কিয়ামতের আগে ফোরাত নদীতে স্বর্ণের পাহাড় প্রকাশ, হাদিসের আলামত

কিয়ামতকে আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন নামে উল্লেখ করেছেন—যেমন বিচার দিবস, হিসাবের দিন, মহাসমাবেশের দিন ও পুনরুত্থান দিবস। আল কোরআনে এবং হাদিসে এর ভয়াবহতা ও তাৎপর্য স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।
কিয়ামতের আগে প্রকাশিত আলামতের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলামত হলো ফোরাত নদীর শুকিয়ে যাওয়া এবং সেখান থেকে স্বর্ণের পাহাড় উন্মোচিত হওয়া। হাদিসে হজরত আবু হুরাইরা (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "অচিরেই ফোরাত নদী শুকিয়ে যাবে আর এর থেকে স্বর্ণের পাহাড় উন্মোচিত হবে। যে ব্যক্তি সে সময় উপস্থিত থাকবে, সে যেন এর কিছুই গ্রহণ না করে" (বোখারি : ৭১১৯)।
অন্য হাদিসে এসেছে, কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না ফোরাত নদীতে একটি স্বর্ণের পাহাড় প্রকাশ পায়। মানুষ তা নিয়ে যুদ্ধ করবে, এবং প্রতিটি দলের ৯৯ শতাংশ ব্যক্তি নিহত হবে। বেঁচে যাওয়া মানুষ বলবে, “হায়! আমি যদি বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি হতাম” (মুসলিম : ২৮৯৪)।
ফোরাত নদীর গুরুত্ব
ফোরাত নদী দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার একটি প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ নদী। এটি তুরস্ক থেকে উৎপন্ন হয়ে সিরিয়া ও ইরাক অতিক্রম করে দজলা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়ে পারস্য উপসাগরে পতিত হয়। বহু প্রাচীন সভ্যতা নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল, যা কৃষি ও বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
হাদিসের ব্যাখ্যা
ইসলামি স্কলারদের মতে, ফোরাত নদীর স্বর্ণের পাহাড় দুটি অর্থে বোঝানো হতে পারে—
১. নদীর স্থানে একটি পাহাড় উঠে সেখানে স্বর্ণের খনি থাকবে।
২. নদীর তলদেশে প্রচুর স্বর্ণের মজুত উন্মোচিত হবে।
কিছু গবেষক এটিকে ‘কালো স্বর্ণ’ অর্থাৎ তেলের রূপক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে মুহাদ্দিসগণ এরূপ ব্যাখ্যার বিরোধিতা করেছেন, কারণ হাদিসে ব্যবহৃত শব্দ ‘ذهب’ (যাহাব) সরাসরি স্বর্ণ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।
হজরত ইবনে হাজার আসকালানি (রাহ.) বর্ণনা করেছেন, ফোরাত নদীর এই ঘটনা ইমাম মাহদির আগমনের ঠিক পূর্বে সংঘটিত হবে।
বিশ্ব মুসলমানদের উচিত এই হাদিস সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করা এবং বিভ্রান্তি এড়িয়ে সৎকর্ম ও তওবা-মাহফুজে মনোযোগ দেওয়া।
ভোরের আকাশ//হ.র