‘এক মিনিট পরিবেশ চলচ্চিত্র’ উৎসবে বেস্ট মেকআপ পুরস্কার জিতল ‘নেচার ব্লিডস’

মাত্র ৬০ সেকেন্ডের একটি চলচ্চিত্র। কিন্তু সেই স্বল্প সময়েই পরিবেশ ধ্বংসের নির্মম বাস্তবতা, জলবায়ু সংকটের ভয়াবহতা এবং মানুষের দায়িত্ববোধের প্রশ্নকে শক্তিশালীভাবে তুলে ধরেছে ‘নেচার ব্লিডস’। আর সেই সৃজনশীল উপস্থাপনাই এনে দিয়েছে স্বীকৃতি। ‘১ মিনিট পরিবেশ চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৬’-এ ‘বেস্ট মেকআপ আর্টিস্ট’ বিভাগে পুরস্কার জিতেছে তরুণ নির্মাতা পুলক রাজের এই চলচ্চিত্র।
সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ব্যতিক্রমধর্মী এই পরিবেশ চলচ্চিত্র উৎসব। পরিবেশ ও জলবায়ু সংকটভিত্তিক এক মিনিট দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র নিয়ে আয়োজিত এ উৎসবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তরুণ নির্মাতারা অংশ নেন।
উৎসবে ‘টঙ্কার’ ব্যানারে নির্মিত পুলক রাজের দুটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র—‘নেচার ব্লিডস’ ও ‘সাইলেন্ট নো মোর’—প্রদর্শিত হয়। এর মধ্যে ‘নেচার ব্লিডস’ দর্শক ও বিচারকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। পরিবেশ বিপর্যয়ের প্রতীকী উপস্থাপনা, মেকআপের সৃজনশীল ব্যবহার এবং শক্তিশালী ভিজ্যুয়াল ভাষার জন্য চলচ্চিত্রটি জুরি বোর্ডের প্রশংসা অর্জন করে। এরই ধারাবাহিকতায় ‘বেস্ট মেকআপ আর্টিস্ট’ সম্মানে ভূষিত হয় নির্মাতা দল।
পুরস্কার গ্রহণের পর অনুভূতি প্রকাশ করে পুলক রাজ বলেন, “আমরা চেয়েছি খুব অল্প সময়ে এমন একটি বার্তা পৌঁছে দিতে, যা দর্শকদের ভাবতে বাধ্য করবে। পরিবেশ সংকট আজ বৈশ্বিক বাস্তবতা। সেই বাস্তবতাকে শিল্পের ভাষায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। এই সম্মান পুরো টিমের সম্মিলিত পরিশ্রমের স্বীকৃতি।”
তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের উৎসব তরুণ নির্মাতাদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। পরিবেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কাজ করার সাহস ও দায়িত্ববোধ আরও বাড়িয়ে দেয় এমন স্বীকৃতি।”
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ‘ঢেঁকি প্রযোজনা’র পরিচালক মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, তরুণদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ আয়োজন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক-প্রশিক্ষক আমির হামজা, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়ার গ্রিন ফিল্ম অ্যাম্বাসেডর আকতানিন খায়ের তানিন এবং জুরি সদস্য অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ। পরে বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ী চলচ্চিত্র ও নির্মাতাদের মধ্যে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
আয়োজকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে তরুণদের সৃজনশীলতার মাধ্যমে মানুষের সামনে তুলে ধরাই এ উৎসবের মূল লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে পুলক রাজের মতো তরুণ নির্মাতাদের কাজ নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা