২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে যা যা করতে হবে

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিন কার্ডধারী) হিসেবে বসবাসকারীদের জন্য মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তবে নাগরিকত্ব পেতে হলে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণের পাশাপাশি কয়েকটি বাধ্যতামূলক ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করতে হয়। আবেদন থেকে শপথ গ্রহণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি নির্দিষ্ট নিয়মে সম্পন্ন হয়।
যোগ্যতা কী?
নাগরিকত্বের জন্য আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। সাধারণ নিয়মে গ্রিন কার্ডধারী হিসেবে অন্তত পাঁচ বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতে হয়।
এ ছাড়া আবেদনকারীকে নির্ধারিত সময় যুক্তরাষ্ট্রে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকতে হবে। পাঁচ বছরের ক্ষেত্রে অন্তত ৩০ মাস এবং তিন বছরের ক্ষেত্রে অন্তত ১৮ মাস যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের শর্ত রয়েছে। পাশাপাশি যে অঙ্গরাজ্য থেকে আবেদন করবেন সেখানে কমপক্ষে তিন মাস বসবাস, সুনাগরিক হিসেবে গ্রহণযোগ্য আচরণ এবং নিয়মিত কর পরিশোধের রেকর্ড থাকতে হবে।
আবেদন ও ফি
যোগ্যতা পূরণ হলে নাগরিকত্বের আবেদনপত্র অনলাইনে বা ডাকযোগে জমা দিতে হয়। আবেদনপত্রের সঙ্গে গ্রিন কার্ডের কপি, প্রয়োজনীয় বৈবাহিক নথি, ভ্রমণের তথ্যসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যুক্ত করতে হয়।
২০২৬ সালের নির্ধারিত ফি অনুযায়ী, অনলাইনে আবেদন করলে খরচ ৭১০ ডলার এবং কাগজে আবেদন করলে ৭৬০ ডলার। এই ফি-এর মধ্যেই বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বায়োমেট্রিক ও সাক্ষাৎকার
আবেদন গ্রহণের পর নির্ধারিত সময়ে আবেদনকারীকে আঙুলের ছাপ, ছবি ও স্বাক্ষর দিতে হয়। এরপর নাগরিকত্বের সাক্ষাৎকারে আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্য, ভ্রমণের ইতিহাস, কর্মজীবন, বৈবাহিক অবস্থা এবং কর পরিশোধের তথ্য যাচাই করা হয়।
ইংরেজি ও নাগরিকত্ব পরীক্ষা
সাক্ষাৎকারের পাশাপাশি আবেদনকারীকে ইংরেজি ভাষা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস ও সরকারব্যবস্থা সম্পর্কিত পরীক্ষা দিতে হয়। বর্তমানে নির্ধারিত প্রশ্নভান্ডার থেকে সর্বোচ্চ ২০টি প্রশ্ন করা হয়, যার মধ্যে অন্তত ১২টির সঠিক উত্তর দিতে হয়। তবে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী এবং দীর্ঘদিনের স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য কিছু বিশেষ সুবিধা রয়েছে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
সব ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ আবেদন অনুমোদন, স্থগিত বা বাতিল—যেকোনো একটি সিদ্ধান্ত জানায়। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে অথবা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে পুনরায় সুযোগ দেওয়া হয়। আবেদন বাতিল হলেও নির্ধারিত নিয়মে পুনর্বিবেচনার আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।
শপথ গ্রহণই শেষ ধাপ
নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ হলো আনুগত্যের শপথ গ্রহণ। শপথ গ্রহণের আগে কেউ মার্কিন নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পান না। অনুষ্ঠানে গ্রিন কার্ড জমা দিয়ে শপথ পাঠের পর আবেদনকারীকে নাগরিকত্বের সনদ প্রদান করা হয়।
এই সনদ পাওয়ার পর তিনি মার্কিন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন এবং ভোটাধিকারসহ একজন পূর্ণাঙ্গ মার্কিন নাগরিক হিসেবে সাংবিধানিক অধিকার ভোগ করতে পারবেন।
ভোরের আকাশ/এনএ