কোন ৮ আলামতে বুঝবেন ইবাদত কবুল হয়েছে?

ইসলামে ইবাদত কেবল সম্পন্ন করাই শেষ কথা নয়, বরং তা আল্লাহর দরবারে কবুল হওয়াটাই মুমিনের মূল লক্ষ্য। কোনো বান্দার নামাজ, রোজা, দান-সদকা বা অন্যান্য আমল আল্লাহর কাছে গৃহীত হয়েছে কি না, তা সরাসরি জানার কোনো সুযোগ না থাকলেও ইসলামি চিন্তাবিদ ও বুজুর্গদের মতে বান্দার জীবনের কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে ইবাদত কবুলের শুভ আলামত বা লক্ষণ ফুটে ওঠে।
হাদিসের সারমর্ম ও প্রখ্যাত আলেমদের পর্যালোচনায় উঠে আসা ইবাদত কবুল হওয়ার ৮টি প্রধান আলামত নিচে তুলে ধরা হলো:
১. নেক কাজের তাওফিক বৃদ্ধি পাওয়া: এক ইবাদতের পর অন্য নেক কাজ করার আগ্রহ ও সুযোগ তৈরি হওয়া ইবাদত কবুলের সবচেয়ে বড় আলামত। প্রখ্যাত তাফসিরবিদদের মতে, "নেক কাজের প্রতিদান হলো পরবর্তীতে আরও নেক কাজ করার তাওফিক পাওয়া।"
২. গুনাহের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি হওয়া: ইবাদত কবুল হলে বান্দার অন্তরে পাপ ও পাপাচারের প্রতি স্বভাবজাত অনিহা ও ঘৃণা জন্মে। অতীতে করা কোনো ভুল বা গুনাহের কথা মনে পড়লে মনে অনুশোচনা ও ভয় কাজ করে।
৩. ইবাদতে আত্মিক তৃপ্তি ও স্থায়িত্ব: কবুল হওয়া ইবাদত মানুষের অন্তরে এক অপূর্ব প্রশান্তি ও আনন্দ সৃষ্টি করে। ফলে বান্দা ইবাদতকে আর বোঝা মনে করে না, বরং নিয়মিত আমল বজায় রাখা তার জন্য সহজ হয়ে যায়।
৪. বিনয় ও নম্রতা বৃদ্ধি পাওয়া: আসল ইবাদত মানুষকে অহংকারমুক্ত করে। ইবাদত কবুল হওয়ার আলামত হলো বান্দা নিজেকে আরও বেশি ছোট মনে করে এবং আল্লাহর ভয়ে নিজের ভেতর বিনয় ও নম্র ভাব জাগ্রত হয়।
৫. আল্লাহর ভয় ও আমল না কবুল হওয়ার আশঙ্কা: সত্যিকারের আমলকারীরা ইবাদত করার পরও তা কবুল না হওয়ার ভয়ে ব্যথিত ও ভীত থাকেন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, তারা দান-সদকা করে এবং তাদের অন্তর ভীত থাকে যে, তাদেরকে আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে।
৬. লোকদেখানো ভাব বা রিয়া থেকে দূরে থাকা: কবুল হওয়া আমলের ক্ষেত্রে বান্দার একমাত্র উদ্দেশ্য থাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি। এতে মানুষের প্রশংসা পাওয়ার লিপ্সা বা লোকদেখানো স্বভাব পুরোপুরি দূর হয়ে যায়।
৭. আখিরাতের প্রতি আকর্ষণ ও দুনিয়াবিমুখতা: ইবাদত কবুল হতে থাকলে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী মোহের চেয়ে পরকালের স্থায়ী জীবনের প্রস্তুতি নেওয়ার তাড়না অন্তরে বহুগুণ বেড়ে যায়।
৮. মানুষের প্রতি দয়া ও সুন্দর আচরণ: কবুল হওয়া ইবাদত মানুষের চরিত্রকে উন্নত করে। ফলে বান্দার ব্যবহারে পরিবর্তন আসে, অন্য মানুষের প্রতি সহমর্মিতা, ক্ষমা ও ভালোবাসার অনুভূতি বৃদ্ধি পায়।
নিজের মধ্যে এই লক্ষণগুলো দেখতে পেলে আল্লাহর অশেষ শুকরিয়া আদায় করা উচিত। একই সাথে কোনো আমল যেন রিয়া বা অহংকারের কারণে নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থেকে সর্বদা আল্লাহর কাছে আমল কবুলের আকুতি জানানো প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য।
ভোরের আকাশ/জেআ