কুসংস্কার নাকি ধর্মীয় সত্য, বিড়াল নিয়ে ইসলাম কী বলে?

আমাদের সমাজে বহুদিন ধরেই একটি প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে—কোথাও যাওয়ার সময় সামনে দিয়ে বিড়াল চলে গেলে তা অশুভ বা অমঙ্গলের লক্ষণ। এমন পরিস্থিতিতে অনেকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন, আবার কেউ কেউ যাত্রাপথ পরিবর্তন করে ফেলেন। কিন্তু ইসলাম কি এই ধরনের বিশ্বাসকে সমর্থন করে? এ বিষয়ে ইসলামি শিক্ষার আলোকে কী বলা হয়েছে, তা জানা জরুরি।
কুসংস্কার সম্পর্কে ইসলামের অবস্থান
ইসলাম মানুষের জীবনকে কুসংস্কার ও ভিত্তিহীন বিশ্বাস থেকে মুক্ত রাখার শিক্ষা দেয়। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কল্যাণ-অকল্যাণ, লাভ-ক্ষতি কিংবা সফলতা-ব্যর্থতা সবই মহান আল্লাহর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। কোনো প্রাণী, বস্তু বা ঘটনার সঙ্গে অশুভতার সম্পর্ক স্থাপন করা ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিড়াল কি অশুভ প্রাণী?
ইসলামে বিড়ালকে অপবিত্র বা অশুভ প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। বরং বিভিন্ন হাদিসে বিড়ালের প্রতি সদয় আচরণের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। ইসলামের ইতিহাসে দেখা যায়, নবী মুহাম্মদ (সা.) বিড়ালের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন এবং তাদের প্রতি নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন করতে নিষেধ করেছেন।
তাই কারও সামনে দিয়ে বিড়াল চলে যাওয়াকে অমঙ্গলের কারণ মনে করার কোনো ধর্মীয় ভিত্তি নেই।
অশুভ লক্ষণে বিশ্বাস সম্পর্কে সতর্কতা
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, কোনো ঘটনা বা প্রাণীকে অমঙ্গলের প্রতীক মনে করা ‘তাতাইয়্যুর’ বা কুসংস্কারের অন্তর্ভুক্ত। হাদিসে এ ধরনের বিশ্বাস থেকে দূরে থাকার নির্দেশনা রয়েছে। কারণ এটি মানুষের মনে অযথা ভয়, সন্দেহ ও দুর্বলতা সৃষ্টি করে।
যাত্রার সময় কী করা উচিত?
কোথাও যাওয়ার সময় সামনে দিয়ে বিড়াল বা অন্য কোনো প্রাণী চলে গেলে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। মুসলমানের উচিত আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে নিজের কাজ চালিয়ে যাওয়া। কোনো কুসংস্কারের কারণে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করে দোয়া ও ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যাওয়াই ইসলামের শিক্ষা।
সচেতনতা জরুরি
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সমাজে প্রচলিত অনেক কুসংস্কার প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসছে। এসব বিশ্বাসের পরিবর্তে ধর্মীয় জ্ঞান ও যুক্তিভিত্তিক চিন্তার চর্চা বাড়ানো প্রয়োজন। এতে মানুষ অযৌক্তিক ভয় থেকে মুক্ত হয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে পারবে।
কারও সামনে দিয়ে বিড়াল হেঁটে যাওয়া অশুভ—এমন ধারণার কোনো ইসলামি ভিত্তি নেই। ইসলাম মানুষকে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতে এবং কুসংস্কার থেকে দূরে থাকতে শিক্ষা দেয়। তাই বিড়াল পথ অতিক্রম করলে অমঙ্গলের আশঙ্কা না করে স্বাভাবিকভাবে নিজের কাজ চালিয়ে যাওয়াই একজন মুসলমানের জন্য উত্তম।
ভোরের আকাশ/জেআ