শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ইনসাফ প্রতিষ্ঠা ছাড়া শান্তি সম্ভব নয়

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৬, ৪:৩০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মানবসভ্যতার ক্রমবিকাশ, শান্তি, শৃঙ্খলা এবং একটি রাষ্ট্রের টেকসই অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি হলো ‘ইনসাফ’ বা ন্যায়বিচার। একটি সমাজে যখন ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত থাকে, তখন ধনী-দরিদ্র, শাসক-শাসিত নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিক তার মৌলিক ও মানবিক অধিকার ফিরে পায়। পক্ষান্তরে, ইনসাফহীন সমাজ বা রাষ্ট্র কেবল শোষণ, হাহাকার এবং ধ্বংসেরই জন্ম দেয়।

পবিত্র আমানত ও সামগ্রিক কল্যাণের স্বার্থে ইসলাম কীভাবে একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনের জোরালো তাগিদ দিয়েছে, তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. ইনসাফ প্রতিষ্ঠার অমোঘ ঐশী নির্দেশ

ইসলামে ইনসাফ বা ন্যায়বিচার কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়; বরং এটি মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে মানবজাতির জন্য একটি সরাসরি ও অলঙ্ঘনীয় আদেশ। পবিত্র কোরআনের অসংখ্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে ইনসাফ কায়েমের নির্দেশ দিয়েছেন।

মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন আদল (ন্যায়পরায়ণতা) ও ইহসানের (সদাচরণ) এবং নিকটাত্মীয়দের দান করার।” (সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৯০)

অন্য একটি আয়াতে বিচারব্যবস্থা ও শাসনকার্যে ইনসাফ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে:

“আর তোমরা যখন মানুষের মধ্যে বিচার-মীমাংসা করবে, তখন ইনসাফ ও ন্যায়ের সাথে বিচার করো।” (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৫৮)

২. শত্রুতার কারণেও যেন ইনসাফ বিঘ্নিত না হয়

সাধারণত মানুষ নিজের পছন্দের বা আপন মানুষের প্রতি অনুকম্পা দেখায় এবং শত্রুর প্রতি অন্যায় আচরণ করে। কিন্তু ইসলাম এমন এক অনন্য ইনসাফের শিক্ষা দিয়েছে, যেখানে নিজের চরম শত্রুর সাথেও অন্যায় বা অবিচার করার কোনো সুযোগ নেই।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেছেন:
“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে ন্যায় সাক্ষ্যদানে অবিচল থাকো এবং কোনো সম্প্রদায়ের শত্রুতা যেন তোমাদেরকে ইনসাফ না করার অপরাধে প্ররোচিত না করে। তোমরা ইনসাফ করো, এটাই তাকওয়ার (আল্লাহভীতির) সবচেয়ে নিকটবর্তী।” (সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ৮)

৩. রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কঠোর হুঁশিয়ারি ও জাজ্বল্যমান আদর্শ

একটি সমাজে অপরাধী যদি প্রভাবশালী বা উচ্চবংশীয় হওয়ার কারণে পার পেয়ে যায়, আর সাধারণ মানুষ দুর্বল হওয়ার কারণে শাস্তি পায়—তবে সেই সমাজ ধ্বংস হতে বাধ্য। রাসুলুল্লাহ ﷺ এই বৈষম্যমূলক বিচারহীনতার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

মক্কার বিখ্যাত মাখযুম বংশের এক নারী যখন চুরির অপরাধে ধরা পড়ল, তখন তার বংশমর্যাদার কথা বিবেচনা করে উসামা বিন যায়েদ (রা.)-কে দিয়ে রাসুল ﷺ-এর কাছে সুপারিশ করানো হলো। এতে রাসুলুল্লাহ ﷺ অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হলেন এবং আল্লাহর কসম খেয়ে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দিলেন:

“তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিসমূহ ধ্বংস হয়ে গেছে এ কারণে যে, যখন তাদের মধ্যে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি চুরি করত, তখন তারা তাকে ছেড়ে দিত। আর যখন কোনো দুর্বল বা সাধারণ ব্যক্তি চুরি করত, তখন তারা তার ওপর শাস্তি প্রয়োগ করত। আল্লাহর কসম! যদি মুহাম্মদের কন্যা ফাতিমাও চুরি করত, তবে আমি অবশ্যই তার হাত কেটে দিতাম।” (সহীহ বুখারী, হাদিস নং- ৩৪৭৫)

৪. কিয়ামতের দিন ইনসাফকারী শাসকের মর্যাদা

যারা সমাজ বা রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পদে থেকে জনগণের মাঝে সঠিক ইনসাফ কায়েম করবেন, পরকালে তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার।

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় এবং তাঁর সবচেয়ে কাছাকাছি বসার সুযোগ পাবেন ‘ইমামুল আদিল’ বা ইনসাফকারী শাসক।” (সুনানে তিরমিযী)
অন্য হাদিসে এসেছে, আরশের নিচে যে সাত শ্রেণীর মানুষ আশ্রয় পাবেন, তাদের মধ্যে প্রথম শ্রেণীই হলো ইনসাফপরায়ণ নেতা বা শাসক।

আধুনিক সমাজে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার রূপরেখা:

আরও পড়ুন

মিরপুরে বৃষ্টির বাধায় খেলা বন্ধ

আজকের অশান্ত ও অস্থিতিশীল পৃথিবীতে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হলে ইসলামের সেই সোনালী যুগের ইনসাফের মডেলে ফিরে যাওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। এর জন্য প্রয়োজন:

  • আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা: আইনের চোখে ধনী, দরিদ্র, রাজনৈতিক নেতা বা সাধারণ নাগরিকের কোনো পার্থক্য থাকবে না। অপরাধী যেই হোক না কেন, তার শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
  • অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ: ইসলামের জাকাত ও সদকা ব্যবস্থার সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে সম্পদকে কেবল ধনীদের হাতে কুক্ষিগত না রেখে সমাজের প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
  • ব্যক্তিগত জীবনে চর্চা: ইনসাফের সূচনা হতে হবে নিজের ঘর থেকে। নিজের পরিবার, সন্তান ও অধীনস্থ কর্মচারীদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে ইনসাফ বজায় রাখা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।

একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ কেবল কাগজের কলমে বা বক্তৃতার মঞ্চে তৈরি হয় না; এর জন্য প্রয়োজন প্রতিটি মানুষের অন্তরে আল্লাহর জবাবদিহিতার ভয় এবং তাকওয়া। সমাজ থেকে অন্যায়, জুলুম ও দুর্নীতি দূর করে একটি শান্তিময় ও বৈষম্যহীন পৃথিবী গড়তে আসুন আমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করার শপথ নিই। মহান আল্লাহ আমাদের সেই তৌফিক দান করুন। আমীন।

ভোরের আকাশ/জেআ

ন্যায়বিচারইসলামইসলামিক সমাজইনসাফ

শেয়ার করুন: