গাদ্দারি কেন ইসলামে ভয়াবহ অপরাধ?

ইসলামে বিশ্বাসযোগ্যতা, অঙ্গীকার রক্ষা ও সততা ঈমানের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। ঠিক তেমনিভাবে বিশ্বাসঘাতকতা, প্রতারণা বা গাদ্দারি করাকে শরিয়তে অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ ও কবিরা গুনাহ হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র বা কোনো গোষ্ঠীর আমানত কিংবা অঙ্গীকার ভঙ্গ করা যার স্বভাব, ইসলামে তাকে ‘গাদ্দার’ বা চরম বিশ্বাসঘাতক বলা হয়।
পবিত্র কোরআন ও সহীহ হাদিসে গাদ্দার ও বিশ্বাসঘাতকদের দুনিয়া ও আখেরাতের কঠিন শাস্তি ও লাঞ্ছনার ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করা হয়েছে।
১. গাদ্দারি বা বিশ্বাসঘাতকতা মুনাফিকের স্পষ্ট লক্ষণ
যে ব্যক্তি গাদ্দারি বা কথা দিয়ে কথা না রাখার চর্চা করে, তার মধ্যে মুনাফিকির আলামত বিদ্যমান থাকে।
রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন: “মুনাফিকের আলামত তিনটি: ১. কথা বললে মিথ্যা বলে, ২. ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে এবং ৩. তার কাছে আমানত রাখা হলে সে তাতে খেয়ানত বা গাদ্দারি করে।” (সহীহ বুখারী)
অন্য হাদিসে এসেছে, চারটে স্বভাব যার মধ্যে থাকবে সে খাঁটি মুনাফিক, তার মধ্যে একটি হলো— “যখন সে কারও সাথে চুক্তি করে, তখন গাদ্দারি (বিশ্বাসঘাতকতা) করে।” (সহীহ বুখারী)
২. আখেরাতে গাদ্দারের জন্য বিশেষ অপমানের পতাকা
কেয়ামতের দিন হাশরের ময়দানে কোটি কোটি মানুষের সামনে গাদ্দারদের চরমভাবে অপমানিত ও চিহ্নিত করা হবে।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “কেয়ামতের দিন প্রতিটি গাদ্দার বা বিশ্বাসঘাতকের পেছনে একটি করে পতাকা বা নিশান গেড়ে দেওয়া হবে এবং বলা হবে— ‘এটি অমুকের পুত্র অমুকের গাদ্দারি ও বিশ্বাসঘাতকতার প্রতীক’।” (সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম)
৩. স্বয়ং মহান আল্লাহ গাদ্দারের বিপক্ষে মামলা লড়বেন
কোনো ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের সাথে গাদ্দারি করা কতটা জঘন্য তা বোঝা যায় হাদীসে কুদসীর একটি বর্ণনায়, যেখানে আল্লাহ তাআলা নিজেই গাদ্দারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন: “কেয়ামতের দিন আমি নিজে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাদী বা প্রতিপক্ষ হবো। তার মধ্যে এক ব্যক্তি হলো সে, যে আমার নামে কোনো অঙ্গীকার করার পর গাদ্দারি বা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে...” (সহীহ বুখারী)
৪. মুসলিম ও অমুসলিম কারও সাথেই গাদ্দারি বৈধ নয়
ইসলামে গাদ্দারি এতই ঘৃণ্য অপরাধ যে, কোনো অমুসলিমের সাথে চুক্তি বা নিরাপত্তা চুক্তি থাকলেও তাতে গাদ্দারি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। যদি কোনো শত্রুপক্ষের সাথেও চুক্তি থাকে, তবে চুক্তি বাতিল করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিয়ে অতর্কিত আক্রমণ বা গাদ্দারি করাকে ইসলাম সম্পূর্ণ হারাম করেছে।
ক্ষণস্থায়ী বৈষয়িক স্বার্থ, ক্ষমতা কিংবা ব্যক্তিগত লাভের আশায় মানুষের বিশ্বাস ভঙ্গ করা বা গাদ্দারি করা ঈমানী চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। একজন সত্যিকারের মুমিন কখনো গাদ্দার বা খেয়ানতকারী হতে পারে না। দুনিয়ার ইতিহাসে যেমন গাদ্দারদের নাম চরম ঘৃণার সাথে উচ্চারিত হয়, তেমনি পরকালেও তাদের জন্য অপেক্ষা করছে জাহান্নামের কঠিন আযাব।