শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ডিজিটাল যুগের ফিতনা: ইসলামের আলোকে করণীয় কী?

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৬, ২:৩০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির সুবাদে তথ্যপ্রযুক্তি আজ আমাদের জীবনকে সহজ ও গতিশীল করেছে। ইন্টারনেটের বদৌলতে গোটা পৃথিবী এখন মানুষের হাতের মুঠোয়। তবে এই আশীর্বাদের বিপরীত পিঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের অপব্যবহারের ফলে সৃষ্টি হয়েছে এক ভয়াবহ অনলাইন সংকট—যাকে আলেম সমাজ আখ্যা দিচ্ছেন ‘ডিজিটাল ফিতনা’ হিসেবে।

গুজব ছড়ানো, কারও চরিত্রহনন, পর্নোগ্রাফির বিস্তার, সাইবার বুলিং ও ফেক নিউজের মতো বিষবাষ্প আজ ব্যক্তি, পরিবার ও সামাজিক জীবনকে বিষিয়ে তুলছে। আধুনিক যুগের এই ডিজিটাল ফিতনা থেকে বেঁচে থাকা এবং সঠিক পথপ্রদর্শনের ক্ষেত্রে ইসলামী শরিয়তের নির্দেশনা অত্যন্ত স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট।

১. ডিজিটাল ফিতনার প্রধান ক্ষেত্রসমূহ

বর্তমান সমাজে ডিজিটাল মাধ্যমে যে ফিতনাগুলো মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, তার মধ্যে অন্যতম:

  • গুজব ও ভুয়া তথ্য (Fake News): সত্যতা যাচাই না করেই যেকোনো সংবেদনশীল খবর বা অডিও-ভিডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার মাধ্যমে দেশে অরাজকতা ও বিভ্রান্তি ছড়ানো।
  • চরিত্রহনন ও গীবত (Cyberbullying & Slander): কোনো ব্যক্তির অজান্তে তার ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও ফাঁস করা, ট্রোল করা, অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে ট্রল ও কটূক্তি করা।
  • দৃষ্টির হেফাজত ও কুরুচিপূর্ণ কনটেন্ট: পর্নোগ্রাফি, টিকটক বা শর্টস ভিডিওর নামে বেহায়াপনা ও অশালীন কনটেন্ট ছড়িয়ে দিয়ে তরুণ সমাজকে নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দেওয়া।
  • অনলাইন প্রতারণা ও জুয়া: ই-কমার্সের নামে প্রতারণা, অনলাইন বেটিং (Jua) এবং ভুয়া আইডি খুলে অর্থ আত্মসাৎ।

২. ডিজিটাল ফিতনা নিরসনে ইসলামের জীবনমুখী প্রতিকার

ডিজিটাল প্রযুক্তি নিজে কোনো পাপ নয়; এটি ব্যবহারের নিয়ত ও উদ্দেশ্যের ওপর এর ভালো-মন্দ নির্ভর করে। এই ফিতনা প্রতিরোধে ইসলামে যে সমাধানগুলো দেওয়া হয়েছে:

ক. তথ্য যাচাইয়ের বাধ্যবাধকতা (Fact-Checking)

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো খবর বা পোস্ট দেখলেই তা সত্য ভেবে শেয়ার করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন: “হে মুমিনগণ! যদি কোনো ফাসিক (অবিশ্বস্ত ব্যক্তি) তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা পরীক্ষা করে দেখবে; যাতে অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি সাধন না করো এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত না হও।” (সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ৬)

রাসুলুল্লাহ ﷺ সত্যতা না যাচাই করে খবর ছড়ানোকে মিথ্যাচারের নামান্তর বলেছেন। তিনি বলেন— “কোনো মানুষের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শুনে (যাচাই ছাড়া) তা-ই বলে বেড়ায়।” (সহীহ মুসলিম)

খ. সাইবার স্পেসে দৃষ্টির হেফাজত ও সংযম

পর্দা ও শালীনতার বিধান শুধু বাস্তব জীবনের জন্য নয়, ডিজিটাল স্ক্রিনের জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য। গায়রে মাহরাম (যাদের সাথে বিবাহ বৈধ) কারো ছবি বা ভিডিও দেখে জেনেশুনে কামভাব জাগ্রত করা বা অশালীন কনটেন্ট থেকে দৃষ্টিকে ফিরিয়ে রাখার তাগিদ দিয়ে আল্লাহ বলেন:

“মুমিন পুরুষদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে।” (সূরা আন-নূর, আয়াত: ৩০)

গ. সোশ্যাল মিডিয়ায় গীবত ও ট্রোল বন্ধ করা

ফেসবুক, ইউটিউব বা কমেন্ট বক্সে কাউকেই অপমান বা ট্রোল করার অধিকার ইসলাম দেয়নি। গীবত বা পরনিন্দা সোশ্যাল মিডিয়ায় টাইপ করে বা কমেন্ট আকারে করলেও তা সমান কবিরা গুনাহ। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন— “প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা (কথা) ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে।” (সহীহ বুখারী)

ঘ. সময়ের অপচয় ও আসক্তি রোধ

সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা রিলস বা অপ্রয়োজনীয় পোস্ট দেখে সময় নষ্ট করা অপচয়ের শামিল। কেয়ামতের দিন মহান আল্লাহর দরবারে প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব দিতে হবে।

আরও পড়ুন

বাগেরহাটে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে আইনজীবী নিহত

৩. প্রযুক্তির সৎ ব্যবহার: ফিতনার বিপরীতে দাওয়াতের হাতিয়ার

ডিজিটাল মাধ্যমকে ফিতনার কাজে ব্যবহার না করে দ্বীনের দাওয়াত, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সত্য ও ন্যায়ের প্রচারের মাধ্যমে এটিকে ‘সাদকায়ে জারিয়া’ (প্রবাহমান সওয়াব)-র মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। ক্ষতিকর পেইজ বা চ্যানেল আনফলো ও ব্লক করে ভালো ও শিক্ষণীয় কনটেন্ট প্রচার করাই হতে পারে একজন সচেতন মুমিনের ডিজিটাল আচরণ।

স্মার্টফোনের কিবোর্ডে আমাদের একটি ‘লাইক’, ‘কমেন্ট’ বা ‘শেয়ার’ পরকালে আমাদের সওয়াব কিংবা পাপাচারের ভারী পাল্লা তৈরি করতে পারে। স্ক্রিনের ওপারে কেউ না দেখলেও মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সব কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করছেন। অতএব, ডিজিটাল দুনিয়ার সকল ফিতনা থেকে নিজেদের ও পরিবারকে মুক্ত রেখে ঈমানি সচেতনতার সাথে প্রযুক্তি ব্যবহার করাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

ইসলামিক শিক্ষাধর্মীয় শিক্ষাফিতনাকুরআন ও সুন্নাহ

শেয়ার করুন: