শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

চূড়ান্ত অনুমোদন দিল বাংলাদেশ

গুম প্রতিরোধে ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন’

মো. রেজাউর রহিম

প্রকাশ : ৭ নভেম্বর ২০২৫, ১১:১৩ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দেশে আর নতুন করে ফ্যাসিবাদ যাতে কায়েম না হয়, মানুষের মানবিক, নাগরিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার কোনো সরকার বা কোনো গোষ্ঠী যাতে হরণ করতে না পারে- সেজন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক হত্যা-নির্যাতন, খুন, গুম প্রতিরোধে এ সংক্রান্ত একটি ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন’ রয়েছে, যা ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর দি প্রটেকশন অব অল পারসনস ফ্রম এনফোরস ডিসএপিয়ারেন্স’ নামে পরিচিত।

জাতিসংঘ এবং বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন’ আগেই অনুমোদন করেছে। বাংলাদেশও এখন থেকে এ কনভেনশনের অংশীদার হয়েছে। এটা বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী’ আইন। এ কনভেনশনের আলোকে বাংলাদেশে রাজনৈতিক কারণে গুম ও খুনের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে অধ্যাদেশের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

আর বাংলাদেশে গত বছরের ৫ আগস্টে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার পতনের পর নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্কর্তীকালীন সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর জনগণের আকাঙ্ক্ষা ছিল এমন আইন প্রণয়ন হোক, যাতে কোনো সরকার বা গোষ্ঠী, কোনো সরকারি বা রাষ্ট্রীয় বাহিনী যেন ‘দানবীয় আকার’ ধারণ করে গণমানুষের অধিকার হরণ করতে না পারে।

এ প্রেক্ষিতে গত বছরেরই ২৯ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ এ বিষয়ের অনুমোদন দিয়েছিল। তবে এবার এ বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদে চুড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার পাশাপাশি এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ অর্থাৎ আইন জারি করা হলো।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর দি প্রটেকশন অব অল পারসনস ফ্রম এনফোরস ডিসএপিয়ারেন্স’ আন্তর্জাতিক অংশীদারের এই কনভেনশনকে অনুসরণ করে এই ঐতিহাসিক অধ্যাদেশটি তৈরি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ এখন থেকে আন্তর্জাতিক এ কনভেনশনের অংশীদার।  এটা বাংলাদেশের একটি ‘ঐতিহাসিক এবং যুগান্তকারী’ আইন হিসেবে বিবেচিত হবে।

এর ফলে বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিস্ট বা স্বৈরাচারী সরকার ক্ষমতায় বসে ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা কোনো রাজনৈতিক সন্ত্রাস ও গুম খুনের ‘রাজত্ব কায়েম’ বা চালাতে পারবে না। রাষ্ট্রীয় মদদে মানুষের ওপর নির্যাতন ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে পারবে না।

এছাড়া আর যাতে দেশে নতুন করে কোনো ‘আয়নাঘর’ বা ‘নির্যাতন কেন্দ্র’ চালু না হয় সেজন্যই এই যুগান্তকারী আইন তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া,  এ আইনে গুম-খুন প্রতিরোধ ও প্রতিকার এবং মানুষের অধিকার সুরক্ষার উদ্দেশ্যে তহবিল গঠন এবং তথ্যভাণ্ডার প্রতিষ্ঠার বিধানও সংযোজিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া এই অধ্যাদেশে গুম  প্রতিরোধ ও প্রতিকারের লক্ষ্যে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের ১২০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্নেরও বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। আর  ভুক্তভোগী-সাক্ষীর অধিকার সুরক্ষা, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং আইনগত সহায়তার নিশ্চয়তা প্রদান সংক্রান্ত বিধানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ‘গুম-খুন প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ’ এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।  

এ আইনে ‘গুম’ করার অপরাধে মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর সাজার বিধান রাখা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে এক  সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।

প্রেস সচিব বলেন, ‘গুম প্রতিরোধ এবং প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ২০২৫’-এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর আগে গুম প্রতিরোধ এবং প্রতিকারের জন্য একটা আইন নিয়ে অনেকদিন ধরে দেশে নানা বিতর্ক ও আলোচনা হয়েছে।

এরপর উপদেষ্টা পরিষদ এ আইনটির চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন। জারি করা এই অধ্যাদেশে ‘গুম’কে সংজ্ঞায়নের পাশাপাশি চলমান অপরাধ, কন্টিনিউ অফেন্স হিসেবে বিবেচনা করে মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গোপন আটক কেন্দ্র স্থাপন, যা ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত, তা ব্যবহার শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গুম সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত কমিশনকে গুম সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট শাসনামলের সময় বাংলাদেশে হাজার-হাজার ছেলেমেয়ে গুম হয়েছে। তার মধ্যে গুমবিষয়ক যে কমিশন করা হয়েছে, সেখানে অভিযোগের সংখ্যা প্রায় দুই হাজার এবং ওই কমিশনে যারা সদস্য আছেন, তারা তাদের রিপোর্টে বারবার বলছেন যে, এটার সংখ্যা ৪০০-এর ওপরে হবে। আর শেখ হাসিনার আমলে দেশে শতশত ‘আয়নাঘর’ ছিল, সেখানে এদেরকে রাখা হতো। অনেকে যারা গুম হয়েছেন, তাদেও কেউ কেউ ফিরে এসেছেন, আবার অনেকে ফিরে আসেননি। বিএনপি’সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অনেক কর্মী এখনো ফিরে আসেননি অথবা ‘নিঁখোজ’ রয়েছেন।

দলগুলো সিদ্ধান্তে না এলে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে
প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলো সিদ্ধান্ত না নিলে অন্তর্বর্তী সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।গতকাল বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলো সাড়া না দিলে সরকার কী করবে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো সিদ্ধান্ত না নিলে অন্তর্বর্তী সরকার নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে। কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সে বিষয়ে প্রস্তুতিমূলক অনেক মিটিং হচ্ছে। তবে আমরা আশা করব, পলিটিক্যাল পার্টিগুলো নিজেরা-নিজেরাই আলাপ-আলোচনা করে একটা সিদ্ধান্তে আসবে।

প্রেস সচিব আরো বলেন, গোটা জাতি এখন নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছে। নির্বাচনের স্টেজ তৈরি হয়েছে। জাতি যেন খুব দ্রুত নির্বাচনী প্রচারণায় নামতে পারে, সে ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলো সিদ্ধান্ত নেবে।

শফিকুল আলম বলেন, আইন উপদেষ্টা রাজনৈতিক দলগুলোকে এক সপ্তাহের মধ্যে নিজেরা বসে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলেছিলেন। আর তা না হলে সরকার  নিজেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে-এমন কথা বলেছেন।

জাতীয় লজিস্টিক নীতির খসড়া এবং চূড়ান্ত অনুমোদন
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ‘জাতীয় লজিস্টিক নীতি’র খসড়া এবং চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রেস সচিব বলেন, এছাড়া উপদেষ্টা পরিষদে বৈঠকে আনঅফিসিয়ালি কিছু ডিসকাশনও হয়েছে। বৈঠকে ‘জাতীয় নগরনীতি’ নিয়ে আলাপ হলেও এই বিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত আসেনি।

ভোরের আকাশ/এসএইচ

গুম প্রতিরোধ

শেয়ার করুন: