স্বপ্নে নবীজিকে (সা.) দেখার আমল

ঘুম মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সারাদিনের ক্লান্তি, মানসিক চাপ আর পরিশ্রম শেষে ঘুমই এনে দেয় প্রশান্তি। ইসলামে ঘুমকে কেবল বিশ্রাম নয়, বরং আল্লাহর এক বিশেষ নেয়ামত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আল-কোরআনে ইরশাদ হয়েছে— “আমি তোমাদের নিদ্রাকে করেছি ক্লান্তি দূরকারী, আর রাতকে করেছি আবরণ।” (সুরা নাবা : ৯-১০)।
মানুষ যখন ঘুমিয়ে পড়ে, তখন আত্মা এক ভিন্ন জগতে প্রবেশ করে এবং স্বপ্নের মাধ্যমে নানা কিছু অনুভব করে। মুমিনদের হৃদয়ে নবী করিম (সা.)-এর প্রতি অফুরন্ত ভালোবাসা থাকায় তাদের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা হলো প্রিয় নবীকে (সা.) স্বপ্নে দেখা। কারণ, হাদিসে এসেছে— “যে আমাকে স্বপ্নে দেখেছে, সে বাস্তবেই আমাকে দেখেছে। কেননা শয়তান আমার আকৃতি ধারণ করতে পারে না।” (বোখারি : ৬৯৯৪, মুসলিম : ২২৬৬)।
স্বপ্নে নবীজিকে (সা.) দেখার জন্য আলেমরা যে তিনটি আমল বর্ণনা করেছেন—
১. অন্তরে নবীজি (সা.)-এর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস ও ভালোবাসা রাখা।
২. জীবনে সুন্নতের অনুসরণ করা।
৩. অধিক পরিমাণে দরুদ শরিফ পাঠ করা। (ফতোয়ায়ে ফকিহুল মিল্লাত : ২/২৩৪)
হাদিসে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন— “যে আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার ওপর দশটি রহমত বর্ষণ করবেন।” (মুসলিম : ১/১৬৬)।
বিশেষ আমলসমূহ
- আল্লামা আবদুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভি (রহ.) বলেন, জুমার রাতে দুই রাকাত নামাজ পড়ে প্রতি রাকাতে ১১ বার আয়াতুল কুরসি ও ১১ বার সুরা ইখলাছ পাঠ করতে হবে। এরপর সালামের পর দরুদ শরিফ—
“আল্লাহুম্মা সাল্লি ‘আলা সাইয়্যিদিনা মুহাম্মাদানিন নাবিয়্যিল উম্মীয়্যি ওয়া ‘আলা আলিহি ওয়াআসহাবিহি ওয়া সাল্লিম।”
—এটি ১০০ বার পড়তে হবে। - আরেক বর্ণনায় এসেছে, দুই রাকাত নামাজে প্রতি রাকাতে ২৫ বার সুরা ইখলাছ ও ১০০০ বার “সাল্লাল্লাহু আলা নাবিয়্যিল উম্মি” পাঠ করলে নবীজির (সা.) দিদার নসিব হয়। (জিয়াউল কুলুব)
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাসুল (সা.)-কে স্বপ্নে দেখা মুমিনের জন্য পরম সৌভাগ্যের বিষয়। আর এর জন্য দরুদ, সুন্নতের অনুসরণ এবং অন্তরের ভালোবাসাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর আমল।
ভোরের আকাশ//হ.র