নবীজির প্রিয় মাছ: আম্বার মাছের কাহিনি

মাছ বাঙালি সংস্কৃতির অঙ্গ, কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, মরুভূমির দেশ আরবে জন্ম নেওয়া আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও মাছ পছন্দ করতেন। আরব উপদ্বীপের চারপাশে বিশাল সমুদ্র থাকায় মাছ তাদের খাদ্যতালিকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়েছিল।
সাহাবায়ে কেরামের জীবনী ও হাদিসে মাছের উল্লেখ স্পষ্ট। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো ‘আম্বার মাছ’-এর কাহিনি। হাদিসের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ বোখারিতে এসেছে, জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেন, “আমরা জাইশুল খাবাতের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করছিলাম। পথে সমুদ্র আমাদের জন্য একটি মরা মাছ তীরে নিক্ষেপ করলো। এত বড় মাছ আমরা আগে কখনো দেখিনি। একে আমরা আম্বার মাছ বলি। এই মাছ থেকে আমরা অর্ধ মাস আহার করেছি। পরে নবীজিকে বিষয়টি জানালে তিনি নিজেও এটি খেয়েছেন। আল্লাহ তা আমাদের জন্য রিজিক হিসেবে পাঠিয়েছিলেন।”
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আমাদের জন্য দুটি মৃত প্রাণী হালাল করা হয়েছে—মাছ ও টিড্ডি।”
আম্বার মাছের বৈশিষ্ট্য:
এটি ছিল বিশালাকার, সামুদ্রিক মাছ।
একপ্রকার তিমির মতো দীর্ঘকায়, বড় মাথা ও দাঁতবিশিষ্ট।
নামকরণে দুটি সম্ভাবনা—এটি থেকে আম্বার গন্ধদ্রব্য বের হয় বা মাছের নামই আম্বার।
যুদ্ধরত তিনশত সাহাবির খাবারের সংকটের সময় আল্লাহ এই মাছ পাঠিয়ে তাদের পেট ভরাতে সাহায্য করেছিলেন। এমন বড় মাছের পাঁজরের হাড় দিয়েও সাহাবি খেলা চালিয়েছিলেন। নবীজিও এর বরকত হিসেবে মাছ খেয়েছিলেন।
অবশেষে, হাদিসে বর্ণিত মতে, সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধ এবং সমুদ্রের মৃত প্রাণী হালাল, তাই নবীজির প্রিয় এই মাছও আমাদের জন্য বৈধ আহার।
উৎস: নবীজির প্রিয় ১০০
ভোরের আকাশ//হ.র