৬ সালের হজে তা কমে ১ লাখ ৫৪ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করায় গত বছর সরকারি মাধ্যমে হজ পালনকারীদের উদ্বৃত্ত ৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সৌদি আরবে আটকে থাকা হজ এজেন্সিগুলোর প্রায় ৩৮ কোটি টাকা উদ্ধার করে সংশ্লিষ্টদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের হজ শেষেও প্যাকেজ-১ ও প্যাকেজ-২ এর হাজিদের বড় অংকের টাকা ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এবছর হাজিদের সুবিধার্থে তিনটি নতুন সেবা যুক্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘লাব্বাইক’ নামের প্রযুক্তিনির্ভর মোবাইল অ্যাপ চালু, মোবাইল ফোনে রোমিং সুবিধা এবং হজ প্রি-পেইড কার্ড চালু করা হয়েছে।
এছাড়া এবার হজ প্যাকেজের সংখ্যা বাড়িয়ে তিনটি করা হয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ মানুষের সামর্থ্য বিবেচনায় ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকার একটি সাশ্রয়ী প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। প্যাকেজ-৩ এর হাজিদের আগে হারাম শরীফ থেকে দূরে রাখার পরিকল্পনা থাকলেও, বর্তমানে তা পরিবর্তন করে দেড় কিলোমিটারের মধ্যে আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে হাজিরা সহজেই হারাম শরীফে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে পারবেন।
ভোরের আকাশ/এসএইচ