শিরোনাম
১ সপ্তাহের মধ‍্যে গার্মেন্টস শিল্পে মজুরি বোর্ড: শ্রমমন্ত্রী‘মন খারাপ করার অধিকারও আপনার নেই, বললে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাবে’ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপি অসতর্কভাবে শব্দচয়ন করেছেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীউন্নত দেশ গড়তে প্রবাসী-দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীরঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন শহর করতে চাই: প্রধানমন্ত্রীনিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদারে গুরুত্বারোপ খাদ্যমন্ত্রীরঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিতরমজানে স্বাভাবিক থাকবে নিত্যপণ্যের সরবরাহ, বাড়ছে না ভোজ্য তেলের দাম: বাণিজ্যমন্ত্রী১ সপ্তাহের মধ‍্যে গার্মেন্টস শিল্পে মজুরি বোর্ড: শ্রমমন্ত্রী‘মন খারাপ করার অধিকারও আপনার নেই, বললে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাবে’ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপি অসতর্কভাবে শব্দচয়ন করেছেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীউন্নত দেশ গড়তে প্রবাসী-দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীরঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন শহর করতে চাই: প্রধানমন্ত্রীনিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদারে গুরুত্বারোপ খাদ্যমন্ত্রীরঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিতরমজানে স্বাভাবিক থাকবে নিত্যপণ্যের সরবরাহ, বাড়ছে না ভোজ্য তেলের দাম: বাণিজ্যমন্ত্রী

যে আমলগুলো মানুষকে আল্লাহর প্রিয়পাত্র বানায়

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ৩ জুন ২০২৬, ১২:৪৪ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মহান আল্লাহ তাআলার প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া হলো প্রত্যেক মুমিনের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। পৃথিবীর মানুষের ভালোবাসা অনেক সময় সীমাবদ্ধ, স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও ক্ষণস্থায়ী হতে পারে; কিন্তু আল্লাহর ভালোবাসা চিরন্তন, কল্যাণময় এবং ইহকাল ও পরকালের সফলতার পথপ্রদর্শক। তাই একজন বিশ্বাসীর প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন আমল করা, যা তাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ভালোবাসার কাছাকাছি নিয়ে যায়।

যে বান্দাকে আল্লাহ ভালোবাসেন, তার জীবন বরকতময় হয়, তার অন্তরে প্রশান্তি নেমে আসে, তার দোয়া কবুল হয় এবং আখিরাতে তার জন্য জান্নাতের সুসংবাদ থাকে। আর আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার পথ শুরু হয় আন্তরিক তাওবা, আত্মশুদ্ধি এবং জীবন সংশোধনের মাধ্যমে। মানুষ ভুল করবে, গুনাহে জড়িয়ে পড়বে—এটাই মানবীয় দুর্বলতা। কিন্তু প্রকৃত সৌভাগ্যবান সে, যে ভুল বুঝতে পেরে আল্লাহর দরবারে ফিরে আসে এবং নিজের জীবনকে তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী গড়ে তোলে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তবে যারা এরপর তাওবা করে ও নিজেদের সংশোধন করে, তাহলে আল্লাহ তো অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা : নুর : আয়াত : ৫)
আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার পাঁচ আমল

১. আন্তরিক তাওবার মাধ্যমে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা : আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার প্রথম শর্ত হলো আন্তরিক তাওবা। তাওবা শুধু মুখের উচ্চারণ নয়; বরং হৃদয়ের গভীর অনুতাপ, গুনাহ থেকে ফিরে আসা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে অগ্রসর হওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার। মহানবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি গুনাহ থেকে তাওবা করে, সে এমন ব্যক্তির মতো যার কোনো গুনাহই নেই।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস নং : ৪২৫০)

অতএব, অতীতের ভুলে হতাশ না হয়ে আল্লাহর রহমতের দিকে ফিরে আসাই মুমিনের কর্তব্য।

২. আত্মশুদ্ধি ও চরিত্র সংশোধন করা : আল্লাহ তাআলা শুধু তাওবার কথা বলেননি; বরং বলেছেন—‘যারা নিজেদের সংশোধন করে।’ প্রকৃত তাওবার প্রমাণ হলো জীবনের পরিবর্তন। নামাজে যত্নশীল হওয়া, হারাম কাজ বর্জন করা, মানুষের হক আদায় করা, চরিত্র সুন্দর করা এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে চলাই হলো আত্মসংশোধনের নিদর্শন। আল্লাহ সেই বান্দাকে ভালোবাসেন, যে প্রতিনিয়ত নিজেকে পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা করে।

৩. আল্লাহর আদেশ মেনে চলা ও নিষেধ থেকে বিরত থাকা : আল্লাহর ভালোবাসা লাভের অন্যতম উপায় হলো তাঁর আনুগত্য করা। যারা আল্লাহর আদেশ পালন করে এবং হারাম থেকে দূরে থাকে, আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকিদের ভালোবাসেন।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৪)

৪. নিয়মিত নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা : ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি নফল নামাজ, তাহাজ্জুদ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির এবং দান-সদকা বান্দাকে আল্লাহর আরো নিকটবর্তী করে। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ বলেন, ‘আমার বান্দা নফল আমলের মাধ্যমে আমার এত নিকটবর্তী হয় যে আমি তাকে ভালোবাসতে শুরু করি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৬৫০২)

৫. কখনো আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হওয়া : শয়তানের অন্যতম কৌশল হলো মানুষকে হতাশ করে দেওয়া। কিন্তু মুমিন জানে, আল্লাহর রহমত তার সকল গুনাহের চেয়ে বড়। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।’ (সুরা : জুমার, আয়াত : ৫৩)

আরও পড়ুন

নতুন চরিত্রে চমক দিচ্ছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত

আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়া কোনো অসম্ভব বিষয় নয়; বরং এটি প্রত্যেক মুমিনের জন্য উন্মুক্ত একটি পথ। এই পথের সূচনা হয় আন্তরিক তাওবা দিয়ে, আর তা পরিপূর্ণ হয় আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া, ইবাদত, উত্তম চরিত্র এবং আল্লাহর প্রতি অবিচল আনুগত্যের মাধ্যমে। মানুষ যত বড় গুনাহগারই হোক না কেন, যদি সে অনুতপ্ত হৃদয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে এবং নিজের জীবনকে সংশোধন করে, তবে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন, ভালোবাসেন এবং তাঁর রহমতের ছায়ায় আশ্রয় দেন।

অতএব, আমাদের প্রত্যেকের উচিত প্রতিদিন নিজেকে প্রশ্ন করা—আমি কি আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে আছি? আমি কি আমার ভুলগুলো সংশোধনের চেষ্টা করছি? যদি আমরা আন্তরিকভাবে আল্লাহর দিকে ফিরে আসি, তাহলে তিনিই আমাদের হাত ধরে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে যাবেন। কারণ তিনি ‘অতিশয় ক্ষমাশীল’ এবং ‘পরম দয়ালু’। তাঁর ভালোবাসাই একজন মুমিনের জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন এবং আখিরাতের সর্বোচ্চ সফলতা বয়ে আনে।

ভোরের আকাশ/জেআ

আল্লাহইসলামিক জীবনকোরআন ও হাদিস

শেয়ার করুন: