হবু স্বামীর সঙ্গে কথা বলা: শরিয়তের দৃষ্টিতে জায়েজ কি?

বিয়ে ইসলামে শুধু একটি সামাজিক অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি মানব জীবনের জন্য বরকতময় ও পবিত্র ইবাদতেরূপে বিবেচিত। প্রাপ্তবয়স্ক ও বিয়ের সামর্থ্য থাকা ব্যক্তি যেন দেরি না করে বিয়ে করে নেয়, তা নবী করিম (সা.) সুন্নতের মাধ্যমে নির্দেশ দিয়েছেন।
বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রী দেখা
বর্তমান সময়ে ভালো পাত্র-পাত্রী নির্বাচন একটি জটিল প্রক্রিয়া। তাই বিয়ের আগে পাত্রী বা পাত্রকে দেখা ও যাচাই করা নবীজির (সা.) সুন্নত। আবু দাউদ থেকে বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি কোনো নারীর মধ্যে এমন বৈশিষ্ট্য খুঁজে পায় যা তাকে বিয়েতে আগ্রহী করে, সেই ব্যক্তির জন্য তা বিবাহের সিদ্ধান্তে সহায়তা করে।
হবু স্বামীর সঙ্গে কথাবার্তা
মাদরাসাতুত তাকওয়া ঢাকা’র মুফতি শায়খ ইবনুল কালাম জানান, বিয়ের আগে হবু স্বামী গায়রে মাহরাম হিসেবে গণ্য হন। তাই সাধারণভাবে কোনো রোমান্টিক বা ব্যক্তিগত কথাবার্তা জায়েজ নয়। তবে জরুরি তথ্য জানার প্রয়োজন হলে কথাবার্তা সীমিতভাবে এবং ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে করা যেতে পারে।
বিয়ে দ্রুত সম্পন্ন করার গুরুত্ব
বিয়ের প্রক্রিয়া পাকাপোক্ত হয়ে গেলে দ্রুত বিবাহ সম্পন্ন করা উভয়পক্ষের কল্যাণে। এ ক্ষেত্রে ফাতওয়ায়ে শামী ও ফাতওয়ায়ে রহিমিয়ার নির্দেশনা অনুযায়ী দেরি করা উচিত নয়।
দোয়া ও কোরআনি আমল
বিবাহ সহজে সম্পন্ন করতে বিশেষ দোয়া এবং কোরআনের কিছু আয়াতের তেলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা যায়। বিশেষ দোয়া যেমন:
দোয়া:
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
উচ্চারণ: রব্বানা হাব লানা মিন আজওয়াজিনা ওয়া জুররিয়্যাতিনা কুররাতা আ’ইউন, ওয়া জাআলনা লিল মুত্তাকিনা ইমামা।
অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের জন্য এমন স্ত্রী ও সন্তান দান করুন, যারা আমাদের চোখ শীতলকারী হবে।
বিয়ের আগে হবু স্বামী বা স্ত্রীকে সীমিত ও প্রয়োজনীয় তথ্য জানার জন্য কথাবার্তা বলা যায়, কিন্তু ব্যক্তিগত ও রোমান্টিক আলাপ শারিয়তের দৃষ্টিতে জায়েজ নয়। দেরি না করে বিয়ে সম্পন্ন করা এবং আল্লাহর সাহায্যের জন্য নিয়মিত দোয়া ও কোরআনের তেলাওয়াত করা উভয়পক্ষের কল্যাণে সহায়ক।
ভোরের আকাশ//হ.র