শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

দুর্নীতি-মাদক নির্মূলে কঠোর সরকার

মাজাহারুল ইসলাম

প্রকাশ : ৮ মে ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে চাঁদাবাজ, দখলবাজ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে এবং দীর্ঘদিনের বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করতে সরকারের পক্ষ থেকে 'জিরো টলারেন্স' নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনেরও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের নির্মূল করা বর্তমান সর অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এর মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই মূল লক্ষ্য। সদ্য শেষ হওয়া ডিসি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জেলা প্রশাসকদের যেসব নিদের্শনা দিয়েছেন, সেখানেও তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষ বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার জন্য দেশের মাঠ প্রশাসনকে (জেলা প্রশাসক) নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের সব সরকারি দপ্তরে সেবাপ্রত্যাশীরা যাতে হয়রানির শিকার না হন এবং দুর্নীতি-চাঁদাবাজি পুরোপুরি বন্ধ হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে মাদক ব্যবসায়ী এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ, দলমত নির্বিশেষে অপরাধীদের ছাড় না দেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রশাসনকে সেবামুখী ও জনবান্ধব করার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মানুষের আস্থা রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাই ডিসিদের সাধারণ মানুষের কল্যাণে নিরপেক্ষ ও নির্ভয়ে কাজ করতে হবে। কাজেই জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট অপরাধ যেমন-খাদ্যে ভেজাল, বাল্যবিবাহ, নারীর প্রতি সহিংসতা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম আরও কার্যকর ও দৃশ্যমান করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া, সরকারি দপ্তরগুলোতে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি নির্মূলেও সরকার বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিগত সময়ে দুর্নীতির মাধ্যমে যারা বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হয়েছে, তাদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জনগণের ট্যাক্সের টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। কোনো আমলা বা প্রভাবশালী ব্যক্তি দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই কঠোর অবস্থান সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সাহায্য করবে। জনগণের প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষ যে সুশাসনের স্বপ্ন দেখে আসছিল, বর্তমান সরকারের এই পদক্ষেপগুলো তাকে বাস্তবে রূপ দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে কেবল ঘোষণা নয়, এর সঠিক বাস্তবায়নই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, চাঁদাবাজি, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে আমরা যৌথ অভিযান চালাচ্ছি। গত ১ মে থেকে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান শুরু করেছে। যেকোনো মূল্যে দেশকে দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত করা হবে। এ নিয়ে যে দুর্নাম রয়েছে তা থেকে এবার উত্তরণের চিন্তা সরকারের।

সূত্রে জানা যায়, সরকারের গ্রিন সিগন্যাল পেয়েই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি করে অভিযান শুরু করেছে। ইতোমধ্যে সারা দেশে চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের তালিকা হালনাগাদ করে 'অলআউট' এরপর অ্যাকশনে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাজধানীতে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সাঁড়াশি অভিযানে গত মঙ্গলবারও ১৭৩ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তাদের মধ্যে তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ রয়েছে ৩৫ জন। তালিকার বাইরে ৪৮ জনকে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী ও ডাকাতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৬৪ জনকে। ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী ১ মে থেকে শুরু হওয়া অভিযানে পাঁচ দিনে ৫৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. সরওয়ার বলেছেন, তদবিরে কোনো চাঁদাবাজকে ছাড়া হবে না। তালিকা তৈরি করা হয়েছে, সে অনুযায়ী গ্রেপ্তার অভিযান চলবে। এখানে চাঁদাবাজদের অন্য কোনো পরিচয় দেখা হবে না।

তিনি বলেন, চাঁদাবাজসহ অপরাধীদের ছাড়াতে কেউ তদবির করলে ধরে নেওয়া হবে সেও চক্রের সঙ্গে জড়িত। চাঁদাবাজ যে-ই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ব্যাপারে পুলিশ কঠোর অবস্থানে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেশের সবকটি মহানগর এলাকা, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলার পুলিশ সুপার ও অন্যান্য ইউনিটকে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আইনের আওতায় আনার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চাঁদাবাজির মামলাগুলোর তদন্ত দ্রুত শেষ করতেও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

হান্টাভাইরাস নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা

পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, চাঁদাবাজদের বিষয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে 'জিরো টলারেন্স' (শূন্য সহনশীলতা) নীতি কঠোরভাবে পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে- চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসী সে যে দলেরই হোক, যত বড় নেতাই হোক না কেন, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

চাঁদাবাজদের নিয়ে র‍্যাবের তৈরি করা এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারা দেশে চাঁদাবাজদের গডফাদার রয়েছে ৬৫০ জন। এসব গডফাদারের অধিকাংশেরই রয়েছে রাজনৈতিক পরিচয়, যা তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এছাড়া চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ৬৪ জেলার প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করেছে পুলিশ। এই তালিকায় প্রায় চার হাজার চাঁদাবাজের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে অভিযানে নতুন নতুন নাম আসছে।

ভোরের আকাশ/নি

সরকার

শেয়ার করুন: