শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

জীবনে বরকত নষ্ট করে যে সাত গুনাহ

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ২০ জুন ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মানবজীবনে শয়তানের সবচেয়ে বড় চক্রান্ত হলো মানুষকে ধীরে ধীরে পাপের অন্ধকার গহ্বরে নিয়ে যাওয়া। কিছু পাপ বা গুনাহ এমন রয়েছে, যা মানুষের কেবল নেক আমলই ধ্বংস করে না, বরং তার ইহকালীন শান্তি কেড়ে নেয় এবং পরকালে নিশ্চিত জাহান্নামের দিকে ঠেলে দেয়। ইসলামি পরিভাষায় এই মারাত্মক পাপগুলোকে বলা হয় ‘মুবিকাত’ বা ‘ধ্বংসাত্মক গুনাহ’।

পবিত্র হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ ﷺ উম্মতকে সতর্ক করে বিশেষভাবে ৭টি মহাপাপ থেকে দূরে থাকার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। এই ৭টি গুনাহ কী কী এবং কেন এগুলো মানবজাতিকে ধ্বংস করে, তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর চিরন্তন সতর্কতা:
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক বিষয় (গুনাহ) থেকে বেঁচে থাকো।” সাহাবিরা আরজ করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! সেগুলো কী কী?’ তিনি বললেন—
১. আল্লাহর সাথে শরিক করা (শিরক),
২. জাদু করা,
৩. আল্লাহ যাকে হত্যা করা হারাম করেছেন শরীয়তসম্মত কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করা,
৪. সুদের টাকা খাওয়া,
৫. এতিমের মাল আত্মসাৎ করা,
৬. জিহাদের ময়দান থেকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করা (পালিয়ে যাওয়া) এবং
৭. সরলমনা ও পবিত্রা মুমিন নারীদের অপবাদ দেওয়া।
(সহীহ বুখারী, হাদিস নং- ২৭৬৬; সহীহ মুসলিম)

এই ৭টি মহাপাপের সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ ও ভয়াবহতা:

১. আল্লাহর সাথে শিরক করা 
গুনাহের দুনিয়ায় সবচেয়ে বড় এবং ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ হলো শিরক। আল্লাহর জাত বা সিফাতের (গুণাবলী) সাথে অন্য কাউকে অংশীদার করার নামই শিরক।

  • ভয়াবহতা: পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহ তাআলা চাইলে যেকোনো গুনাহ মাফ করতে পারেন, কিন্তু শিরকের গুনাহ তিনি কখনোই মাফ করবেন না যদি না বান্দা দুনিয়াতে খাঁটি মনে তওবা করে। শিরক মানুষের পূর্বের সমস্ত ভালো আমলকে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়।

২. জাদু বা কুফরি করা 
জাদু কেবল একটি সামাজিক অপরাধ নয়, এটি সরাসরি কুফরির শামিল। ইসলামে জাদুর চর্চা, জাদু করা বা জাদুকরের শরণাপন্ন হওয়া সম্পূর্ণ হারাম।

  • ভয়াবহতা: জাদু মানুষের ঈমান হরণ করে। জাদুকররা শয়তানের উপাসনা ও কুফরি কালামের মাধ্যমে মানুষের ক্ষতি করে থাকে, যা সমাজ ও পরিবারে বিপর্যয় এবং মানসিক বিকৃতি ডেকে আনে।

৩. অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা 
আল্লাহ তাআলা মানবজীবনকে অত্যন্ত সম্মানিত ও পবিত্র করেছেন। শরিয়তের আইনি বিধান (যেমন- কিসাস বা দণ্ডবিধি) ছাড়া কোনো মানুষকে হত্যা করা কবিরা গুনাহ।

  • ভয়াবহতা: পবিত্র কোরআনে স্পষ্ট বলা হয়েছে—অন্যায়ভাবে একজন মানুষকে হত্যা করা যেন পুরো মানবজাতিকে হত্যা করার শামিল। খুনের অপরাধে দুনিয়াতে অশান্তি ও আখেরাতে অনন্তকালের জন্য জাহান্নামের আজাব নির্ধারিত।

৪. সুদ খাওয়া 
আধুনিক অর্থব্যবস্থার অন্যতম বড় ব্যাধি হলো সুদ। ইসলামে সুদ গ্রহণ করা, সুদ দেওয়া, সুদের হিসাব লেখা এবং এতে সাক্ষ্য দেওয়া—সবই সমান অপরাধ।

  • ভয়াবহতা: সুদের ভয়াবহতা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা কোরআনে ঘোষণা করেছেন যে, সুদখোর মূলত আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দেয়। সুদ মানুষের রিজিকে বরকত ধ্বংস করে এবং সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য ও জুলুম সৃষ্টি করে।

৫. এতিমের সম্পদ আত্মসাৎ করা 
পিতা হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়া শিশুদের (এতিম) লালন-পালন ও তাদের সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সমাজের। কিন্তু সেই সুযোগে কেউ যদি লোভের বশে এতিমের সম্পদ লুটে নেয়, তবে তা ধ্বংসের অন্যতম কারণ।

  • ভয়াবহতা: আল্লাহ তাআলা বলেন, যারা অন্যায়ভাবে এতিমের সম্পদ গ্রাস করে, তারা মূলত নিজেদের পেটে আগুন পুরছে এবং অতিসত্বর তারা প্রজ্বলিত আগুনে (জাহান্নামে) প্রবেশ করবে।

৬. যুদ্ধের ময়দান থেকে পালিয়ে যাওয়া 
ইসলাম, দেশ ও সত্যের মর্যাদা রক্ষায় যখন বৈধ জিহাদ বা যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে পড়ে, তখন শত্রুর ভয়ে ময়দান ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া বা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করা মুনাফিকির লক্ষণ।

আরও পড়ুন

সিরাজগঞ্জে রেল বাঁচাও আন্দোলনের মানববন্ধন

  • ভয়াবহতা: এটি মুসলিম উম্মাহর মনোবল ভেঙে দেয় এবং শত্রুপক্ষকে শক্তিশালী করে তোলে। এই কাপুরুষোচিত কাজের জন্য আল্লাহর চরম গজব ও লানত বর্ষিত হয়।

৭. পবিত্রা নারীদের চারিত্রিক অপবাদ দেওয়া 
কোনো নির্দোষ, সরলমনা এবং পবিত্র চরিত্রের মুমিন নারীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ব্যভিচার বা চারিত্রিক কলঙ্কের অপবাদ দেওয়া একটি জঘন্য সামাজিক ও ধর্মীয় অপরাধ।

  • ভয়াবহতা: এই একটি মিথ্যে অপবাদের কারণে একটি মেয়ের জীবন, পরিবার ও সমাজ ধ্বংস হয়ে যায়। ইসলামি আইনে এর জন্য কঠোর শাস্তির (৮০টি দোররা) বিধান রয়েছে এবং আখেরাতে এদের জন্য রয়েছে লানত ও কঠিন আজাব।

এই ৭টি গুনাহকে ‘ধ্বংসাত্মক’ বলা হয়েছে কারণ এগুলো মানুষের ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় জীবন পর্যন্ত সবকিছু তছনছ করে দেয়। আমাদের প্রত্যেকের উচিত এই মহাপাপগুলো সম্পর্কে নিজে জানা, পরিবারকে সচেতন করা এবং অজান্তে কোনো ভুল হয়ে থাকলে আজই আল্লাহর দরবারে চোখের পানি ফেলে ‘তওবায়ে নাসুহা’ বা খাঁটি তওবা করা। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করুন। আমীন।

ভোরের আকাশ/জেআ

ইসলামী শিক্ষাকবিরা গুনাহহাদিসগুনাহকুরআনইসলামপাপ

শেয়ার করুন: